ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম পার হয়ে গেছে। তবে নিজেদের অবস্থানে একচুলও নড়চড় করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল স্পষ্টভাবে ‘না’ জানানোর পর আজ শুক্রবার আইসিসির ‘স্বাধীন ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি’র (ডিআরসি) দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে পুনরায় পাঠানো এক চিঠিতে বিসিবি অনুরোধ করেছে, এই জটিলতা নিরসনে যেন স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে বিসিবি স্পষ্ট করে দিল, আইসিসির প্রশাসনিক চাপ উপেক্ষা করে তারা এখন আইনি ও নীতিগত লড়াইয়ের পথে হাটছে।
চলতি মাসের শুরু থেকেই ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল বিসিবি। বিশেষ করে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার পর থেকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না বোর্ড ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আইসিসি গত বুধবার জানিয়েছিল, বাংলাদেশকে খেললে ভারতেই খেলতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়।
সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর গতকাল যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ক্রিকেটারদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন, “নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস হবে না। বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না।” ক্রিকেটাররাও অভিভাবক হিসেবে বোর্ড ও সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
আইসিসি প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশের দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর বিসিবি এখন ‘ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি’ বা ডিআরসি-র কাছে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে। এই কমিটি সাধারণত আইসিসির অভ্যন্তরে কোনো সদস্য দেশ বা সংস্থার মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তা নিরপেক্ষভাবে বিচার করে।
বিসিবির যুক্তি হলো, এর আগে রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা কারণে অনেক দেশের ভেন্যু পরিবর্তন বা ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করা হয়েছে। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও দর্শকদের জন্য যে ঝুঁকি রয়েছে, তা এড়িয়ে গিয়ে আইসিসি একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ডিআরসি-র রায় আইসিসির জন্য বাধ্যতামূলক, তাই এখানে একটি ইতিবাচক সুরাহার আশা করছে বাংলাদেশ।


