বসন্ত মানেই উচ্ছাস। ভালোলাগা আর ভালবাসার নতুন মোড়। নতুন সাঁড়া আর উদ্দীপনায় ভাসে নগর, প্রান্তিক জীবন। যদিও এর ছোঁয়া বেশি দেখা যায় শহুরে জীবনে।

ছবি: বিশ্ব ভালবাসা ও বসন্ত দিনে রঙ্গিন রমনা পার্ক

এবারের ১৪ই ফেব্রুয়ারিও বসন্ত আয়োজনের কমতি ছিল না। যে যেভাবে পেরেছে সাধ আর সাধ্য দিয়েই উদযাপন করেছে দিনটি।

রমনা পার্ক

ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিনোদন স্পটের পাশাপাশি রমনা পার্কজুড়েও ছিল একই পরিবেশ। পরিবার পরিজন, স্বজন, বন্ধুমহল, কপত-কপোতি; বাদ যায়নি কেউই।

ছবি: রমনা পার্ক

বেশ হাসি আনন্দ আর ছুটোছুটির মধ্যে দিয়ে দিনটি পালন করেছে সবাই। তবে বসন্ত আর বিশ্ব ভালবাসা দিবস এক দিনে হওয়ায় উৎসবের রঙ একটু বেশিই গাড় ছিল।

ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো পক্ষই জিতবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি। যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র উপায় কূটনৈতিক উপায়ে শান্তি চুক্তি করা। যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখ লড়াইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত জয় অর্জন সম্ভব নয়। কেননা ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক লড়াইয়ে কেউই জিতবে না।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন মার্ক মিলি।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন মতে, সাক্ষাৎকারে মার্কিন জেনারেল বলেছেন, ‘ইউক্রেনে সামরিক উপায়ে রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জন রাশিয়ার পক্ষে অসম্ভব হয়ে যাবে। রাশিয়া ইউক্রেন দখল করে ফেলবে-এমনটাও সম্ভব নয়।’

জেনারেল মিলি আরও বলেন, ইউক্রেনের পক্ষেও রুশ সেনাদের বিতাড়িত করা খুব খুব কঠিন হবে। কঠিন হবে রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডগুলো পুনরুদ্ধার করাও। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস সফর শেষে এই সাক্ষাৎকার দেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এ সেনা কর্মকর্তা।

গত সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ব্রাসেলসে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের দুদিনব্যাপী নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেও বক্তব্য দেন জেনারেল মার্ক মিলি।

তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ইতোমধ্যে `হেরে’ গেছে রাশিয়া। তারা কৌশলগতভাবে, যুদ্ধ পরিচালনা ও কৌশলগতভাবে হেরেছে। এছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার ও যুদ্ধের প্রাথমিক লক্ষ্যে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই বৈঠকে তিনি এবারের বসন্তে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করার লক্ষ্যে ইউক্রেনের শক্তি বাড়াতে ন্যাটো সদস্যদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সমন্বয় করার ওপর জোর দেন জেনারেল মিলি। 

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের হারানো ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি তিনি করেবেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘কোনো আপস নয়’ বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। 

সময় বাড়বে এমন প্রত্যাশা পূরণ আর হলো না। শেষ হচ্ছে পূর্বাচলে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৩। আরও সাত দিন মেলার সময় বাড়ানোর দাবি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে মেলার সময়সীমা বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

আজ (৩১ জানুয়ারি) মঙ্গলবার সমাপণী অনুষ্ঠান। ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমেলার সময় বাড়ানোর দাবি জানালেও বাড়ানো হচ্ছে না মেলার সময়। বিকাল ৪টায় সমাপণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বাণিজ্যমেলা। 

ফাইল ছবি

এদিকে শেষ দিনে অন্তত সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। উপচে পড়া ভিড়ে অন্যান্য দিনের তুলনায় বিক্রিও দ্বিগুণ হযবে, বলছেন ব্যবসায়ীরা।

গতবার প্রথমবারের মতো আয়োজনে কিছুটা অগোছালো থাকলেও এবার অনেকটা ভালো লেগেছে দর্শনার্থীদের।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা অন্তত ৪৪ জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। আর এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এ ঘটনায় খবর জিও নিউজের।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ি, সোমবার (৩০ জানুয়ারি) পেশোয়ারের পুলিশ লাইনস এলাকায় একটি মসজিদের ভেতরে নামাজের সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। হামলায় মসজিদের একটি অংশ ধসে গেছে।

আহতদের পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল অবস্থান করছে।

জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদে জোহরের নামাজের সময় সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন আত্মঘাতী হামলাকারী। সেখানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত টিটিপি কমান্ডার উমর খালিদ খুরাসানির ভাই মোহমান্দ। গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে নিহত হন উমর খালিদ। ভাইকে হত্যার প্রতিশোধ নিতেই পেশোয়ারের মসজিদে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তালেবানের কমান্ডার সারবাকাফ মোহমান্দ।


তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জঙ্গিগোষ্ঠীটির প্রধান মুখপাত্রের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানি তালেবানের কমান্ডার সারবাকাফ মোহমান্দ টুইটারে দেয়া এক বার্তায় পেশোয়ারে মসজিদে হামলার দায় স্বীকার করেন।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি বা ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি, এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের জনপ্রিয় ও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক মিতস্যুবিশি ইউএফজি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ বা এমইউএফজি ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বৈদেশিক বিনিয়োগ বিভাগের প্রধান গৌরব ভাগাতের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন এমইউএফজি সিঙ্গাপুর শাখার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এন্ড্রিউ রোথারি, মার্টিন ফ্রান্সিস প্রমুখ।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আগামি দিনগুলোতে বাংলাদেশে আরও বেশি কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলো উল্লেখ করার পাশাপাশি এসব খাতে বিনিয়োগের জন্য এমইউএফজি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এফবিসিসিআই এর ব্যবসায়িক নেতারা।

এসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সহযাত্রী হতে এদেশে এমইউএফজি ব্যাংকের শাখা চালু করার আহ্বান জানান তারা।

এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর নেতৃত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মোঃ আমিন হেলালী, পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, শমী কায়সার, ড. নাদিয়া বিনতে আমীন, সৈয়দ সাদাত আলমাস কবীর, আবুল কাসেম খান, আবু হোসেন ভুঁইয়া (রানু), বারভিডা’র মহাসচিব মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায় ল্যাটিন অ্যামেরিকার দেশ মেক্সিকো। অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল, কেমিক্যাল এবং ফিনটেক খাতে বড় সম্ভাবনা দেখছে উভয় দেশ।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের নয়া দিল্লীতে অবস্থিত মেক্সিকো দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ফেডেরিকো সালাস লৎফে। এ সময় তিনি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈচিত্রকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-মেক্সিকো অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল, কেমিক্যাল, ফিনটেক প্রভৃতি খাতে বড় সম্ভাবনা দেখছে মেক্সিকো।”

মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত বলেন, ”বৈশ্বিক অটোমোবাইল বাজারের অন্যতম যোগানদাতা হলো মেক্সিকো। অটোমোবাইল শিল্পে মেক্সিকোর অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তি বাংলাদেশের সাথে বিনিময়ে আগ্রহী আমরা। আশাকরি এটি হবে একটি ভালো উদ্যোগ।” বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদেরও মেক্সিকোতে ব্যবসা স্থাপনের আহ্বান জানান ফেডেরিকো সালাস লৎফে।

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে মেক্সিকোর ব্যবসায়ীদের এফবিসিসিআই সব ধরণের সহযোগিতা করবে বলেও জানান মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।


এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র পরিচালক সৈয়দ সাদাত আলমাস কবীর, এস. এম. শফিউজ্জামান, আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হকসহ প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা।

চলতি বছর অনেক চ্যালেঞ্জিং। এজন্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের রমজানে পণ্য বেচাকেনায় সহনশীল থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, কোন পণ্যের দাম বেশি হলে তা কিনতেই হবে এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে ক্রেতাদের। তাহলে পণ্যের দাম নিয়ে কোন অরাজতকা হবে না।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) কারওয়ানবাজারে ভোক্তা অধিদফতর আয়োজিত ফল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক মত বিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্দরে আসা কন্টেইনার দ্রুত খালাস না হলে অস্থির হবে বাজার।

রমজানে পণ্য দামে কম রাখার দাবি জানিয়েছেন এফবিসিসিআই পরিচালক মো. হারুনর রশিদ। তিনি বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে এলসিসহ সব জটিলতা নিরসনে আগেই নির্দেশনা দেয়া আছে। সাপ্লাই চেন ঠিক থাকলে সমস্যা হবে না। তবে রোজার আগে দাম বেড়ে যাওয়া কোনভাবেই ঠিক না।

এছাড়াও আমদানি পণ্য সহ দেশিও পণ্যের দামও এখন থেকেই দাম মনিটরিংয়ের পরামর্শ দেন ভোক্তা কণ্ঠের সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান।

ডলারের ও তেলের দামের প্রভাব সব খাতেই। তবে এটি অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম না বাড়ানো যাবে না জানিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিজুজ্জামান। তিনি বলেন, এবার রমজানে ৪০ হাজার মেট্রিক টন খেজুরের চাহিদার মধ্যে ১০ হাজার টন খেজুর টিসিবি কিনেছে। বাকি ৩০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর সরবরাহ করবে ব্যবসায়ীরা।

সভায় ভোক্তাকণ্ঠের সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, দেশে যে পরিমাণ ফল বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়, তা দ্রুত খালাস করা। অন্যাথায় দাম অনিয়ন্ত্রিত হবে। ফলসহ অন্যান্য ফলের বাজারও মনিটরিং করতে হবে। ভ্যানে ফল বিক্রিতে যে চাদা নেয়া হয়, তা বন্ধ করতে পারলে কম দামে ফল কিনতে পারবে ভোক্তারা।

মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর কোথাও থাকলে তা ভোক্তা অধিদপ্তরকে জানানোর জন্য বলেন ব্যবসায়ীদের- ভোক্তা অধিদফতর পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

বিদেশি ফল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি, ফল সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, দেশে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জের দেয়াসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বিগত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রমজানে শুধু খেজুরই প্রয়োজন হয় ৪০ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে ডলারসহ নানা সংকটের মধ্যেও জটিলতা কমেছে এলসিতে। তবে আগেভাগে আমদানি ঋণপত্র খুলতে না পারায় সময়মতো বাজারে খেজুরসহ অন্যান্য ফল সরবরাহ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। তবে সঠিক সময়ে বন্দরে খালাস কার্যক্রম ঠিক থাকলে সমস্যা কেটে যাবে মলে মনে করেন ব্যবসায়িরা।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) কারওয়ানবাজারে ভোক্তা অধিদফতর আয়োজিত ফল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক মত বিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্দরে আসা কন্টেইনার দ্রুত খালাস না হলে অস্থির হবে বাজার।

ফাইল ছবি

রমজানে পণ্য দামে কম রাখার দাবি জানিয়েছেন এফবিসিসিআই পরিচালক মো. হারুনর রশিদ। তিনি বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে এলসিসহ সব জটিলতা নিরসনে আগেই নির্দেশনা দেয়া আছে। সাপ্লাই চেন ঠিক থাকলে সমস্যা হবে না। তবে রোজার আগে দাম বেড়ে যাওয়া কোনভাবেই ঠিক না।

এছাড়াও আমদানি পণ্য সহ দেশিও পণ্যের দামও এখন থেকেই দাম মনিটরিংয়ের পরামর্শ দেন ভোক্তা কণ্ঠের সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান।

ডলারের ও তেলের দামের প্রভাব সব খাতেই। তবে এটি অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম না বাড়ানো যাবে না জানিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিজুজ্জামান। তিনি বলেন, এবার রমজানে ৪০ হাজার মেট্রিক টন খেজুরের চাহিদার মধ্যে ১০ হাজার টন খেজুর টিসিবি কিনেছে। বাকি ৩০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর সরবরাহ করবে ব্যবসায়ীরা।

তিনি বলেন, চলতি বছর অনেক চ্যালেঞ্জিং। এজন্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের রমজানে পণ্য বেচাকেনায় সহনশীল থাকার পরামর্শও দেন তিনি। বিদেশি ফল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি, ফল সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, দেশে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জের দেয়াসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সভায় ভোক্তাকণ্ঠের সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, দেশে যে পরিমাণ ফল বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়, তা দ্রুত খালাস করা। অন্যাথায় দাম অনিয়ন্ত্রিত হবে। ফলসহ অন্যান্য ফলের বাজারও মনিটরিং করতে হবে। ভ্যানে ফল বিক্রিতে যে চাদা নেয়া হয়, তা বন্ধ করতে পারলে কম দামে ফল কিনতে পারবে ভোক্তারা।

মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর কোথাও থাকলে তা ভোক্তা অধিদপ্তরকে জানানোর জন্য বলেন ব্যবসায়ীদের- ভোক্তা অধিদফতর পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

বাংলাদেশি ওমরাযাত্রীদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধে পদক্ষেপ নিতে ও সচেতনতা বাড়াতে সহযোগিতা চেয়েছেন সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম। এ ক্ষেত্রে তিনি কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন। গত বছর ওমরাহ পালন করতে গিয়ে ১২৩ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। অসংখ্য ওমরাযাত্রী সৌদি আরবে হারিয়েও গেছেন।

এসব বিষয়ে কাজ করার জন্য সক্ষমতা বাড়াতেও সহযোগিতা চান তিনি। গত ২৩ জানুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।

এতে বলা হয়, ‘১৪৪৩ (২০২২ সাল) হিজরি সনের হজ পরবর্তী সময়ে পবিত্র ওমরা পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে অতীতের যে কোনে সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক মুসলিম সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগ পান। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশ থেকেও ব্যাপকহারে ওমরাযাত্রী সৌদিতে যান। ফলে হারাম এলাকা এবং হারাম সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সম্প্রতি অত্যন্ত জনাকীর্ণ হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বিপুল সংখ্যক ওমরাহ যাত্রী এবং তাদের পরিবহনকারী যানবাহনের সমাগমে হারাম এলাকায় চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রথমবার সৌদি আরবে আগত ওমরাযাত্রীরা অধিকতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে বলা হয়, ১৪৪৩ হজ পরবর্তী কয়েক মাসে ১২৩ জন বাংলাদেশি ওমরাযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অসংখ্য ওমরাযাত্রী হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজ হওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে।

“হারিয়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ওমরাযাত্রীরা গাইডের নিয়ন্ত্রণে গ্রুপে চলাচল না করে একাই চলাচলের চেষ্টা করায় এমন ঘটনা ঘটেছে। ওমরাযাত্রীরা হোটেল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় অনেকক্ষেত্রেই নিজস্ব পাসপোর্ট সাথে রাখছেন না। তাছাড়া আবাসিক হোটেলের বা ওমরা কোম্পানির কোনো তথ্য সাথে না নিয়েই অনেক সময় হোটেল থেকে একাকি বেরিয়ে পড়ছেন এবং হোটেলে ফেরত না যেতে পেরে হারিয়ে যাচ্ছেন।”

হজ কাউন্সিলর জানিয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া ওমরাযাত্রীদের খুঁজে পাওয়া যেমন দুরূহ, তেমনি হারানো ব্যক্তির কেউ সাক্ষাৎ পেলেও তাকে তার হোটেলে পৌঁছে দেয়াও কঠিন। হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের জন্য অনেকক্ষেত্রেই স্থানীয় থানায়, হাসপাতালে এবং অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানে ভ্রমণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। “জেদ্দা থেকে মক্কা ও মদিনায় গমন করে স্বল্পসংখ্যক জনবল এবং সীমিত জ্বালানি দিয়ে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করা দূরুহ হয়ে পড়ছে।’

জহিরুল ইসলাম বলেন, হারিয়ে যাওয়া ওমরাযাত্রীদের অভিভাবক, নিকটাত্মীয় ও পরিচিতজন এ কার্যালয়কে (হজ অফিস) হারানো ব্যক্তির অনুসন্ধানের জন্য নানারূপে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুঁজে না পাওয়ার কারণে এ অফিসকে দায়ী করছেন। উল্লেখ্য যে, বছরব্যাপী এ ধরণের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অনুবাদক এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি বরাদ্দ নেই। ওমরাযাত্রী হারিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে হারানো ওমরাযাত্রীর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় জনবল এবং জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন’ বলে চিঠিতে জানানো হয়।

ওমরাযাত্রীদের হারিয়ে যাওয়ার সংখ্যা কমাতে সুপারিশ তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়,ওমরাযাত্রীদের গ্রুপভিত্তিক সৌদি আরবে পাঠানো যেতে পারে। মক্কা, মদিনার রাস্তাঘাট চিনেন এবং আররি ভাষা বুঝেন এমন গাইড সঙ্গে থাকতে হবে। সৌদি আরবে আসার পর ওমরাযাত্রীদের স্থায়ী ঠিকানা, জরুরি যোগাযোগের মোবাইল নম্বর, মক্কা, মদিনায় আবাসিক হোটেলের ঠিকানা, ফোন/মোবাইল নম্বর, মক্কা ও মদিনায় ওমরা এজেন্সির প্রতিনিধির নাম ও মোবাইল নম্বর ইত্যাদি উল্লেখিত ছবিসহ আইডি কার্ড আবশ্যিকভাবে সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখতে হবে। পাসপোর্ট সাবধানতার সাথে সংরক্ষণ করতে হবে।

কোনো কারণে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ হজ্জ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে ট্রাভেল পারমিট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ১০৫ সৌদি রিয়াল ফি দিতে হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়।

একই সঙ্গে ওমরাযাত্রী মৃতু্যবরণ করলে লাশ সৌদি আরবে দাফন কিংবা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উপায়ও চিঠিতে জানিয়েছেন হজ কাউন্সিলর। বাংলাদেশ থেকে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া ওমরাযাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ওমরাযাত্রীদের সার্বিক সেবা নিশ্চিতে জেদ্দার বাংলাদেশ হজ অফিসের জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।