গালফ এয়ারের পাইলট ক্যাপ্টেন মোহান্নাদ ইউসুফ আলহেন্দি ফ্লাইট নিয়ে বাংলাদেশে আসার পর অসুস্থ হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তার বোন তালা এলহেন্দি।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি। যদিও, এ ঘটনায় ৪৬ দিনেও কেন কোন মামলা হয়নি, কিংবা হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় পাইলটের শারীরিক অবস্থা জানাতে যোগাযোগ করা তার স্ত্রী ও অন্য ভাইয়েরা কেন ঢাকায় আসেননি, এবং কোন ডকুমেন্টের উপর ভিত্তি করে এই অভিযোগ তুললেন তিনি, এই তিন প্রশ্নের যুৎসই কোন উত্তর দিতে পারেননি তালা এলহেন্দি।

তবে পুলিশের কাছে অভিযোগ না করলেও তালা জানান, বাংলাদেশে এসে ইউনাইটেড হাসপাতালের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে তাকে অসহযোগিতা করা হয় এবং দেরি করে কাগজপত্র দিলেও সেখানে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। যদিও সেসব মেডিকেল রিপোর্টের কোন কপিও গণমাধ্যমকে দেননি তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তালা এলহেন্দি ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে যথাযথ ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করারও দাবি জানান। এসময় গালফ এয়ারও সময় মতো মোহাম্মাদ ইউসুফ আলহেন্দির চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তার বোন।

পাইলট ক্যাপ্টেন মোহান্নাদ ইউসুফ আলহেন্দি। ফাইল ছবি।

তালা এলহেন্দি বলেন, আমরা ভাই-বোন দুজনই যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের দ্বৈত নাগরিক। ভাই ইউসুফ আলহেন্দি গলফ এয়ারের পাইলট ছিলেন, আর বোন তালা আলহেন্দি  ব্রিটিশ সরকারের হয়ে কাজ করেন। ভাইয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশে ছুটে আসেন। খোঁজ-খবর নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল ও গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষের অবহেলার নানান প্রমাণ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন তার ভাই ঢাকার মেরিডিয়ান হোটেলে ছিলেন। খুব সকালে তার গালফ এয়ারের ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল। রাত পৌনে তিনটায় ঘুম থেকে উঠে তিনি ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত হন। এরপর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তখন সেখানে তিনি পড়ে যান এবং নিঃসাড় ছিলেন। তার কাছ থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। বিমানবন্দরে আমার ভাইয়ের প্রথম কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তখন তিনি পাঁচ মিনিট কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) পেয়েছেন। ক্রমশ তার রক্তচাপের অবনতি হতে থাকে। এরপর তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তালা আলহেন্দি বলেন, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় তাকে ওষুধ প্রয়োগ করে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, আমার ভাইয়ের চিকিৎসা করেছেন ডা. কায়সার নাসির। কিন্তু আমার ভাইয়ের পরিবারের কাছে চিকিৎসার যে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে তার নাম পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমার ভাইয়ের অ্যাজমা ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তারা বলেছে যে, ভুল করে এটা বাদ পড়ে গেছে। ফোনে কার্ডিওলোজিস্টের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তিনি সশরীরে রোগীর কাছে উপস্থিত ছিলেন না।’

তালা আলহেন্দির বক্তব্য নিচে পুরোপুরি তুলে ধরা হলো-

তিনি বলেন, ‘সকাল পৌনে ৬টায় আমার ভাইকে সিসিএমে স্থানান্তর করা হয়। এটির নাম কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে সেখানে অন্তত একজন কার্ডিওলোজিস্ট ও তাৎক্ষণিক বিশেষ সেবা দেওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু অদক্ষ চিকিৎসকরা অবহেলা করেছেন। কার্ডিওলোজি কেয়ারের জন্য একটি ইউনিট করা হলেও সেখানে কোনও কার্ডিওলোজিস্ট ছিলেন না।

সকাল পৌনে ৭টায় দ্বিতীয় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় আমার ভাইয়ের। ২০ মিনিট পর তৃতীয় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট করেন তিনি। দুই ঘণ্টার ব্যবধানে আমার ভাইয়ের তিন বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। কোনও কার্ডিওলোজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ঢাকা শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ইউনিট আবার ব্যর্থ হয়েছে। যা সিসিএম কর্মীদের নিছক ও চরম অবহেলা ছাড়া কিছু না।

তারা একমাত্র যে পদক্ষেপটি নিয়েছে তা হলো— আরিএসসি-এর সঙ্গে ১৫ মিনিট সিপিআর করেছে। আমার ভাই তৃতীয়বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট করলে সোয়া দুই ঘণ্টা পর্যন্ত তাকে কোনও চিকিৎসা সেবা ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি সঠিক চিকিৎসাবঞ্চিত ছিলেন। কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট ট্রিটমেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চিকিৎসক আমার ভাইকে হেপারিন সোডিয়াম ৫০০০ আইইউ  ইনজেকশন দিয়েছেন।

রক্তজমাট বাধা বন্ধ করতে এটি দেওয়া হয়। এতে আরও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, রোগীর চিকিৎসায় সেখানে কোনও কার্ডিওলোজিস্ট ছিলেন না। কাজেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাদে সাধারণ কর্মীদের পরামর্শ ছিল চরম অবহেলা, বলেন তিনি। নিহত পাইলট ইউসুফের বোন বলেন, আমি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পেয়েছি যে, সিসিটিভি ফুটেজ ও হাসপাতালের কাগজপত্রে কারসাজি করা হয়েছে। এছাড়া আমি যখন অনুসন্ধান করছিলাম, তখন হাসপাতালের কর্মীরাও আমাকে ভয় দেখিয়েছেন।

২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ইউনাইটেড হাসপাতালের কাছে আমি চিকিৎসার কাগজপত্র ও সিসিটিভির ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রমাণাদি কারসাজি করতে তারা এসব দিতে তিন দিন সময় নিয়েছিলো। তিনি বলেন, তাদের কাছে যখন জানতে চাচ্ছিলাম, তখন তারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেন ও রূঢ় ব্যবহার করেন।

এরপর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি ও দূতাবাসকেও এ বিষয়ে জানানো হবে বললে তারা আমাকে বিস্তারিত কাগজপত্র দিয়েছেন। কিন্তু এ জন্য তারা তিন দিন সময় নিয়েছেন। এ সময়ে সব কাগজপত্র কারসাজি করা হয়েছে। তারা কোনও কোনও তথ্য গোপন করেন, আবার কোনোটি যুক্ত করেন। এসব কাগজপত্রকে তারা হাসপাতালের সম্পত্তি বলে দাবি করলেও তা অন্য চিকিৎসকের কাছে রয়েছে জানিয়ে আমাকে দিতে বিলম্ব করে।

তারা বলেছিল, ওই চিকিৎসকের ফুরসত মিললেই আমাকে কাগজপত্র জমা দেওয়া হবে। এভাবে তারা আমাকে তিন দিন অপেক্ষায় রেখেছেন। এমনকি দীর্ঘ বিলম্বের পরেও রোগীর হৃদকম্পন পরীক্ষার ২০টি পাতা দিয়েছে তারা আমাকে। কিন্তু তাতে সঠিক কার্ডিওলোজি রিপোর্ট কিংবা চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য ছিল না।’

বাংলাদেশ সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে শাক-সবজি ও ফলমূল পাঠাতে পারবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এরইমধ্যে দুবাই বন্দরের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এমন তথ্য দিয়েছেন। কৃষিপণ্য ও আলু রপ্তানির অগ্রগতি বিষয়ক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আমি দুবাই গিয়েছিলাম। এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আগেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আমরা তাতে সহায়তা করেছি। মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি আমরা শাক-সবজি ফলমূল পাঠাতে পারব।

“২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতির কাছে আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলব। সত্যিকার অর্থে এখন মানুষ না-খেয়ে থাকে না। অন্তত দুবেলা ভাত খেতে পারেন। আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছি,” যোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এখন আমাদের লক্ষ্য মানুষকে পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ খাদ্য দেয়া। অর্থাৎ সার্বিকভাবে খাদ্যনিরাপত্তার বিভিন্ন দিকগুলোতে আমরা জোর দেব এবং সর্বাত্মকভাবে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে চাই। কৃষিমন্ত্রী জানান, খাদ্যনিরাপত্তা বলতে আমরা বুঝি যে প্রয়োজনীয় দানাজাতীয় ও অন্য খাবারগুলো যাতে বাজারে পর্যাপ্ত থাকে, তা নিশ্চিত করা।

অনেক সময় খাবার থাকলেও আয় থাকে না। কম আয়ের কারণে অনেক মানুষ না খেয়ে থাকেন। এমন হলে কোনো দেশ নিজেকে খাদ্য নিরাপদ বলে দাবি করতে পারে না। “কাজেই মানুষ যাতে মানসম্মত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন, যাতে সবাই প্রয়োজনীয় মেধা বিকাশ ও সক্রিয় থাকতে পারেন, সে জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে বলেন মন্ত্রী।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য রফতানি করতে হলে মান বাড়াতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শ্যামপুরে আমাদের একটি প্যাকিং হাউস আছে। কিন্তু লোকেশন ভালো না। এটির আধুনিকায়ন চলছে। পূর্বাচলে আরেকটি প্যাকিং হাউস করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই একর জমি দিয়েছেন। সেখানে একটি ল্যাবরেটরিও হবে। এটির সার্বিক পরিকল্পনা শেষ। দ্রুতই এটি একনেকে যাবে। তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।

আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি রফতানির পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য কৃষিপণ্য রফতানিতে আমাদের প্রতিযোগী পাকিস্তান, ভারত ও তুরস্ক। ভারত আলু রফতানি করে। এসব দেশের পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরগুলোতে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের জাহাজ সিঙ্গাপুর হয়ে যেতে হয়। “সম্প্রতি দুবাই বন্দরের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়েছে। সিঙ্গাপুর না হয়ে সরাসরি যেতে পারলে সবজি নিয়ে চার-পাঁচদিনে আমাদের জাহাজ দুবাই যেতে পারবে।”

বিএনপি খুনের রাজনীতির উস্কানি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা সরকার পতনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা। সহিংসতার চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে মোকাবেলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি যখন রাজপথে সোচ্চার ঠিক তখনই পাল্টা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, তখন বিএনপি জামায়াতের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

শান্তি সমাবেশ জনসভায় রূপ নেয়। দুপুর থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্লাকার্ড, ব্যানার ফেস্টুন ও মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়।

সমাবেশে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, দেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। জঙ্গীবাদের পৃষ্টপোষক বিএনপি জামাতকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

আপাতত বিপ্লব বড়ুয়া, মতিয়া জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামায়াতের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিরতিহীনভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।

শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের ১১৩ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাজমুল আলম ওরফে জিম নাজমুলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে তিন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে এবং ১০৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের প্রতিবাদে রাজধানীতে সকাল থেকে সভা সমাবেশে সরব ছিলো আওয়ামী লীগও সহযোগী সংগঠনগুলো। কর্মসূচির নামে যাতে তারা কোন সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য রাজপথে সতর্ক পাহারায় আছে ক্ষমতাসীনরা। সরকার পতনের, বিএনপির যে কোন কর্মসূচি জনগনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন দলের শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির একের পর এক কর্মসূচি প্রতিহত করতে সারাদেশে সোচ্চার আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শান্তি সমাবেশে দলে দলে যোগ দেন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা নেতাকর্মীরা। যোগ দেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। বিএনপির যেকোন নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা রাজপথে মোকাবিলা করার ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা।

তারা বলেন, এক এগারোর কুশিলবরা বিএনপি জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের দেশের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সজাক থাকতে হবে। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। এ সময় বিএনপি জামাতের যেকোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।

নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২ পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে পাস হলো ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ বাজেট পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে ৯ ‍জুন ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংসদে পাস হওয়া এ বাজেট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদ অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনা হয়।


‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মোট ব্যয়ের আকার ধরা হয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

করছাড় প্রাপ্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ৩ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী বছরের জন্য উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।

বরাবরের মতো এবারও বাজেটকে ঘাটতি বাজেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ আসবে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র থেকে আসবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ও বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে দাম বেশি হওয়ায় দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। এমনটাই জনিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই) আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, মূল্য সমন্বয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে এখনও কিছু নির্ধারিত হয়নি।

নসরুল হামিদ বলেন, যেভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়ছে সেটা খুব অস্বাভাবিক। আমাদের চিন্তা করতে হবে এ অবস্থা কতদিন চলবে। বিপিসি প্রতিদিন শতকোটি টাকা লোকসান গুনছে। দাম পরিবর্তন করব কিনা, কোথায় সমন্বয় করব বা আদৌ করব কিনা-এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করছি। এরপর সরকারের কাছে প্রস্তাব করব।

লোকসানের দায় কে নেবে? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমাদের গ্রাহকরা আছেন, যারা জ্বালানি পরিবহন করেন তাদের ওপর কোনো চাপ পড়ুক তাও আমরা চাই না। আমরা চাই সমন্বয় করতে। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিপিসি প্রতিদিন শতকোটি টাকা লোকসান গুনছে। আমরা আসলে কতটা এই লোকসান করব?

‘আমাদের পাশের দেশগুলো দাম সমন্বয় করে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়লে বাড়ায়, কমলে কমায়। আমরা এ মুহূর্তে সেদিকে যাব কি না, সেটা চিন্তার বিষয়। এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে ভারতের সঙ্গে এখন আমাদের তেলের দামের অর্ধেক পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে। সে তুলনায় এখনও আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় আছি। আমরা কতটা বাড়াব সে জায়গাটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। যাত্রীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, পরিবহনে কী প্রভাব পড়বে সব আমাদের ভাবতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম অনেক কম। জুনে বাংলাদেশে ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম যেখানে ৮০ টাকা, সেখানে ভারতে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। একইভাবে পাকিস্তানে ৯৪ টাকা, নেপালে ১১৩ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১০১ টাকা। এছাড়া সবচেয়ে বেশি এখন হংকংয়ে। দেশটিতে ২০৫ দশমিক ৫২ টাকায় ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। (ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য ৯২ টাকা ধরে এ হিসেব করা হয়)। 

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ হাজার ৮৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এ সময় ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

সভায় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন,  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- সড়ক পরিবহন ও  সেতু মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প যথাক্রমে- ‘নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হতে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) ৪ লেনে উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ ২ লেনে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’, ‘বগুড়া শহর থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (এন-৫১৯) (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’।

এছাড়া ‘কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গৌরীপুর-আনন্দগঞ্জ-মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-হোসেনপুর জেলা মহাসড়ক যথাযথমানে উন্নীতকরণ প্রকল্প’, ‘বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’, ‘মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরীগঞ্জ জেলা মহাসড়ক (জেড-২৮০৭)-এর দিরাই শাল্লা অংশ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প’।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি (সংশোধিত ৪৬টি) উপজেলা সদর/স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প’।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প- ‘মর্ডানাইজেশন অব পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন-স্মার্ট গ্রিডস ফেজ ১’ প্রকল্প এবং মডার্নাইজেশন অ্যান্ড ক্যাপাসিটি এনহ্যান্সমেন্ট অব বিআরইবি নেটওয়ার্ক (ঢাকা- ময়মনসিংহ ডিভিশন) প্রকল্প’।

এছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (ষষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) স্থাপন প্রকল্প’।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-২ এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. লিয়াকত আলী মোল্লা পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরাসরি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এই সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, একাউন্টস এন্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট, প্রেষণে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এবং বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসে বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বুধবার (২২ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, লিয়াকত মোল্লা গত ৬ জুন পদোন্নতি লাভ করেন।

ধর্মীয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক সেমিনার , সভা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সৌদি আরব, ভারত এবং থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন।

মোঃ লিয়াকত আলী মোল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার জেঠুয়ামুড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

সরকারের সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপে সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছে বিএফআইইউ এর প্রধান কর্মকর্তা জনাব মোঃ মাসুদ বিশ্বাস।

বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিএফআইইউ এর ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চলতি মাসের ১৮ জুন শনিবার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা, ঢাকায় দিনব্যাপী দু’টি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারের বিকালের সেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির প্রধান অতিথি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ ও এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি) এর চেয়ারম্যান জনাব সেলিম আর. এফ. হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর প্রধান কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ বিশ্বাস এসব কথা বলেন।


অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন সক্ষমতামূলক সূচকে ক্রমাগত উর্ধ্বগামী অবস্থানে বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বাংলাদেশ সরকারের সময়োচিত রাজস্ব নীতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়ক মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ অব্যাহত থাকাকালীন সময়েও দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

এ সময়ে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বা মূলধন যোগানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত অসামান্য ভূমিকা পালন করছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে মূল সংস্থার ভূমিকা পালনকারী ‘বিএফআইইউ’ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা, বিচারিক ব্যবস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগ, রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব জনাব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে একটি সুসংহত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমগুলোকে জাতির সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহবান জানান।

এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ এসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ) ও এসোসিয়েশন অব এন্টি-মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ (অ্যাকব) এর চেয়ারম্যানগণ এবং বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিগণ তাদের বক্তব্যে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ক পরিপালনীয় বিষয়সমূহ তাদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে যথাযথ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এছাড়া, সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক জনাব মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান এবং সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন। বিএফআইইউ এর অতিরিক্ত পরিচালক জনাব কামাল হোসেন তার উপস্থাপনায় বিভিন্ন উন্নত দেশের মিউচ্যুয়াল ইভাল্যুয়েশন রেটিং এর চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের এএমএল/সিএফটি রেটিং অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বেশ ভালো অবস্থানে আছে।

এছাড়া, অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং কেইসের বিচারিক রায়ের সংখ্যা অনেক। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার সম্পর্কিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যালেন্সশীটের দায় ও সম্পদ দুটি দিকই সবার সামনে উপস্থাপনের অনুরোধ করেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে কার্যরত বিভিন্ন অংশীজন মন্ত্রণালয়-বিভাগ-সংস্থার প্রতিনিধিগণ, বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, প্রধান ও উপপ্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা. করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী বিদেশি ব্যাংকের রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসের প্রতিনিধি এবং বিএফআইইউ এর সর্বস্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।