মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি ওই বক্তব্যের পর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিচারনীতির প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে।

সরকারি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় জানায়, বাংলাদেশের একটি বৈধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত একজন পলাতক আসামিকে বিদেশের মাটিতে প্রকাশ্য রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের রাজধানীতে এমন ঘটনা ঘটায় বিস্ময় আরও গভীর হয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং আজও দেশে ফিরে বিচার মোকাবিলা করেননি। এই প্রেক্ষাপটে তাঁকে বিদেশে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়াকে সরকার ন্যায়বিচারের প্রতি অবমাননাকর বলে মনে করছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়, বরং এর আন্তর্জাতিক প্রভাবও রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংযত আচরণ প্রত্যাশিত। একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হলেও আইনের চোখে তিনি একজন দণ্ডিত আসামি—এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। সরকার মনে করে, এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন, যদিও আইনি বাস্তবতা তার বিপরীত।

ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা না এলেও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। তাই এমন একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট যোগাযোগ ও ব্যাখ্যা জরুরি।

সরকার কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়, বরং অপরাধীদের জামিন প্রদানের বিরোধী—এমন স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কৃষি বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এই মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে যশোর কারাগারে বন্দি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়, যা সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, যিনি সেনাবাহিনীর সাবেক কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল, দেশের আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে যখন সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, এবং তাঁদের জামিন প্রাপ্তির চেষ্টা চলছে। উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য অপরাধ দমন, কোনো দলীয় পরিচয় নয়।

ব্রিফিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষি খাতের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা। কিন্তু সাংবাদিকরা যশোরের ঘটনায় প্রশ্ন তোলায় কথোপকথন আইনশৃঙ্খলার দিকে মোড় নেয়। জুয়েল হাসান সাদ্দাম, যিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে যশোর কারাগারে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলায় অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, অস্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী ও নয় মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তির দাবি উঠেছে। কিন্তু পুলিশ তাঁকে শুধু কারাগারের গেটে মৃতদেহ দেখার সুযোগ দিয়েছে, পুরোপুরি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এ ঘটনাকে ‘দমনমূলক নীতির উদাহরণ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাদ্দামকে ১১ মাস ধরে জেলে রাখা হয়েছে মিথ্যা মামলায়, এবং পরিবারের ট্রমার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের অভিযোগকে আরও জোরালো করে। তবে উপদেষ্টা চৌধুরী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—অপরাধী যেই হোক, জামিনের বিরুদ্ধে। তিনি কৃষি বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমি কৃষি ছাড়া অন্য কথা বলব না,’ কিন্তু সাংবাদিকদের জোরাজুরিতে মন্তব্য করেন।

এই মন্তব্যের পটভূমিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে। এরপর থেকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে ৫৩ হাজারেরও বেশি অপরাধী ও দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি নির্বাচনী নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ বলে দাবি করা হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছায়া পড়ছে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি সরকারের নিরপেক্ষতা প্রমাণের চেষ্টা। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আইনশৃঙ্খলায় কঠোরতার জন্য পরিচিত। কিন্তু যশোরের ঘটনা মানবিক দিক থেকে প্রশ্ন তুলেছে। সাদ্দামের ক্ষেত্রে ‘ডাবল জেওপার্ডি’র নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে একই অপরাধে একাধিকবার মামলা হয়েছে। এটি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সব জনকল্যাণমূলক সুবিধাকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে বা এক সুতায় নিয়ে আসা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর ভিন্ন ভিন্ন সেবার জন্য আলাদা জায়গায় ধরনা দিতে হবে না।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিদ্যমান সরকারি প্রকল্পের সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে সরকারের অনেক প্রজেক্ট বা প্রকল্প চালু আছে, কিন্তু সেগুলো অসংগঠিত। সাধারণ মানুষ জানতেই পারে না কোন সুবিধা কোথায় মিলবে। আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন করতে চাই, যার মাধ্যমে সব নাগরিক সুবিধা একটি কার্ডের ভেতরেই পাওয়া সম্ভব হবে। এটি হবে মূলত ডাটাবেজভিত্তিক একটি সিস্টেম, যেখানে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, এই কার্ডের প্রাথমিক সুবিধাভোগী হবেন পরিবারের নারী প্রধান বা মা-বোনেরা। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা (ভাতা) সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা অভাবের সময় সংসার পরিচালনায় স্বাবলম্বী হতে পারেন।

অনুষ্ঠানে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “পড়াশোনাকে শিশুদের কাছে ‘ফান’ বা আনন্দের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। শুধু বই মুখস্থ নয়, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিকে (Art & Culture) মূল কারিকুলামের অংশ করতে হবে। খেলাধুলাতেও পাস করতে হবে—এমন নিয়ম থাকলে তরুণ প্রজন্ম অনলাইন আসক্তি থেকে দূরে থাকবে।”

রাজধানীর চিরচেনা যানজট নিরসনে তিনি ‘স্যাটেলাইট টাউন’ বা উপশহর গড়ার ওপর জোর দেন। তার মতে, সব সুযোগ-সুবিধা এবং চাকরি ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। ঢাকার বাইরে উন্নত স্যাটেলাইট টাউন করে সেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সব ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া ব্যয়বহুল মেট্রোরেলের চেয়ে ‘মনোরেল’ নেটওয়ার্ক বিস্তারের মাধ্যমে ঢাকার সব অলিগলিকে প্রধান মেট্রো স্টেশনের সাথে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক চরম নাটকীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় নিল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতে গিয়ে খেলতে অনীহা প্রকাশ করায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ক্রিকবাজ’ দাবি করেছে, আসন্ন বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়ে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যদিও আইসিসি থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, তবে ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাইয়ের আইসিসি সদর দপ্তর থেকে ইতোমধ্যেই এডিনবরায় ‘ক্রিকেট স্কটল্যান্ড’-এর প্রধান কার্যালয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত ভারত সফরে বিসিবির নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপত্তির প্রেক্ষিতে আইসিসি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসিকে লেখা একটি চিঠিতে। যেখানে ভারতের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকির মুখে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। বিশেষ করে, আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবি ভারতের মাটিতে ম্যাচগুলো আয়োজনের বিরোধিতা করে ভেন্যু স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছিল। তবে আইসিসি সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয় এবং বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় আইসিসি শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডকে বেছে নেয়।

নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে কোনো দেশ অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে বা নাম প্রত্যাহার করে নিলে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা পরবর্তী সেরা দেশটিকে সুযোগ দেয়। স্কটল্যান্ড বর্তমানে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। রুপার এই আকাশছোঁয়া উত্থানের সমান্তরালে নিরাপদ বিনিয়োগের চিরচেনা আশ্রয় সোনার দামও এখন প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলার ছুঁইছুঁই। নতুন বছরের শুরুতেই মূল্যবান ধাতুর এই নজিরবিহীন উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক ও লণ্ডনের স্পট মার্কেটে লেনদেন চলাকালীন রুপার দাম এক লাফে ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে প্রতি ট্রয় আউন্স রুপার মূল্য দাঁড়ায় ১০১ দশমিক ২২ ডলারে। গত এক বছরে রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশের বেশি, যা পণ্য বাজারের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম উত্থান।

এদিকে, সোনার বাজারও রয়েছে টগবগে উত্তেজনায়। শুক্রবার লেনদেনের এক পর্যায়ে সোনার স্পট মূল্য আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৯৬৮ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই এটি ৫ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক বাধা পার করে ফেলবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ।

১. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি বিনিয়োগকারীদের বিচলিত করে তুলেছে। ন্যাটোর ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাপানে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা বাজারের অনিশ্চয়তাকে আরও উসকে দিয়েছে।

২. ডলারের দুর্বলতা ও সুদের হার: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং সুদের হার কমার প্রত্যাশা ডলারের মানকে দুর্বল করেছে। মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থ বা বন্ডের বদলে সোনা ও রুপার মতো ‘হার্ড অ্যাসেট’-এ বিনিয়োগ নিরাপদ মনে করছেন।

৩. রুপার শিল্প চাহিদা: কেবল বিনিয়োগ নয়, রুপার এই অভাবনীয় দাম বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে এর ক্রমবর্ধমান শিল্প ব্যবহার। সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্সে রুপার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় শিল্প মালিকরা আগেভাগেই মজুত বাড়াচ্ছেন।

বিনিয়োগ বিশ্লেষণী সংস্থাগুলোর মতে, এই ঊর্ধ্বগতি কেবল শুরু। গোল্ডম্যান স্যাকস ও জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, ২০২৬ সালে সোনা ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু বছরের প্রথম মাসেই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাওয়াটা বিস্ময়কর।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, মুদ্রাবাজারের ওপর আস্থা কমতে থাকায় মানুষ এখন বিকল্প মুদ্রার দিকে ঝুঁকছে। রুপার সরবরাহ ঘাটতি আগামী দিনগুলোতেও বজায় থাকবে, যা দামকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে। তবে বাজারের এই তীব্র গতিতে যেকোনো সময় সাময়িক ‘প্রফিট টেকিং’ বা দরপতন হতে পারে বলে ছোট বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি ঘোষণা করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ হবে এ দেশের মা-বোনদের সংসারের অভাব মেটানোর প্রধান অস্ত্র।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সভায় মির্জা ফখরুল ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ বোঝেন। বিশেষ করে মা-বোনরা যেভাবে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তা দূর করতেই এই পরিকল্পনা। প্রতিটি যোগ্য পরিবারের নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, বরং সরাসরি অর্থ সহায়তার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করা হবে। এটি কোনো দান নয়, এটি আপনাদের অধিকার।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই কার্ড মা-বোনদের হাতে এমন এক শক্তি বা অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে, যা দিয়ে তারা অভাবের দিনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন। সংসারের ছোটখাটো প্রয়োজনে আর অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।”

কেবল ফ্যামিলি কার্ড নয়, বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও বড় প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসার ১৮ মাসের মধ্যে দেশের অন্তত দেড় কোটি শিক্ষিত ও দক্ষ বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তারেক রহমানের ‘ভিশন-২০২৬’ (অথবা তৎকালীন নির্বাচনি ইশতেহারের প্রেক্ষাপট) অনুযায়ী কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডও চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “মানুষ আজ পরিবর্তনের অপেক্ষায়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে ধানের শীষের বিকল্প নেই। আমরা চাই একটি উৎসবমুখর ও ভীতিমুক্ত নির্বাচন।” স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “জনগণ জেগে উঠেছে। কোনো কারচুপি বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে এবার পার পাওয়া যাবে না। আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রত্যাশা করি।”

ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে নির্বাচনি উত্তাপ ছাপিয়ে এখন আলোচনায় ভীতি আর শঙ্কা। দশ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, এই আসনে পরিকল্পিতভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং পদে পদে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়, বরং ‘নতুন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ভোট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এবারের ভোট হবে শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নীরব বিপ্লব। ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে আসতে ভয় পায়, সেই লক্ষ্যেই একটি পক্ষ মাঠ দখল করে রেখেছে। তবে মানুষ এবার দমে যাবে না; তারা একই দিনে দুই রায় দেবে—একটি পছন্দের প্রার্থীর জন্য, অন্যটি বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণভোট হিসেবে।”

নাহিদ ইসলামের দাবি, নির্বাচনি এলাকায় প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটারদের পরোক্ষভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং তাদের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও আশানুরূপ কোনো পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঢাকা-১১ আসনটি রাজধানীর বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা এলাকা নিয়ে গঠিত, যা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। এবারের নির্বাচনে দশ দলীয় ঐক্যজোটের অংশগ্রহণ সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ ভোটার এবং যারা প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে পরিবর্তন চান, তাদের একটি বড় অংশ নাহিদ ইসলামের দিকে ঝুঁকতে পারেন। আর এই জনসমর্থনই প্রতিপক্ষ শিবিরের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা দেখছি, শুধু আমার এলাকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই এক ধরনের গুমোট পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার মহড়া চলছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভয়ের দেয়াল এবার ভাঙবেই।”

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম পার হয়ে গেছে। তবে নিজেদের অবস্থানে একচুলও নড়চড় করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল স্পষ্টভাবে ‘না’ জানানোর পর আজ শুক্রবার আইসিসির ‘স্বাধীন ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি’র (ডিআরসি) দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে পুনরায় পাঠানো এক চিঠিতে বিসিবি অনুরোধ করেছে, এই জটিলতা নিরসনে যেন স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে বিসিবি স্পষ্ট করে দিল, আইসিসির প্রশাসনিক চাপ উপেক্ষা করে তারা এখন আইনি ও নীতিগত লড়াইয়ের পথে হাটছে।

চলতি মাসের শুরু থেকেই ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল বিসিবি। বিশেষ করে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার পর থেকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না বোর্ড ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আইসিসি গত বুধবার জানিয়েছিল, বাংলাদেশকে খেললে ভারতেই খেলতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়।

সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর গতকাল যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ক্রিকেটারদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন, “নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস হবে না। বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না।” ক্রিকেটাররাও অভিভাবক হিসেবে বোর্ড ও সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

আইসিসি প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশের দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর বিসিবি এখন ‘ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি’ বা ডিআরসি-র কাছে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে। এই কমিটি সাধারণত আইসিসির অভ্যন্তরে কোনো সদস্য দেশ বা সংস্থার মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তা নিরপেক্ষভাবে বিচার করে।

বিসিবির যুক্তি হলো, এর আগে রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা কারণে অনেক দেশের ভেন্যু পরিবর্তন বা ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করা হয়েছে। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও দর্শকদের জন্য যে ঝুঁকি রয়েছে, তা এড়িয়ে গিয়ে আইসিসি একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ডিআরসি-র রায় আইসিসির জন্য বাধ্যতামূলক, তাই এখানে একটি ইতিবাচক সুরাহার আশা করছে বাংলাদেশ।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে একটি ‘ভয়শূন্য’ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক কড়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

বিবৃতিটি মূলত ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলির ঘটনার প্রতিবাদে জানানো হয়। মির্জা ফখরুল এই আক্রমণকে ‘সুপরিকল্পিত এবং উসকানিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, “একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধান শর্ত হলো ভোটারের মনে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা ও সহিংসতা বাড়তে শুরু করেছে। কেরানীগঞ্জে হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনা তারই একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।”

তিনি আরও যোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জনগণের যে সংস্কারের প্রত্যাশা রয়েছে, তা সফল করতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সন্ত্রাসীদের দমনে শৈথিল্য দেখালে তা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথকে কণ্টকিত করবে।

জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এই হামলা কেবল হাসান মোল্লার ওপর নয়, বরং এটি একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর আঘাত। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন টানটান উত্তেজনা। বিএনপি বারবার দাবি করে আসছে যে, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর কলঙ্ক মুছে দিতে এবার একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা অত্যাবশ্যক। মির্জা ফখরুলের এই সাম্প্রতিক বিবৃতি থেকে এটি পরিষ্কার যে, মাঠ পর্যায়ের ছোটখাটো সংঘাতকেও তারা নির্বাচনী প্রস্তুতির অন্তরায় হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেরানীগঞ্জের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরনের হামলা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনা হয়, তবে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের এক বিশাল জোয়ার তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমতের এই প্রতিফলন তুলে ধরেন

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম বলেন, “আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে ফিডব্যাক পাচ্ছি, তাতে এটি স্পষ্ট যে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে আপসহীন। তারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে এবং সেই স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটছে গণভোটের পক্ষে তৈরি হওয়া জনমতের মাধ্যমে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই গণভোট কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতি জনগণের সরাসরি সমর্থন প্রকাশের মাধ্যম।

প্রেস সচিবের মতে, মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সংস্কারের সপক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পাল্লা অত্যন্ত ভারী। মানুষ এখন আর আগের মতো গতানুগতিক ক্ষমতার পালাবদল চায় না, বরং ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়।

গত কয়েক মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রকাঠামোর বিভিন্ন স্তরে যে সংস্কার কমিশনগুলো গঠন করেছে, সেগুলোর কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। সরকার মনে করছে, এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বৈধতা নিশ্চিত করতে জনগণের সরাসরি রায় বা গণভোটের কোনো বিকল্প নেই।