,


কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর নীতিগত অনুমোদনসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয

দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে যৌন হয়রানি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর আইনি সুরক্ষা ও বাস্তবায়নের ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সেই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে একটি সময়োপযোগী ও কাঠামোগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অধ্যাদেশ আকারে নীতিগত অনুমোদন পাওয়ায় দ্রুত বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এ কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিক পরিবেশে হয়রানি প্রতিরোধে স্পষ্ট সংজ্ঞা, অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া, তদন্ত ব্যবস্থা এবং শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্যের মতে, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিরোধমূলক সংস্কৃতিও গড়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বাধ্যতামূলক অভিযোগ কমিটি গঠন, নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে সভাপতিত্বকারী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, আইনের কাগুজে অস্তিত্ব নয়, বাস্তব প্রয়োগই হবে এই অধ্যাদেশের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের পাশাপাশি বৈঠকে অর্থনীতি, প্রশাসন ও সামাজিক সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট আরও ১০টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও সব সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে উপদেষ্টা পরিষদ সূত্র জানায়—এসব সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও স্থিতিশীলতা জোরদারের রোডম্যাপের অংশ।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের জন্য কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ম্যানুয়ালি ইস্যু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মিডিয়ার ভূমিকাকে আরও সহজতর করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনের সময় সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্র, রাজনৈতিক সভা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশের জন্য বিশেষ কার্ড এবং গাড়ির স্টিকারের প্রয়োজন হয়। এসব কার্ড ইস্যু না হলে সংবাদ সংগ্রহে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অতীতে অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি, দেরি এবং যাচাই-বাছাইয়ের জটিলতায় অনেক সাংবাদিক সমস্যায় পড়েছেন। ইসির এই নতুন সিদ্ধান্ত এসব সমস্যার সমাধানে একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বক্তব্য অনুসারে, অনলাইন পদ্ধতিতে কার্ড ইস্যুতে যে ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে, তা নিরসনে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এতে সাংবাদিকদের আবেদনপত্র সরাসরি জমা দিয়ে দ্রুত কার্ড পাওয়ার সুযোগ মিলবে। ইসির সচিবালয়ে একটি বিশেষ ডেস্ক স্থাপন করা হতে পারে, যেখানে যোগ্যতা যাচাই করে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড ও স্টিকার প্রদান করা হবে। এই পদ্ধতি নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে বিশেষভাবে কার্যকর হবে, যখন সময়ের চাপ সবচেয়ে বেশি।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে লক্ষণীয় যে, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ভূমিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতের নির্বাচনগুলোতে সাংবাদিকরা ভোটারদের অধিকার রক্ষা, অনিয়ম উন্মোচন এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কিন্তু কার্ড-স্টিকারের জটিলতায় অনেক সময় তাদের কাজ ব্যাহত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে কয়েকটি ঘটনায় সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি, যা পরে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ইসির এই ম্যানুয়াল পদ্ধতি এমন ঘটনা এড়াতে সাহায্য করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু সাংবাদিকদের সুবিধার জন্য নয়, বরং সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখার জন্যও জরুরি। যখন মিডিয়া অবাধে কাজ করতে পারে, তখন ভোটাররা সঠিক তথ্য পায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উপর চাপ বাড়ে। তবে এই পদ্ধতির সফলতা নির্ভর করবে ইসির কর্মকর্তাদের দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার উপর। যদি ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায়ও দুর্নীতি বা পক্ষপাত দেখা যায়, তাহলে এর উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (বিএফইউজে) এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এতে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহ আরও নিরাপদ এবং কার্যকর হবে।

দেশে ড্রোন উৎপাদন, সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং উচ্চতর প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (G2G) পর্যায়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বিশ্বজুড়ে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দূরদর্শী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ করে ভারতের মতো প্রতিবেশী বা অন্য কোনো ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা অত্যন্ত দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা আমাদের দেশের প্রয়োজন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের যদি এই চুক্তিতে আপত্তি থাকেও, তবে তা বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অন্য কে কী মনে করল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমাদের অগ্রাধিকার কেবল বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন।”

চুক্তি অনুযায়ী, কেবল ড্রোন কেনা নয়, বরং বাংলাদেশে ড্রোন উৎপাদনের কারখানা তৈরি করা হবে। এর ফলে চীন থেকে সরাসরি প্রযুক্তি বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হবে, যা ভবিষ্যতে নিজস্ব ড্রোন উদ্ভাবনে সহায়তা করবে। এই ড্রোনগুলো কেবল সামরিক কাজেই নয়, বরং কৃষি তদারকি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত নজরদারিতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন বাংলাদেশ মূলত আমদানিনির্ভর ছিল। কিন্তু এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ নিজেই ‘প্রযুক্তি উৎপাদক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এটি কেবল প্রতিরক্ষা খাতের শক্তি বাড়াবে না, বরং দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে দেবে।

চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে এই গভীর সহযোগিতা ওয়াশিংটন বা নয়াদিল্লির মতো শক্তির জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে কি না, সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন তুললে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে একটি ‘কৌশলী নিরপেক্ষতা’ ও ‘জাতীয় স্বার্থের শ্রেষ্ঠত্ব’ ফুটে ওঠে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বাংলাদেশ এখন থেকে তার পররাষ্ট্র নীতিতে কারও তোষণ না করে কেবল ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ এবং ‘সার্বভৌমত্ব’কে মূল ভিত্তি হিসেবে দেখবে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক কড়া বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে না ফেরে এবং পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করে, তবে দেশটিকে এমন এক সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে যা ‘আগের চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ’ হবে।

ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশালাকার নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ ইতিপূর্বে ইরানের জলসীমার দিকে রওনা হয়েছে। এই বহরের নেতৃত্বে রয়েছে পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “একটি বিশাল আর্মাডা ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি দ্রুত এগোচ্ছে—প্রবল শক্তি ও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে। ভেনেজুয়েলায় পাঠানো বহরের চেয়েও এটি বড় এবং প্রয়োজনে যেকোনো মিশন সফল করতে সক্ষম।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং এটিই তেহরানের জন্য শেষ সুযোগ।

গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেন। সেই সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’। ট্রাম্প বলেন, “আমি আগেও ইরানকে বলেছিলাম চুক্তি করতে, তারা শোনেনি। ফলাফল কী হয়েছিল তা তারা জানে। পরবর্তী হামলা হবে তার চাইতেও অনেক বেশি বিধ্বংসী। একই ভুল দ্বিতীয়বার করো না।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের মূল কারণ ইরানের ক্রমবর্ধমান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ। তবে ইরান এই হুমকিকে ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হুমকির মুখে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কোনো ‘দোসর’ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখানে সবাই খুব ভালো, সৎ এবং নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে পিটিআই সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এই মন্তব্য নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে এবং দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই স্পষ্ট বক্তব্য সেই প্রশ্নের জবাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সবাই পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন এবং কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।

সিলেটের এই সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপদেষ্টা জানান, সারাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন থাকবে, যার মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী রয়েছে। নতুন ‘ইলেকশন সিকিউরিটি অ্যাপ-২০২৬’ চালু হয়েছে, যা রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ে সাহায্য করবে। এছাড়া সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা, ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী একজন অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। তার দায়িত্বকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান। নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই সফর ও বক্তব্য সরকারের প্রস্তুতির অংশ। তিনি জোর দেন যে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের আশ্বাস জনগণের আস্থা বাড়াতে পারে। তবে কিছু মহলে এখনও উদ্বেগ রয়েছে যে, পুরনো প্রশাসনের কিছু অংশের প্রভাব থাকতে পারে। উপদেষ্টার বক্তব্য সেই উদ্বেগকে খণ্ডন করার চেষ্টা। তিনি বলেন, “এখানে সবাই সৎ অফিসার, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক গণসংযোগগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে যে দেশবাসী তাঁর মধ্যেই আগামীর সম্ভাবনা দেখছে। বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মলানী বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ প্রবাস জীবন এবং রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তারেক রহমান এখন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন আশার নাম হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক আবেগঘন বক্তৃতায় তিনি বলেন, “তারেক রহমান যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষের ঢল নামছে। এই লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি কেবল ভিড় নয়, এটি পরিবর্তনের সংকল্প। মানুষ তার মধ্যে এমন এক নেতাকে খুঁজে পাচ্ছে, যিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিএনপি মহাসচিবের মতে, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলায়তন থেকে মুক্তি চায়। আর সেই মুক্তির দিশারি হিসেবে তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ ভোটাররা তারেক রহমানের আধুনিক ও ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনাকে গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, “তারেক রহমান কেবল একটি নাম নন, তিনি এখন একটি আদর্শের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন যা মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।”

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বের দর্শনের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি দাবি করেন, তারেক রহমান মানুষকে কেবল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি টেকসই রূপরেখা তুলে ধরছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের এই পথসভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, অতীতের সরকারগুলো মানুষের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করলেও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় তাতে ভাটা পড়েনি, বরং তা কয়েক গুণ বেড়েছে।

পথসভায় স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, “আপনারা দেখছেন, একজন নেতার জন্য কীভাবে দেশের প্রান্তিক মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসছে। মানুষ তাকে ভালো কিছু দেওয়ার কারিগর হিসেবে দেখছে। তিনি মানুষের ভোটাধিকার এবং ভাতের অধিকার নিশ্চিত করার যে লড়াই শুরু করেছেন, জনগণ তাতে শরিক হয়েছে।”

সরকার সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং মানদণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ এর খসড়া, যাতে অনিয়মের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই খসড়া তৈরি করেছে এবং এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত সংগ্রহ করছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপকে নতুন আকার দিতে পারে।

বাংলাদেশের সম্প্রচার খাতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অসমানতা এবং মানহীনতার অভিযোগ উঠছে। টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপনের অসম বিতরণ, ভুয়া খবর প্রচার এবং লাইসেন্স লঙ্ঘনের মতো সমস্যা বেড়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ এসব সমস্যার সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সম্প্রচার কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকার চায় যাতে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সিং, প্রোগ্রামিং এবং বিজ্ঞাপনের মানদণ্ড একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ কাঠামোয় আবদ্ধ হয়। এই কমিশন হবে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হবে।

খসড়া অধ্যাদেশটি বিভিন্ন ধরনের অনিয়মকে লক্ষ্য করে কঠোর বিধান চালু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার, অসত্য তথ্য প্রচার বা বিজ্ঞাপনের নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।

এছাড়া, কমিশনের ক্ষমতা থাকবে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার, যা সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই অধ্যাদেশের লক্ষ্য হলো সম্প্রচার খাতকে আধুনিক এবং জনকল্যাণমুখী করা, যাতে দর্শক-শ্রোতাদের অধিকার সুরক্ষিত হয়।

এই খসড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিচ্ছে। মিডিয়া সংগঠন, সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ জনগণের মতামত সংগ্রহের জন্য ওয়েবসাইট এবং সভা-সেমিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে অধ্যাদেশটি আরও পরিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কিছু মিডিয়া বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই কঠোর শাস্তির বিধান মিডিয়া স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে। তারা বলছেন, অনিয়ম রোধের নামে সরকারি হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, সমর্থকরা মনে করেন এই কমিশন গঠন দেশের সম্প্রচার খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। ভারতের টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি বা যুক্তরাজ্যের অফকমের মতো সংস্থাগুলোর উদাহরণ টেনে তারা বলছেন, এমন কমিশন খাতের বিকাশ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৫টিরও বেশি টেলিভিশন চ্যানেল এবং অসংখ্য রেডিও স্টেশন রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র। এই কমিশন গঠন হলে তাদের কার্যক্রম আরও নিয়ন্ত্রিত এবং উন্নত হবে।

দীর্ঘ ২২ বছর পর ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের জনপদ ময়মনসিংহে এসে গণমানুষের সামনে নিজের আগামীর স্বপ্ন উন্মোচন করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কেবল গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর রূপরেখা।

ময়মনসিংহের এই জনসভাটি ছিল স্মরণকালের অন্যতম বড় জমায়েত। মঙ্গলবার বেলা ৪টার দিকে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে উঠলে পুরো মাঠ ‘ধানের শীষ’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে তিনি এই শহরে জনসভা করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের এই বিরতি এবং নির্বাসন কাটিয়ে ময়মনসিংহের মাটিতে তার এই উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান। তবে তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল ‘রাষ্ট্রীয় সংস্কার’ এবং ‘জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা’।

তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেই চলে না, জনগণের জন্য কাজ করতে হলে থাকতে হবে নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে হবে, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা কী—তা জনগণের সামনে স্পষ্ট থাকতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, একটি দেশের উন্নয়ন কেবল দালানকোঠা বা মেগা প্রজেক্টের ওপর নির্ভর করে না, বরং সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ওপরই প্রকৃত সমৃদ্ধি ফুটে ওঠে।

বক্তব্যে তিনি বিএনপির ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি কেবল স্লোগানসর্বস্ব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে বিএনপি যে রাষ্ট্র মেরামতের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে আয়োজিত হতে যাওয়া গণভোটকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের মাঠের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত আনাগোনা বন্ধ করতে দেশজুড়ে মোটরসাইকেল ও যন্ত্রচালিত যান চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের আগে ও পরে মোট তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিনটি মাথায় রেখে এই বিধিনিষেধ শুরু হবে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে এবং তা অব্যাহত থাকবে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত।

কমিশন জানিয়েছে, মোটরসাইকেল ব্যবহার করে অনেক সময় দ্রুত অপরাধ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এছাড়া ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা মহড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই বাহনটি ব্যবহৃত হয়। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদিত সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল থাকবে।

মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ভোটের দিন সাধারণ যান চলাচলেও থাকছে নিয়ন্ত্রণ। ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত অর্থাৎ পূর্ণ ২৪ ঘণ্টা অন্যান্য সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন (যেমন: ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ট্রাক) চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে ভোটারদের চলাচলের সুবিধার্থে কিছু ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে রিকশা বা ছোট যানবাহনের ওপর কড়াকড়ি কিছুটা কম থাকতে পারে, যা স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে—এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক অনুসন্ধানে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি অংশকে নির্মাণকাজ বা কারখানায় কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়া নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের সামনে তুলে ধরা হয় একেবারে ভিন্ন বাস্তবতা। কাজের চুক্তি বদলে গিয়ে অনেককে বাধ্য করা হচ্ছে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে কিংবা সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে যেতে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই শ্রমিকদের অধিকাংশই জানতেন না যে তারা শেষ পর্যন্ত একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দালালচক্র প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে শ্রমিকদের আকৃষ্ট করে। উচ্চ বেতন, বিনা খরচে ভিসা এবং দ্রুত নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেখানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বলা হয়, কাজ হবে নিরাপদ এলাকায়, যুদ্ধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট জব্দ, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এপির সঙ্গে কথা বলা এক বাংলাদেশি শ্রমিক জানান, “আমাদের বলা হয়েছিল নির্মাণকাজে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সামরিক পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়। কেউ রাজি না হলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।” এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন আরও কয়েকজন বিদেশি শ্রমিক, যাদের মধ্যে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার সেনা সংকট বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিদেশি শ্রমিকদের জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহার করার অভিযোগ নতুন নয়, তবে এপির অনুসন্ধান বিষয়টিকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে আধুনিক দাসত্বের সঙ্গে তুলনা করছে।এ ধরনের ঘটনা রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। না হলে চাকরির স্বপ্ন দেখতে গিয়ে আরও বহু শ্রমিক অনিচ্ছায় যুদ্ধের আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হতে পারেন।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।