ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ রাতে এক ঐতিহাসিক থ্রিলারের সাক্ষী হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ইংল্যান্ডকে মাত্র ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। মোট ৪৯৯ রানের এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে।

ভারত প্রথমে ব্যাট করে ২৫৩/৭ স্কোর করে, যা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সর্বোচ্চ। জবাবে ইংল্যান্ড ২৪৬/৭-এ থেমে যায়। সঞ্জু স্যামসনের ৪২ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠে।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারত টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পৌঁছাল। ২০২৪-এর চ্যাম্পিয়নরা এখন আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ওয়াংখেড়ের এই ম্যাচ ছিল রানের উৎসবের মতো। ৩৪টি ছক্কা এবং অসংখ্য চারে ভরা এই লড়াইয়ে দুই দলই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতের ডেথ বোলাররা—জসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া—নার্ভ ধরে রেখে জয় ছিনিয়ে নেয়।

ইংল্যান্ড টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের ওপেনিং জুটি দ্রুত ভেঙে যায়, কিন্তু সঞ্জু স্যামসন ঝড় তুলে দেন। ১৫ রানে জীবন পেয়ে তিনি ১২টি চার ও কয়েকটি ছক্কায় ৮৯ রান করেন। শিবম দুবে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। শেষদিকে হার্দিক ও তিলক ভার্মার ক্যামিও ভারতকে ২৫০ পার করায়। উইল জ্যাকস ২/৪০ নিলেও ইংল্যান্ডের বোলাররা চাপ সামলাতে পারেনি।

জবাবে ইংল্যান্ডের চেজিং শুরু হয় জোস বাটলার ও ফিল সল্টের আক্রমণে। কিন্তু বুমরাহ ও হার্দিকের স্পেলে তারা ধাক্কা খায়। জ্যাকব বেথেলের ১০৫ রানের সেঞ্চুরি (দ্রুততম বলে) ম্যাচকে রোমাঞ্চকর করে তোলে। শেষ ওভারে ৩০ রান দরকার ছিল, জোফরা আর্চার দুটি ছক্কা মারলেও শিবম দুবের ওভারে ২২ রান উঠে ভারত ৭ রানে জয় পায়।

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল ও সহজলভ্য করে তোলা, যাতে গ্রামের মানুষও আধুনিক চিকিৎসা পান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হবে, যা হাসপাতালে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা দেখতে পাবেন। এতে ভুল চিকিৎসা কমবে, ওষুধের অপচয় রোধ হবে এবং সরকারি সুবিধা যথাযথভাবে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে পরিত্যক্ত সরকারি ভবনগুলোকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রূপান্তরের। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অব্যবহৃত ভবন চিহ্নিত করে সেগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসতে হবে। এলজিইডিরই পরিত্যক্ত ভবনের সংখ্যা ১৭০টি। এছাড়া অন্যান্য সংস্থারও অনেক ভবন রয়েছে যা বছরের পর বছর খালি পড়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ভবনকে ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা কমিউনিটি হেলথ সেন্টার হিসেবে গড়ে তুললে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা অনেকটা উন্নত হবে।

এই উদ্যোগ নতুন সরকারের স্বাস্থ্য খাতে প্রথম বড় পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-হেলথ কার্ড চালু হলে বাংলাদেশ ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক ধাপ এগিয়ে যাবে। অনেক দেশে এমন কার্ডের মাধ্যমে রোগীর ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়, যা চিকিৎসায় সহায়ক।

পরিত্যক্ত ভবন ব্যবহারের ধারণাটিও বাস্তবসম্মত। বাংলাদেশে সরকারি সম্পদের অপচয় একটি পুরনো সমস্যা। এসব ভবন মেরামত করে স্বাস্থ্য কেন্দ্র করলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের খরচ কমবে। গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাড়লে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু কমবে এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা বাড়বে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জোর দেন যে, সেবা দ্রুত ও স্বচ্ছ হতে হবে। এই বৈঠক নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডের দিক নির্দেশ করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র চার দিনের মধ্যে ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। এই সংঘাত ওয়াশিংটনকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে, যা আঞ্চলিক শান্তিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে খামেনির হত্যার পর। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহভাজন হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

এর ফলে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। এই হামলাগুলো ইরানের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পরিচালিত হয়েছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে। এখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস-১৩২ আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এই রাডারটির মূল্য প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নজরদারির মূল স্তম্ভ ছিল। কাতার সরকারের একটি সূত্র এই ধ্বংসের খবর নিশ্চিত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় কেন্দ্র, যেখানে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া, ইউএইর আল-রুওয়াইস এলাকায় অবস্থিত থাড (টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের রাডারটিও ইরানের নিখুঁত আঘাতে গুঁড়িয়ে গেছে। এই সিস্টেমটির মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই ধ্বংস যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গভীর ফাটল তৈরি করেছে। অন্যান্য ঘাঁটিতে যেমন কুয়েতের আলি আল-সালেম এয়ারবেস এবং বাহরাইনের শেখ ইসা এয়ারবেসে বিমান, ড্রোন এবং লজিস্টিক সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে, যার মোট মূল্য বাকি ৪০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

এই সংঘাতের পটভূমিতে মনে পড়ে যায়, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়া, তারপর ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যা—এসব ঘটনা এই যুদ্ধের বীজ বপন করেছে। খামেনির হত্যা এই দ্বন্দ্বকে চরমে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন এই ক্ষয়ক্ষতির খবর স্বীকার করে বলেছে, তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই চার দিনে মার্কিন সেনাদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, এটি তাদের প্রতিরোধের শুরু মাত্র। আঞ্চলিক দেশগুলো যেমন সৌদি আরব ও ইসরায়েলও এই যুদ্ধের ছায়ায় পড়েছে।

ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

শ্রীলঙ্কার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানানোর পর রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার সকালে গালে বন্দরের কাছে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা ঘটে। জাহাজটির নাম আইআরআইএস ডেনা (IRIS Dena), যা মৌজ ক্লাস ফ্রিগেট। জাহাজটি সম্প্রতি ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত মিলান-২০২৬ নৌ মহড়ায় অংশ নিয়ে ইরানের দিকে ফিরছিল।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানায়, জাহাজে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন। বিপদ সংকেত পাওয়ার পর লঙ্কান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮০-এর বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করে বলেন, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার কোনো শত্রু জাহাজকে টর্পেডো দিয়ে ডুবানোর ঘটনা। তিনি এটিকে ইরানের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত অভিযানের অংশ বলে উল্লেখ করেন। হামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় হয়েছে, যা ইরানি জাহাজকে নিরাপদ ভেবে চলাচল করতে দিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রীলঙ্কার মতো নিরপেক্ষ দেশের কাছাকাছি এমন হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করেছে। ভারতের নৌবাহিনীর সঙ্গে সম্প্রতি যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়া জাহাজের এই পরিণতি দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র জানান, উদ্ধার অভিযান চলছে। গালে হাসপাতালে উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। লঙ্কান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনা ইরানের নৌশক্তির ওপর বড় ধাক্কা। আইআরআইএস ডেনা ইরানের আধুনিক ফ্রিগেটগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ও টর্পেডো দিয়ে সজ্জিত। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা ইরানের নৌবাহিনীকে আরও সতর্ক করে তুলবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে একে বারে ধসিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেনের ঝড়ো ৩৩ বলের সেঞ্চুরিতে মাত্র ১২.৫ ওভারে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল কিউইরা।

ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার (৪ মার্চ) প্রোটিয়াদের ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টিম সেইফার্ট ও অ্যালেনের উদ্বোধনী জুটিতে ম্যাচের রং বদলে যায়।

এই জয় নিউজিল্যান্ডের জন্য ঐতিহাসিক। ফিন অ্যালেনের ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি। ১০টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে প্রোটিয়া বোলাররা যেন কোনো উত্তর খুঁজে পাননি।

অ্যালেনের সঙ্গে টিম সেইফার্টের ৮৪ রানের পাওয়ারপ্লে জুটি ম্যাচের ভাগ্য একেবারে ঘুরিয়ে দেয়। সেইফার্ট ৫০+ রান করে আউট হলেও অ্যালেন অপরাজিত থেকে জয়ের কাজ শেষ করেন। রাচিন রবীন্দ্রও অপরাজিত ১৩ রান করে সঙ্গ দেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৬৯/৮ সংগ্রহ করে। মার্কো জ্যানসেনের ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস ছাড়া প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপে কেউই বড় স্কোর গড়তে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা, বিশেষ করে ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন ও জেমস নিশাম, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রোটিয়াদের চাপে রাখেন। অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ও কুইন্টন ডি ককের মতো তারকারা ব্যর্থ হন।

নিউজিল্যান্ড টস জিতে প্রথমে বোলিং নেয়, যা পরে কাজে লাগে। মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বে কিউইরা এই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের উদ্বোধনী জুটি গ্রুপ স্টেজ থেকেই বিপজ্জনক ছিল, কিন্তু সেমিফাইনালে তারা একেবারে অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। অ্যালেনের এই ইনিংসকে অনেকে টি-টোয়েন্টির নতুন যুগের শুরু বলছেন—যেখানে ব্যাটসম্যানরা লক্ষ্যকে ছোট করে দেখেন।

প্রোটিয়াদের জন্য এটি আরেকটি হতাশার সেমিফাইনাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা এখনো ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি, এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে তাদের ৫-০ রেকর্ডও ভেঙে গেল। মার্কো জ্যানসেনের বোলিং ও ব্যাটিং দুটোতেই চেষ্টা ছিল, কিন্তু অ্যালেনের ঝড়ের সামনে সবকিছু ফিকে হয়ে যায়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ক্যাম্পাসে বুধবার বিকেলে এক ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হয়েছেন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন।

থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে ঘটেছে এই দুঃখজনক ঘটনা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গেলে বলতে হয়, বিকেল চারটার দিকে ক্যাম্পাসের ওই ভবনে আকস্মিকভাবে এই হামলা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।

তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ঈমাম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, হাসপাতালে আনার সময় তিনি জীবিত ছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণ পরই মারা যান।

একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ফজলুর রহমান, যিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন কর্মচারী। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আরএমও হোসেন ঈমাম জানান, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন, এবং তাঁকে অস্ত্রোপচার কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁর জীবন রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আঘাতের তীব্রতা দেখে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুর্লভ, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, আসমা সাদিয়া রুনা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, যিনি সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা শোকাহত। ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে গুজব যে, এই হামলার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে, যদিও পুলিশ এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট মোটিভ নিশ্চিত করেনি।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি, যা তদন্তকে জটিল করে তুলেছে। কুষ্টিয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেছেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তার অভাবকে আবারও সামনে তুলে ধরেছে, যেখানে শিক্ষকরা প্রায়ই অসুরক্ষিত বোধ করেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মনে পড়ে যায়, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাত বা সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির কারণে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসবের পিছনে মূলত ছাত্র সংগঠনের দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত বিবাদ বা মাদকের প্রভাব থাকতে পারে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে যদিও কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের খবর নেই, তবু এটি একটি সতর্কবার্তা।

সরকার একটি মন্ত্রণালয় ও তিন বিভাগে সাবেক চার কর্মকর্তাকে এক বছরের চুক্তিতে সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. শহীদুল হাসানকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, রফিকুল আই মোহাম্মদকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আবদুল খালেককে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে তারা দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক রাখা যাবে না। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাই দীর্ঘদিন সরকারি প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অবসরোত্তর সময়ে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। স্থানীয় সরকার, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই চার খাত বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সেবা সম্প্রসারণ এবং নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বিশেষ করে স্থানীয় সরকার বিভাগে চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থাপনা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও সেবা মানোন্নয়ন—এসব ক্ষেত্রেই কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন সচিবরা দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব খাতে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক গতি বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত বা বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফিরিয়ে আনা হলে তা চলমান প্রকল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়। তবে একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান তার প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৪টি দেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত সরে যেতে সতর্কবার্তা জারি করেছে।

জেনেভায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে আলী বাহরেনি বলেন, “এই আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবো।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল—তেহরান নিজেদের সামরিক তৎপরতাকে আক্রমণ নয়, বরং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করছে। চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশের সামরিক ঘাঁটি যদি অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেগুলো বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে।

ইরানের এই অবস্থানের পাল্টা প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, “গুরুতর ঝুঁকির” কারণে ১৪টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থায় দেশত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিই এ সতর্কবার্তার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই পাল্টাপাল্টি বার্তা কি সরাসরি সামরিক সংঘাতের পূর্বাভাস, নাকি চাপ সৃষ্টির কৌশল? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক হুমকি ও নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান—দুটি পদক্ষেপই সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা জোরদার করে। একই সঙ্গে এগুলো আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থান নেওয়ার কৌশলও হতে পারে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে, তেহরানের সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

ইরানে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের এক রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তিনি বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং যেকোনো হামলার জবাব শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই আসত—এই আশঙ্কা থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন আগাম পদক্ষেপ নেয়।

ক্যাপিটলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও মন্তব্য করেন, “এটা অনেকটা স্পষ্ট ছিল যে ইরানে কেউ হামলা করলে—সে যুক্তরাষ্ট্র হোক, ইসরায়েল হোক বা অন্য কেউ—তাদের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আসত।” তাঁর ভাষ্যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এমন এক বাস্তবতা, যা প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়াকে প্রায় অনিবার্যভাবে আমেরিকার দিকে ঠেলে দেয়।

ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। সেই বিস্ময়ের জবাব দিতেই রুবিওর এই ব্যাখ্যা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সিআইএর পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন। যদিও শুনানিটি ছিল রুদ্ধদ্বার, তবু পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রশাসনের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট হয়।

রুবিওর যুক্তি হলো—ইসরায়েল যদি একতরফাভাবে হামলা চালাত, তেহরান তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বা সেনাদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারত। ফলে সংঘাত যেভাবেই শুরু হোক, তার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ফেলতই। তাই আগাম হামলা ছিল “ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত”—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

তবে কংগ্রেসে এ ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। জ্যেষ্ঠ কয়েকজন সদস্য প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ কতটা সাংবিধানিক। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধে বাধ্য করার আহ্বান জানানো হতে পারে। যদিও রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সমর্থকেরা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য আঘাতের আগেই আঘাত হানা প্রতিরক্ষামূলক কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেলসহ দেশের সব ধরনের রেলসেবায় ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তবে সুবিধাটি কার্যকর করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

সচিবালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী ও প্রবীণদের যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর যাত্রীচাহিদা বেড়েছে, ফলে ভাড়া-সুবিধা প্রসারিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বর্তমানে ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কেনার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে আলাদা একটি অপশন থাকবে। যাত্রী যদি ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী হন, তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। অনবোর্ড বা ট্রেনে ওঠার পরও আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৈধ ছাত্র পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক থাকবে। একইভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, “ডিজেবল পিপলদের জন্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কার্ড রয়েছে। সেটি দেখালেই ছাড় প্রযোজ্য হবে।”

মুক্তিযোদ্ধারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গণপরিবহনে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। বর্তমানে শহর ও শহরতলির বহু প্রবীণ নাগরিক চিকিৎসা, সামাজিক কার্যক্রম বা পারিবারিক প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ভাড়া ছাড় তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও শিক্ষা-সম্পর্কিত যাতায়াত খরচ কিছুটা কমবে।