ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ফোনকলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সেই হুমকির ৩৭ সেকেন্ডের একটি অডিও প্রকাশ করেন তিনি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও ক্লিপটি ইতোমধ্যে অসংখ্যবার শেয়ার হয়েছে। সেখানে শোনা যায়, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে পরীমণিকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। কণ্ঠস্বরটি রুক্ষ, আক্রমণাত্মক এবং সুস্পষ্টভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দেওয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। অডিওতে ব্যক্তিটি নিজের পরিচয় প্রকাশ না করলেও, কথাবার্তায় স্পষ্ট অপরাধপ্রবণ মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পরীমণি অডিওটি প্রকাশের সময় ফেসবুকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। হুমকির এই ফোনকল তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার দাবি জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

চলচ্চিত্রাঙ্গনে পরীমণি বরাবরই আলোচিত ও সমালোচিত একটি নাম। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত নানা ইস্যুতে তিনি প্রায়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। তবে সরাসরি হত্যার হুমকি পাওয়ার ঘটনা দেশের বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে নারী শিল্পীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের হুমকি উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার যেমন তারকাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে, তেমনি তাদের ঝুঁকির মাত্রাও বাড়িয়েছে বহুগুণ। অনলাইন ও অফলাইনে পরিচয় গোপন রেখে হুমকি দেওয়া এখন তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনকলে হত্যার হুমকি ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। প্রমাণ হিসেবে অডিও ক্লিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভুক্তভোগী যদি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করেন, তবে কল ট্র্যাকিং ও কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব।

এদিকে বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই পরীমণির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী শিল্পী ও ভক্তরা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন এবং হুমকিদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছেন।

সারাদেশে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের প্রতি জনসমর্থনের ঢেউ দেখে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন বন্ধ বা ব্যাহত করার চেষ্টা হলে তার উপযুক্ত ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা।

দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নীলফামারীর ঐতিহাসিক বড় মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় জমে ওঠে। মঞ্চে উঠে তারেক রহমান বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করছে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তাঁর ভাষায়, এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখেই একটি গোষ্ঠী ভয় পেয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তবে বিএনপি ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অতীতেও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। কখনো ভয়ভীতি, কখনো প্রশাসনিক বাধা, আবার কখনো অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভোট মানুষের অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে জনগণই তার জবাব দেবে।” তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ফলে মানুষ আজ দিশেহারা। এই বাস্তবতায় ধানের শীষের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে। তাঁর মতে, এই সমর্থনই কিছু মহলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, কৃষি ও শ্রমনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সেচ সংকট ও বেকারত্ব এখানকার নিত্যদিনের সমস্যা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে—এমন আশ্বাসও দেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই বক্তব্য বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে দলীয় অবস্থানও স্পষ্ট করা হলো। তবে সহিংসতা নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটের মাধ্যমেই পরিবর্তনের আহ্বান—এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। তাঁরা বলেন, নীলফামারীসহ সারাদেশে বিএনপির গণসংযোগে অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের টাকা যারা লুট করেছে, তারা দুনিয়ার যেখানেই থাকুক শান্তিতে থাকতে পারবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।

দুপুর সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অর্থ ফেরত দেওয়া নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। তাঁর ভাষায়, যারা স্বেচ্ছায় জনগণের টাকা ফিরিয়ে দেবে, তারা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য হবে। তবে যারা তা করবে না, রাষ্ট্র ইনশাআল্লাহ তাদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না—এমন স্পষ্ট উচ্চারণ ছিল তাঁর বক্তব্যে।

নির্বাচনি জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারকে দেশের দীর্ঘদিনের সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে জনগণের ঘামঝরা অর্থ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো খাতে বিনিয়োগ না হয়ে সেই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসে ব্যয় হয়েছে—এ অভিযোগও করেন তিনি।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ধর্মীয় ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা শুধু আইনের দৃষ্টিতেই অপরাধ নয়, এটি নৈতিকভাবেও গুরুতর অন্যায়। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার অসম্ভব নয়।

সভায় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই জামায়াতে ইসলামীর মূল অঙ্গীকার। এজন্য দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছ অর্থনীতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জামায়াত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাচ্ছে। এতে একদিকে সমর্থকদের মধ্যে দৃঢ় বার্তা যাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

জনসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, সিলেটসহ সারাদেশে জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের জন্য দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন। সভাস্থলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি দেখা যায়, যা নির্বাচনি মাঠে দলটির সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

ফাইনাল শেষে পুরস্কার মঞ্চে উঠেছিলেন বাংলাদেশের আলপি আক্তার—হাতে উঠেছে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল, কিন্তু মুখে ছিল না বিজয়ের হাসি। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলেও ফাইনালে গোল না পাওয়া এবং দলের পরাজয়ই যেন এই কিশোরী স্ট্রাইকারের সাফল্যকে ঢেকে দিল হতাশার ছায়ায়।

পুরো টুর্নামেন্টে আলপি আক্তার ছিলেন বাংলাদেশের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। পঞ্চগড়ের এই কিশোরী স্ট্রাইকারের পায়ের কারুকাজ, গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ভর করেই বাংলাদেশ একের পর এক বাধা পেরিয়ে উঠেছিল ফাইনালে। দুটি হ্যাটট্রিকসহ মোট সাত গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বাধিক গোলদাতা হন। স্বাভাবিকভাবেই গোল্ডেন বুট ছিল তাঁরই প্রাপ্য। পাশাপাশি ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার—গোল্ডেন বল।

তবে ফাইনালের গল্পটা আলাদা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিপক্ষের সংগঠিত রক্ষণ ও কৌশলী খেলায় আটকে যায় বাংলাদেশের আক্রমণ। আলপি চেষ্টা করেছেন বারবার, দৌড়েছেন শেষ বাঁশি পর্যন্ত, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাননি। দলের পরাজয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে শিরোপা জয়ের। তাই ব্যক্তিগত দুই পুরস্কার হাতে নিয়েও তাঁর চোখেমুখে ফুটে উঠেছে অপূর্ণতার বেদনা।

এই হতাশার মধ্যেও আলপির টুর্নামেন্টজুড়ে পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট—প্রতিটি ম্যাচেই তিনি ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। কখনো একক নৈপুণ্যে, কখনো দলগত আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে গোল করেছেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। কোচিং স্টাফদের মতে, বয়সের তুলনায় তাঁর ম্যাচ রিডিং ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বেশ পরিণত।

আলপির উত্থান শুধু একটি টুর্নামেন্টের গল্প নয়, এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সম্ভাবনারও প্রতিচ্ছবি। প্রত্যন্ত পঞ্চগড় থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলো ছড়ানো—এই পথচলা অনেক কিশোরীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ফুটবল বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে আলপি ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন।

ফাইনাল শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আলপি বলেন, দলের হারটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে কষ্টের। ব্যক্তিগত পুরস্কার গর্বের হলেও শিরোপা না জিততে পারার আক্ষেপ কাটছে না। তাঁর কণ্ঠে ছিল পরিণত মানসিকতার ইঙ্গিত—ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলগত অর্জনই যে তাঁর কাছে বড়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকাসহ সারাদেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্যবিতান ও শপিংমল আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতি পাঁচ বছর পরপর দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাময়িক স্থবিরতা নতুন কিছু নয়। তবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে একযোগে দুই দিনের বাণিজ্যিক বন্ধের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, ভোটারদের চলাচল সহজ করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনের আগের দিন ও ভোটের দিন দোকানপাট খোলা থাকলে যানজট, জনসমাগম এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শপিংমল ও বড় মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এসব বিবেচনায় সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দোকানপাট বন্ধ রাখার আহ্বান জানায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্তকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, “দুই দিন দোকান বন্ধ থাকলে ক্ষতি তো হবেই, কিন্তু নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে সেটাই সবার জন্য ভালো।” একই মত দিয়েছেন গুলিস্তান ও মিরপুর এলাকার একাধিক দোকান মালিক।

অন্যদিকে ভোক্তাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই আগেভাগেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ পড়তে পারে বাজারে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, বন্ধের আগের দিনগুলোতে বিক্রি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, যা আংশিকভাবে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটের দিন সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। দোকানপাট বন্ধ থাকায় ভোটারদের কেন্দ্রে যাতায়াত সহজ হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ আরও নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেদারল্যান্ডসের আবাসিক এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই এক অদ্ভুত কিন্তু পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে—জানালার ভেতর আলো জ্বলছে, আর বাইরে থেকেই দেখা যাচ্ছে বসার ঘর, সোফা, ল্যাম্প, ডাইনিং টেবিল কিংবা পরিবারের একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার মুহূর্ত। ভিনদেশি দর্শনার্থীদের কাছে এই দৃশ্য অনেক সময় বিস্ময়কর, কখনো অস্বস্তিকরও মনে হয়। কিন্তু ডাচ সমাজে এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়; বরং দীর্ঘদিনের একটি সাংস্কৃতিক অভ্যাস।

বিশ্বের বহু দেশে সন্ধ্যার পর জানালার পর্দা টেনে দেওয়া গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার প্রতীক। অথচ নেদারল্যান্ডসে দিনের বেলাতেও অসংখ্য বাড়িতে জানালা পর্দাহীন থাকে। শহর হোক বা গ্রাম—আবাসিক এলাকাজুড়ে এই খোলা জানালার সংস্কৃতি কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসছে। প্রশ্ন হলো, কেন ডাচরা এতটা ‘খোলা’ থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কাজ করছে ইতিহাস, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক মানসিকতা এবং বাস্তবিক কিছু কারণ। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৬শ ও ১৭শ শতকে প্রোটেস্ট্যান্ট নৈতিকতার প্রভাব ডাচ সমাজে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় থেকে একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়—“আমার লুকানোর কিছু নেই।” খোলা জানালা ছিল সৎ জীবনযাপনের প্রতীক, যা প্রতিবেশী ও সমাজের কাছে স্বচ্ছতার বার্তা দিত।

ডাচ সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ধারণা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভিন্ন। সেখানে ব্যক্তিগত জীবন মানে নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও স্বাধীনতা, কিন্তু সেটিকে আড়াল করে রাখাই একমাত্র পথ—এমন বিশ্বাস প্রচলিত নয়। বরং সামাজিক আস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রতিবেশীরা একে অন্যকে বিশ্বাস করেন, এবং বাইরে থেকে ঘরের ভেতর দেখা যাওয়া মানেই ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘন—এমন ভাবনা সেখানে ততটা শক্ত নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো আলোর ব্যবহার। নেদারল্যান্ডসের আবহাওয়া বছরের বড় একটি অংশে মেঘাচ্ছন্ন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। স্বাভাবিক আলো ঘরে ঢোকানো তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্দাহীন জানালা ঘরকে উজ্জ্বল রাখে, মানসিক স্বস্তি বাড়ায় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপরও প্রভাব ফেলে। শহর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যেও বড় জানালা ও খোলা নকশার প্রচলন এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে।

নিরাপত্তার প্রশ্নও এখানে ভিন্নভাবে দেখা হয়। অনেক ডাচ নাগরিক মনে করেন, খোলা জানালা আসলে নিরাপত্তারই একটি রূপ। বাইরে থেকে ঘরের ভেতর দেখা গেলে সন্দেহজনক কিছু লুকানো কঠিন হয়, যা অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। পুলিশ ও সমাজবিজ্ঞানীদের একটি অংশও মনে করেন, সামাজিক স্বচ্ছতা অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে রাষ্ট্র কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা হবে, উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি করা হবে এবং সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তনসহ বিরোধী দল ও নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহির ঘাটতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই তাদের লক্ষ্য। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদ নির্ধারণের ফলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের প্রবণতা কমবে এবং নেতৃত্বে নিয়মিত পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ইশতেহারের অন্যতম আলোচিত প্রস্তাব হলো উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি। বিএনপি নেতারা বলছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা এবং সংকটকালে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষায় উপ-রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ কমানো এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণেও এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছে দলটি।

সংসদের কাঠামো নিয়েও বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে বিএনপির ইশতেহারে। বর্তমান একক কক্ষবিশিষ্ট সংসদের পাশাপাশি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। তাদের মতে, উচ্চকক্ষ আইন প্রণয়নে পুনর্বিবেচনা ও অভিজ্ঞ মতামতের সুযোগ তৈরি করবে, যা হঠকারী সিদ্ধান্ত কমাতে সহায়ক হবে। এই উচ্চকক্ষে নারীদের অন্তত ২০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেছে বিএনপি।

এ ছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে বিরোধী দলের ভূমিকা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। এর অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দল থেকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, এতে সংসদে ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং গঠনমূলক বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই প্রস্তাবগুলো মূলত ক্ষমতার চর্চায় ভারসাম্য আনার একটি রূপরেখা। দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উদাহরণ রয়েছে। তবে এসব সংস্কার বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন হবে, যা রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সহজ নয়।

বিএনপির নেতারা বলছেন, এসব সংস্কার কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর সংসদে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা যাবে।

ভোটাধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা অনিয়মের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল বা ভোটদানে বাধা সৃষ্টি হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় মামলা হলে তার দায় নিজে নিতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জনসভায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ভোট মানুষের মৌলিক অধিকার এবং এ অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য বিপজ্জনক। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে নানা কৌশলে ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে। “ভোটকেন্দ্রে পেশিশক্তি ঢুকিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো হলে, সেটার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নাগরিক দায়িত্ব,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন কোনো দলের একক বিষয় নয়; এটি সব রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো শক্তিই ভোট ডাকাতি বা কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা সফল করতে পারবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জনসভায় জামায়াত আমির নির্বাচনকালীন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মামলা হলে দায় নিজের ওপর নেওয়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন কোনো অপরাধ নয়। “ন্যায়সঙ্গত দাবির জন্য যদি আমাকে আইনি ঝুঁকি নিতে হয়, আমি প্রস্তুত,”—বলে তিনি নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের অন্যান্য নেতারাও জনসভায় বক্তব্য দেন। তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। জনসভা থেকে ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের সচেতন করার কর্মসূচি জোরদারের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু ভোটের প্রশ্নটি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিভিন্ন দলের বক্তব্য ও কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ আরও সরব হতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

শুক্রবার দুপুর থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিকেল নাগাদ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। সেখান থেকে তারা যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে শতাধিক নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে আগে থেকেই মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে রাখে পুলিশ। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পথচারী ও যানবাহনের চালক নিরাপদ স্থানে সরে যান। ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পরে বাংলামোটর মোড়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যদিও পুলিশ পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অযৌক্তিকভাবে বাধা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, “একটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো কোনো অপরাধ হতে পারে না। আমাদের দাবি আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা।” তারা আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, রাজধানীর নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তাদের ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনুমতি ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে।

চুয়াল্লিশতম বিসিএসে উত্তীর্ণ এক হাজার ৪৯০ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের প্রায় সাত মাস পর এই নিয়োগ কার্যকর হলো, যা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ অধিশাখা থেকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নিয়োগসংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। পরদিন শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিএসসি থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ক্যাডারভিত্তিক পদায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

৪৪তম বিসিএস ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম আলোচিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণ, দীর্ঘ পরীক্ষাক্রম এবং ফল প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব—সব মিলিয়ে এ বিসিএস নিয়ে আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা ছিল তুঙ্গে। বিশেষ করে প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র ও অন্যান্য সাধারণ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে দ্রুত নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়োগ আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সরকারের জনবল ঘাটতি পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন কর্মকর্তাদের যোগদানের ফলে প্রশাসনিক গতি বাড়বে এবং সেবা প্রদান আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশ সাধারণ ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হলেও টেকনিক্যাল ও পেশাগত ক্যাডারেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন প্রজন্মের বিসিএস কর্মকর্তারা প্রশাসনে নতুন উদ্যম ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসবেন।

এদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদেশ প্রকাশ হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নিয়োগ আদেশকে ‘ধৈর্যের পুরস্কার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ আবার ভবিষ্যতে যেন সুপারিশ ও নিয়োগের মধ্যকার সময়সীমা কমানো হয়, সে দাবিও তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় নিয়োগ প্রক্রিয়া যত দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে, ততই মেধাবীরা সরকারি চাকরিতে আগ্রহী হবেন। দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ডিজিটাল ফাইলিং, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।