ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা ফোবানার বিলুপ্ত কমিটির চেয়ারম্যান  রেহান রেজা ও এক্সেকিউটিভ সেক্রেটারি মাসুদ রব চৌধুরীকে  গুরুতর সাংগঠনিক অপকর্মের জন্য আজীবনের জন্য ফোবানা থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সাথে সাথে ভাইস চেয়ারম্যান এম. মাওলা দিলু ও জয়েন্ট সেক্রেটারি  নাহিদুল খান সাহেলকে নানা অনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের জন্য ফোবানা থেকে ৫ বৎসরের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে।

গত পহেলা জুন ফোবানার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম এজিএম এর দুই তৃতীয়াংশ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এবং গত ১৩ জুন সোমবার এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয়।

একই সভায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শীকাগোতে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ফোবানা সম্মেলন বাতিল ঘোষণা করে লস এঞ্জেলেসে সম্মেলনটি  আয়োজন করবার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুন) ভোর ৫টায় সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিস্কৃত চেয়ারম্যান রেহান রেজার বিরুদ্ধে আনিত ও প্রমানিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালে সকল চেয়ারম্যানদের মতামত ও অনুরোধ উপেক্ষা করে রেহান রেজা নির্বাচনে অংশগ্রহন করে পরাজিত হওয়ার পর থেকে বিগত বছরগুলোতে ফোবানার ভিতর বিভক্তির সৃষ্টি, স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে জোট বেঁধে গত বছর মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীর সম্মেলন বানচালের ষড়যন্ত্র,সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিষোধাগার, ফোবানার কার্যক্রম পরিচলানায় বাধা প্রদান, ফোবানাকে দুইভাগ করার প্রকাশ্য ঘোষণা, চেয়ারম্যান সিলেক্ট হবার পর থেকে ফোবানার ভিতর নোংরা গ্রুপিং সৃষ্টি করে ফোবানার পুরনো পরীক্ষিত নেতাদেরকে ফোবানা থেকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র, অন্যায় ও অবৈধভাবে ফোবানা থেকে সদস্যদেরকে বাদ দেয়া, উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় সংগঠগুলোকে বাদ দেয়ার নীল নকশা উল্লেখযোগ্য।

বিলুপ্ত করা এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি মাসুদ রব চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত ও প্রমানিত অভিযোগসমুহের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে  সাজাভুক্ত আসামী হওয়া সত্বেও তিনি এই তথ্য গোপন করে ফোবানার ট্রেজারার ও সেক্রেটারি পদে নির্বাচন করা, ট্রেজারার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ৩৬ বছরের এই পুরনো সংগঠনটিকে বিভক্ত করার নোংরা ষড়যন্ত্রের নেতৃত্বে লীপ্ত হওয়া, বিগত তিন বছর ধারাবাহিক ভাবে ফোবানার নির্বাহী কমিটির পাশাপাশি ফোবানার “লাইক মাইন্ডেড গ্রুপ” নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে অবৈধ ও অসাংগঠনিক ভাবে ফোবানার প্যারালাল কার্যক্রম পরিচালনা করা, ফোবানার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সহ অধিকাংশ সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরকে বিভিন্ন সময়ে অপমান অপদস্ত করা, সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যানের রুলিং অমান্য করে নিজের খেয়ালখুশি মত ফোবানার কার্যক্রম পরিচালনা, চেয়ারম্যানের অনুমুতি ব্যতিত ফোবানার ওয়েবসাইট ও সোস্যাল মিডিয়া একাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফোবানার সমস্ত ক্রেডেন্সিয়াল হাইজ্যাক করা উল্লেখযোগ্য।  

এছাড়াও ২০২১ সালের ফোবানা সম্মেলনে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ পালনে বাধা প্রদান, স্পন্সর বাতিল, অবৈধ ও অসাংগঠনিক ভাবে ফোবানা সম্মেলন বাধাগ্রস্থ করা, সম্মেলন বাতিল করার হুমকী সহ সম্মেলনকে আর্থীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা, ২০২১ সালের হোষ্ট কমিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র সহ নানা অভিযোগে ফেডারেল সাজাভুক্ত এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি মাসুদ রব চৌধুরীকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়।

বিলুপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান এম মওলা দিলুর  বিরুদ্ধে আনিত ও প্রমানিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় আদালতে সাজাভুক্ত কিছু ব্যক্তিদের সহ নানা অপশক্তির  ইশারায় ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিষোধাগার, নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সভায় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নাম ধরে কটুক্তি করা,ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সাব কমিটির কর্মকর্তাদেরকে অসাংগঠনিক পন্থায় এককভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি জানিয়ে সাধারন সদস্যদের কাছে ইমেইল প্রদান সহ নানা অপপ্রচারের অভিযোগে ভাইস চেয়ারম্যান দিলু মাওলাকে পাঁচ বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়।

বিলুপ্ত জয়েন্ট এক্সেকিউটিভ সেক্রেটারি নাহিদুল খান সাহেলের বিরুদ্ধে আনীত ও প্রমানিত অভিযোগসমুহের মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ফোবানা সম্মেলনে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ পালনে বাধা প্রদান, কোন সংগঠন না থাকা সত্বেও অর্থের বিনিময়ে ২০১৮ সালে ফোবানা সম্মেলনের সদস্য সচিব হয়ে আজ অবদি ফোবানায় সংযুক্ত থাকা ও মেম্বারশীপ কমিটির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বৈধ সংগঠনগুলোকে ফোবানা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা সম্মেলন বাতিলের হুমকি, সম্প্রতিক সময়ে নির্বাহী কমিটির সভা পরিচালনা করতে গিয়ে সাবেক দুইজন চেয়ারম্যানের মাইক বন্ধ করে ভার্চুয়াল  সভা থেকে বের করে দেয়া, ফোবানা ইমেইল গ্রুপ ও মেসেঞ্জার গ্ৰুপে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন উস্কানিমুলক মেসেজ দেওয়া, ফোবানাকে কর্পোরেট সংগঠনে পরিনত করার চেষ্টায় লীপ্ত হওয়া সহ অসংখ্য অভিযোগে বিলুপ্ত জয়েন্ট এক্সেকিউটিভে সেক্রেটারি নাহিদুল খান সাহেলকে পাঁচ বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়।

এছাড়া ২০২২ সালে শীকাগোতে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ফোবানা সম্মেলনের স্বাগতিক কমিটি ফোবানার সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করে মাত্র ৬৫০ জনের ধারনক্ষমতা সম্পন্ন অডিটরিয়ামে ফোবানা সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রায় আড়াই লক্ষ ডলারের বাজেট ধরে বেপোরোয়া চাঁদাবাজি, আদম ব্যবসা ও মানুষের সাথে প্রতারনা করা সহ নানা অভিযোগে শীকাগো সম্মেলন বাতিল করে লস এঞ্জেলেস এর ছয়টি জনপ্রিয় সংগঠনকে যৌথভাবে ৩৬তম ফোবানা সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। আগামী  সেপ্টেম্বর ২, ৩ ও ৪ তারিখে (লেবার ডে উইকেন্ড) লস এঞ্জেলেসের হোটেল মেরিয়ট বারব্যাংকে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি জাহিদ হোসেন পিন্টু ২১৩-৮০৪-০৫২৩, কনভেনার আবুল ইব্রাহিম ২১৩-৯৪৮-৭৯০৮, সদস্য সচিব সৈয়দ এম হোসেন বাবু ৩২৩-৬৩৫-৮৯৮৩ও কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জমির পলাশ ৯১৩-৪৮৮-৬০২১।

গণমাধ্যম সহ সকলের কাছে ফোবানা নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে যে, ফোবানা নিয়ে বিভ্রান্তির কোন অবকাশ নেই। আইনগত ও সাংগঠনিক ভাবে জনাব আতিকুর রহমান ও ড. রফিক খানের নেতৃত্বাধীন ফোবানাই হচ্ছে ফোবানার মুল সংগঠন। ফোবানা সংক্রান্ত যেকোন তথ্যের জন্য চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ৯৫৪-৮১৮-২৯৭০ ও এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ড. রফিক খান ২৮১-৪৬০-৯১০১ অথবা fobana.info এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী হতে হলে এবার নতুন শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয় এনবিএফআইতে কমপক্ষে ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে প্রধানদের।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা এর আগের পদে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা এমডি হওয়া যাবে।

এছাড়া, স্থিতিপত্রের আকার ১ হাজার কোটি টাকার বেশি নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এবং  বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টরা এমডি হতে পারবেন। তবে তাদের ব্যাংকের কোনো শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে ৫ বছরসহ মোট ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এতে আরও বলা হয়, প্রধান নির্বাহী বা এমডিকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী হতে হবে। অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স কিংবা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

কোনো কোম্পানির চেয়ারম্যান বা পরিচালক বা কর্মকর্তা থাকাকালে বরখাস্তকৃত কেউ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

এছাড়া, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিচালক বা ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়িক স্বার্থ আছে, এমন কেউ প্রধান নির্বাহী বা এমডি পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

নিয়োগের ক্ষেত্রে এনবিএফআইগুলোকে দুটি ইংরেজি এবং দুটি বাংলা জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে।

এছাড়াও, তাদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে যেন যোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান নির্বাহী পদের জন্য আবেদনগুলো থেকে যোগ্যতম প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে আবেদনপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত একটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থাকতে হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সোমবার (২০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করতে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

সুপারিশে গত কয়েক বছরে দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০২১ সালের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ৮ দিনে ৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৮ জনের মৃত্যু হয়। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৭ জন মারা যান।

অন্যদিকে চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের ৮ দিনে ১০৬টি দুর্ঘটনায় ১০৬ জনের মৃত্যু হয়। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তার আগে, ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ৭ দিনে ৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ৮ দিনে ৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৩ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।

বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি জরিপ তুলে ধরে কর্মশালায় বলা হয়, ২০২১ সালে দেশে আগের বছরের চেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ ও মৃত্যু ৫১ শতাংশ বেড়েছে। বিআরটিএ নিজেও মনে করে ঈদুল ফিতরের সময় মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করাই মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। সে কারণেই জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল এর পেছনে বড় একটি কারণ। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। 

গত রোববার (১৯ জুন) বিআরটিএর সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক এক কর্মশালায় এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয় ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি দেখতে সিলেট গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২১ জুন) পৌনে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে করে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

সকাল ৮টায় ঢাকা তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোন এই তিন জেলা পরিদর্শনে রওনা হন।

সিলেট যাওয়ার পথে লো-ফ্লাই মুডে হেলিকপ্টার থেকে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক করবেন তিনি। পরে দুপুর ১টায় সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের রেকর্ড বৃষ্টি চরম দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। মৌসুমের তৃতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ৪০ লাখ মানুষ। বন্যায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে হাহাকার ও আর্তনাদ চলছে।

আশ্রয়ের খোঁজে পানি-স্রোত ভেঙে ছুটছে মানুষ। শিশুরা বাদে বেশি বিপদে আছেন বয়স্করা। আটকেপড়াদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে। যেখানেই শুকনো ও উঁচু জায়গা পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই আশ্রয় নিচ্ছে মানুষ। 

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ৯ টা ৫ মিনিট। এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইট নং G9 510। ল্যান্ড করলো। এরইমধ্যে গোপন এক সংবাদ চলে এলো কাস্টমস গোয়েন্দার দলের কাছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সারজাহ থেকে আগত এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইট নং G9 510 এ একজন যাত্রী চোরাচালানকৃত স্বর্ণ বহন করছে।

সোমবার (২০ মার্চ) এই তথ্যের প্রেক্ষিতে আহমেদুর রেজা চৌধুরী, উপপরিচালক, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর নেতৃত্বে কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল ৬ নং বোর্ডিং ব্রিজের সামনে অবস্থান নেয়।

তারা জানতে পারলেন, এই ফ্লাইটে অবৈধভাবে নিয়ে আসা হয়েছে ২১টি স্বর্ণ বার ও ৯৮ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ২ কেজি ৫৪৫ গ্রাম স্বর্ণ ।

অবশেষ অভিযান। বোর্ডিং ব্রিজ অতিক্রম কালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রিন চ্যানেলে এনে ব্যাগ তল্লাশি ও স্ক্যান করে ২১টি স্বর্ণ বার ও ৯৮ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ২ কেজি ৫৪৫ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় জড়িত মোঃ মানিক মিয়া নামে এক যাত্রীকে আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আটককৃত স্বর্ণের বাজার মূল্য আনুমানিক এক কোটি আশি লাখ টাকা।

অভিযুক্ত যাত্রী মোঃ মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এবং দি কাস্টমস এক্ট ১৯৬৯ এর বিধান অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

অনলাইন উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ২০২২ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সভাপতি শমী কায়সার এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল।

সোমবার (২০ জুন) সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তা পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫টি পদে ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নির্বাচিত হন। নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, যুগ্ন সম্পাদক নাছিমা আক্তার নিশা এবং অর্থ সম্পাদক আসিফ আহনাফ। আসিফ আহনাফ বর্তমান কমিটিতে পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

বিগত ১৮ জুন ২০২২, শনিবার ই-ক্যাবের কার্যনির্বাহী পরিষদ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ৩১ জন প্রার্থীর বিপরীতে পরিচালক পদে ৯ জন নির্বাচিত হন। ৭৯৫ জন ভোটারের মধ্যে ৬১১ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিগত ২৮ মার্চ ২০২২ ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ মার্চ বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে ই-ক্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাপদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচিত পরিচালকদের ৫ জন ভিন্ন ভিন্ন পদের জন্য মনোনয়োন পত্র সংগ্রহ ও জমা করেন। একই পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় আজ নির্বাচন বোর্ড ৫ জনকে বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতায় নির্বাচিত ঘোষনা করেন। সোমবার নির্বাচন বোর্ডের সভা শেষে নির্বাচিতদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

শমী কায়সার নির্বাচিত হয়েছেন ধানসিঁড়ি ডিজিটাল লিমিটেড থেকে ও মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল কমজগৎ টেকনোলজি থেকে। অন্যান্য প্রার্থীরা যথাক্রমে সাহাব উদ্দিন শিপন ডায়বেটিস স্টোর, নাছিমা আক্তার নিশা, রেভারী কর্পোরেশন এবং আসিফ আহনাফ এর প্রতিষ্ঠান ব্রেকব্রাইট।

নির্বাচিত সভাপতি শমী কায়সার বলেন, আমরা বিগত বছরগুলোতে বিশেষ করে কোভিড সময়ে সদস্য এবং ভোটারদের পাশে ছিলাম। এই খাতের উন্নয়নে কাজ করেছি। এই খাতটি শুরু থেকে আজকের অবস্থানে আনার জন্য কাজ করেছি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা রক্ষা করার জন্য আগামী ২ বছর আমি ও আমার টিম কাজ করবো এবং আমরা সবাইকে নিয়ে এই খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৪ জুলাই ২০২২। এর নতুন নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। শমী কায়সারের নেতৃত্বে অগ্রগামী প্যানেল থেকে ৮ জন নির্বাচিত হলেও মোট নির্বাচিতদের ৩ জন নতুন পরিচালক রয়েছেন। অন্যান্যরা বর্তমান কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাবেন সৈয়দা আম্বারিন রেজা, শাহরিয়ার হাসান ও ইলমুল হক সজিব।

চালু হলো ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। সপ্তাহে সাত দিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে রাজশাহী হয়ে ঢাকায় আম পরিবহন করবে ট্রেনটি। প্রতি কেজি আম পরিবহনে খরচ হবে মাত্র এক টাকা ৩১ পয়সা।

যাত্রার প্রথম দিন প্রায় ১০ হাজার কেজি আম নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন।

এবার জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এক মাস আগে থেকে আম বাজারজাত শুরু করেছেন রাজশাহী জেলার ব্যবসায়ীরা। চলতি মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে কিছু জাতের আম এরই মধ্যে ফুরিয়ে গেছে। তাই আরও আগে স্পেশাল ট্রেন চালু হওয়া উচিত ছিল বলে মতামত দেন আম ব্যবসায়ী।

তারা বলেন, এখন ল্যাংড়া ও আম্রপালি ওঠেছে। আমের তো মৌসুম প্রায় শেষ। আম বেশি দিন থাকবে না। গোপাল জাতের আম আমরা ৫ থেকে ৬ দিন বেচেছি। সুতরাং মৌসুমের সময়ে ট্রেন না পাওয়ায় আমাদের লোকসান হয়েছে। আর ১৫ দিন আগে ট্রেনটি দিলে ব্যবসা আরেকটু বেশি ভালো হতো।

তবে আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই ট্রেন চালুর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার। তিনি বলেন, আম চাষিদের কাছ থেকে ধারণা নিয়েই আমরা প্রকৃতপক্ষে ট্রেন ছাড়ার তারিখ নির্ধারণ করেছি। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে আমরা ভবিষ্যতে সেটি শুধরে নেয়ার চেষ্টা করব।

এ ট্রেনে স্বল্প খরচে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা জেলার বাইরে আম পাঠাতে পারবেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পৌঁছাতে খরচ হবে এক টাকা ৩০ পয়সা। সর্বনিম্ন আম পাঠানো যাবে ২০ কেজি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয় রাজশাহীর স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, কৃষকের উৎপাদিত মৌসুমি ফল অনায়াসে ও স্বল্প মূল্যে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্সেল ট্রেনের মাধ্যমে পাঠানোর সুযোগ ‍সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুন) বিকেলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের উদ্বোধন করেন। এর পরপরই পাঁচটি ওয়াগন আম নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে ছেড়ে যায় ট্রেনটি।

আলোকিত হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতু। উদ্বোধনের ১০ দিন আগে জ্বলে উঠলো পরীক্ষামূলক বাতি। উদ্ভাসিত হলো নদীর পাড় ও সেতুর অবকাঠামো। উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় সবগুলো বাতি জ্বালানো হয়। এতে প্রথম একসঙ্গে জ্বলে উঠল ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতুতে থাকা ৪১৫টি বাতি। এর মধ্য দিয়ে দুই প্রান্তসহ মাঝ পদ্মায়ও আলোয় ঝলমলে করে উঠেছিল পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সহকারী তড়িৎ প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সূর্য ডুবে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় সবগুলো বাতি জ্বালানোর মধ্য দিয়ে পুরো পদ্মাসেতু আলোকিত করে তোলা হয়। এর আগে সোমবার সেতুর ৪১৫টি বাতির মধ্যে মাওয়া প্রান্তের ২০৫টি বাতি জ্বালানো হয়েছিল। সপ্তাহখানেক ধরে পর্যায়ক্রমে সব বাতি জ্বালানো হয়।


আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। পরদিন সকাল ৬টা থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দ্বার উন্মোচন হতে চলেছে।


পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সাড়ে ৫টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে আলোয় ঝলমলে করে উঠলো পদ্মা সেতু। মাওয়া প্রান্তের ল্যাম্পপোস্টে একসঙ্গে জ্বলে ওঠে ২০৫টি বাতি।

এর আগে ৫ জুন বিকেলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়। ওই দিন সেতুর ১৪ নম্বর থেকে ১৯ নম্বর পিয়ারের মাঝামাঝি ২৪ ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হয়েছিল। এরপর ১১ জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে বাতি জ্বালানো হয়।


তিনি আরও জানান, মুন্সীগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির দেয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে সোমবার মাওয়া প্রান্তের ২০৫টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হয়েছিল। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে জেনারেটরের মাধ্যমে আলো জ্বালানো হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে পুরো পদ্মা সেতুর ৪১৫টি বাতি জ্বালানো হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মা সেতুতে বৈদ্যুতিক বাতি রয়েছে ৪১৫টি। আর দু’পাশের সংযোগ সড়কে রয়েছে আরও ২০০ বাতি। গত বছরের ২৫ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে প্রথম ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল এসব ল্যাম্পপোস্ট বসানো ও বাতি লাগানোর কাজ শেষ হয়

ভাসমান মানুষ গণনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেশের ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) মধ্যরাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের তথ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই শুমারির কাজ।

এবারই প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে শুমারির কাজ। ব্যবহৃত হচ্ছে ট্যাব ও সফটওয়্যার।

প্রতিদিন সকাল থেকে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোট ৪৫টি প্রশ্নের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সারাদেশে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহে কাজ করছেন ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন কর্মী।

জনশুমারিতে শুধু পরিসংখ্যানই নেয়া হবে। অন্য কোন বিষয় নেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ফল উৎপাদনে বিশ্বে সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এ মুহূর্তে বিশ্বে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড বাংলাদেশের, বছরে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বাড়ছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়, আমে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, পেঁপেতে ১৪তম স্থানে আছে বাংলাদেশ। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে তা পরিচিত করতে অন্যান্য বছরের মতো এবারো আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় ফল মেলার। এ বছর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ চত্বরে আগামী ১৬ জুন থেকে জাতীয় ফল মেলা শুরু হবে। মেলা চলবে ১৮ তারিখ পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বছরব্যাপী ফল চাষে, অর্থ পুষ্টি দুই-ই আসে’। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নিত্যনতুন ফল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ সফলতা পেয়েছে। ২০ বছর আগে আম আর কাঁঠাল ছিল এই দেশের প্রধানফল। এখন বাংলাদেশে ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে, যা আগে হতো ৫৬ প্রজাতির ফল চাষ।

কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জাতীয় ফল মেলার বিষয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০০৮-০৯ সালে দেশে ফলের উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি টন, আর বর্তমানে ফলের উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টন। বিগত ১২ বছরে ফলের উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু দানাজাতীয় শস্য গ্রহণের পরিমাণ কমেছে এবং মাথাপিছু ফল গ্রহণের পরিমাণ বেড়েছে।

মন্ত্রী জানান, গত ২ বছর করোনা মহামারির কারণে জাতীয় ফল মেলা করা সম্ভব হয় নি। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ফল চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে এবং রাসায়নিকমুক্ত বিভিন্ন জাতের ফল ক্রয় করতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আম,লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন দেশি ফলের প্রদর্শনীর মাধ্যমে মেলায় অংশগ্রহণ করবে।

বর্তমানে একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ফলের চাহিদা ২০০ গ্রামের বিপরীতে প্রাপ্যতা হলো ৮৫ গ্রাম। সেজন্য ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশসম্মত নিরাপদ ফল উৎপাদনেও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের বিজ্ঞানীরা দেশে চাষোপযোগী ৩০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলের ৬৫টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। দেশীয় ফলের সাথে স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, ড্রাগনফল, এভোকেডো প্রভৃতি বিদেশী ফলের চাষে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দেশের পাহাড়ি অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় কাজুবাদাম ও কফি চাষের সম্প্রসারণ হচ্ছে।

দেশে প্রায় ৩ কোটি ২১ লক্ষ বসতবাড়ির অধিকাংশ বাড়িতে অবহেলা ও অযত্নে ফল গাছ জন্মে থাকে। এগুলোর বেশির ভাগই স্থানীয় অনুন্নত জাত এবং বীজ থেকে উৎপন্ন বিধায় এদের ফলন অত্যন্ত কম। এখানে উন্নত জাতের ফলের চাষ সম্প্রসারণে কাজ চলমান আছে।

ফলের উৎপাদন রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) মেনে উৎপাদন, ফল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, রপ্তানি উপযোগী জাতের ব্যবহার, আধুনিক প্যাকিং হাউজ নির্মাণ, অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব স্থাপনসহ নানান কাজ চলমান আছে বলে ব্রিফিংয়ে জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৯০ মেট্রিক টন আম ও ৮ টন লিচু রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় ফল উৎপাদনে প্রত্যাশিত অগ্রগতিতেও বিদেশি ফলের আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে মোট আমদানি ফলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুরের দখলে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি করতে হয়েছে ৮ লাখ ২৪১ মেট্রিক টন। তবে দেশেও এখন সীমিত পরিসরে কমলা ও মাল্টার চাষ হচ্ছে।