আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির ওপর ভারতের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মধ্যেই কড়া বক্তব্য দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ভারতের চাপে যদি আইসিসি কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে তা মানা হবে না। ক্রিকেটের ন্যায্যতা, সার্বভৌম সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক শালীনতার প্রশ্নে এমন অবস্থান এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, আইসিসি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, কোনো একক দেশের ইচ্ছা বাস্তবায়নের যন্ত্র নয়। তাঁর ভাষায়, “ক্রিকেট বিশ্বকে যদি সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক রাখতে হয়, তবে সব দেশের জন্য একই নিয়ম ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। চাপের রাজনীতি চললে সেটি ক্রিকেটের মূল চেতনাকেই আঘাত করবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ভেন্যু, সূচি নির্ধারণ ও অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ভারতের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের আপত্তি বা স্বার্থের কারণে কিছু দেশকে বাড়তি শর্ত মানতে বাধ্য করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আসিফ নজরুল মনে করেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বৈষম্য তৈরি করবে এবং আইসিসির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের ক্রিকেট বোর্ড আর্থিকভাবে শক্তিশালী—এটি বাস্তবতা। তবে আর্থিক শক্তি মানেই নৈতিক কর্তৃত্ব নয়। “আজ যদি একটি দেশের চাপে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কাল অন্য দেশগুলোও নিজেদের স্বার্থে একই দাবি তুলবে। তখন আইসিসি একটি নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে টিকে থাকবে কীভাবে?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ নজরুলের বক্তব্য শুধু একজন ব্যক্তির মতামত নয়; এটি অনেক ছোট ও মাঝারি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রতিধ্বনি। তাঁরা মনে করছেন, সম্প্রচার স্বত্ব ও বাজারনির্ভর সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নষ্ট করছে। এতে খেলাটির জনপ্রিয়তা থাকলেও ন্যায্যতার প্রশ্নে ফাঁক তৈরি হচ্ছে।
ভারতের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না এলেও বিসিসিআই ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বরাবরের মতো নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরছে। তবে সমালোচকদের মতে, নিরাপত্তা বা ব্যবসার অজুহাতে যদি একতরফা শর্ত চাপানো হয়, তাহলে সেটি কূটনৈতিক চাপেরই আরেক রূপ।


