যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের মুখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মাত্র দশ দিনের মধ্যে দেশটির বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া হয়েছে, যিনি মোজতবাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। চলমান যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই পদক্ষেপ ইরানের কট্টরপন্থী শক্তির দৃঢ়তা প্রকাশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন, যা এই যুদ্ধের সূচনা করে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা প্রায় চার দশক ধরে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ঢেউ ওঠে, এবং বিশেষজ্ঞ পর্ষদ দ্রুত উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

মোজতবা খামেনি, ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে কাজ করেছেন। তিনি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন এবং কট্টর ধর্মীয় মতাদর্শের প্রতি অঙ্গীকারের জন্য পরিচিত। তাঁর বাবার শাসনামলে তিনি প্রায়শই পটভূমিতে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন যুদ্ধের মাঝে তাঁর উত্থান কট্টরপন্থীদের জন্য একটি বড় জয়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে।

এই নিয়োগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রত্যাখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মোজতবাকে ‘লাইটওয়েট’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এমনকি যেকোনো নতুন নেতৃত্বকে হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব এটিকে ‘শত্রুর ঘৃণা’ হিসেবে দেখে নিয়োগকে আরও জোরদার করেছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েলও সতর্ক করে বলেছে, নতুন নেতা এবং তাঁকে নিয়োগকারীদের ওপর নজরদারি চালানো হবে।

চলমান যুদ্ধে এই পরিবর্তনের প্রভাব গভীর হতে পারে। ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। নতুন নেতার অধীনে কট্টরপন্থী নীতি অব্যাহত থাকলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চাল, ডাল, সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম হঠাৎ লাফ দিয়ে ওঠায় ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে। জানুয়ারির ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে এক মাসের ব্যবধানে এই খাতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রোববার এ তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, সার্বিক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠেছে, যা ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিবিএসের তথ্য অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি জানুয়ারির ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের একই মাসে (ফেব্রুয়ারি ২০২৫) এটি ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতির এই উল্লম্ফন মূলত চাল, ডাল, সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বৃদ্ধির কারণে। বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে, সবজির দাম অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হয়েছে, মাছ-মাংসের দামও অস্বাভাবিকভাবে চড়া। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের খরচের চাপ বেড়েছে।

এই বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও সারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া, মৌসুমি সরবরাহের ঘাটতি এবং স্থানীয় বাজারে কিছু মজুতদারির প্রভাব। রমজানের আগে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও চড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেকে উদ্বিগ্ন। গত ১০ মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত বছরের ফেব্রুয়ারির ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়েছে। অ-খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়েছে, যা পোশাক, পরিবহন, বাসা-ভাড়া ইত্যাদি খাতে প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশকে সব নারী ও কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ দেশে পরিণত করা হবে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তার প্রতি সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অধিকার। ন্যায়বিচার। কর্ম’কে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অদম্য মনোবলই নারীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়ার নারীশক্তি ছিল তার অটল দৃঢ়তায়, আর নেতৃত্বের শক্তি ছিল অপরিসীম সাহসে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় তার অবদানকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে স্মরণ করে তিনি বলেন, এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নারীরা যখন এগিয়ে যাবেন, জাতিও তখন এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং নারীর নিরাপত্তা ছাড়া উন্নয়নের সুফল অর্জন অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন। ডা. জুবাইদা রহমান সততা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার নিয়ে নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সম্মান নিশ্চিত হলে পরিবার থেকে শুরু করে জাতীয় উন্নয়নের পথ সুগম হয়।

এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের নারীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নারী ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিশেষ জোর দিচ্ছে। ডা. জুবাইদা রহমানের এই আশাবাদ অনেকের কাছে প্রতিশ্রুতিশীল মনে হলেও, বাস্তবায়নের পথে রয়েছে সামাজিক রক্ষণশীলতা, আইনি জটিলতা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বাধা। তবু তার কথায় ফুটে উঠেছে একটি সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন, যেখানে নারীরা ভয়মুক্ত হয়ে বাঁচতে পারবে।

অনুষ্ঠানে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি উদ্যোগ। ডা. জুবাইদা রহমান এই সম্মানিত নারীদের সঙ্গে ছবি তুলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা এখনো হয়নি। পরিষদের সদস্য আহমাদ আলামোলহোদা বলেছেন, ভোট হয়েছে, নেতা নির্ধারিত হয়েছেন এবং শিগগিরই নাম প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণা যুদ্ধাবস্থায় ইরানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর থেকে ইরানে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন, যা ১৯৮৯ সাল থেকে চলা তার ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর সংবিধান অনুসারে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাউন্সিল দায়িত্ব গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছে। পরিষদের সদস্য মোহসেন হেইদারি আলেকাসির বলেছেন, নির্বাচিত ব্যক্তি এমন হবেন যাকে ‘শত্রু’ ঘৃণা করে—এটি ইঙ্গিত করে যে নির্বাচন যুদ্ধকালীন প্রতিরোধের মনোভাবকে প্রাধান্য দিয়েছে।

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি নাম উঠে এসেছে মোজতাবা খামেনির। ৫৬ বছর বয়সী এই মধ্যম স্তরের কঠোরপন্থী ধর্মীয় নেতা দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন। বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এবং ক্লেরিক্যাল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। খামেনির ছেলে হিসেবে তার উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে—কারণ ১৯৭৯-এর বিপ্লব রাজতন্ত্র উল্টে দিয়েছিল, এবং পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকারকে অনেকে ‘রাজতান্ত্রিক’ বলে দেখেন। তবু যুদ্ধের চাপে দ্রুত স্থিতিশীলতার জন্য এই পছন্দকে অনেকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক চাপও এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতাবাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং নেতা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা দাবি করেছেন। এর জবাবে ইরানি ক্লেরিকরা বলছেন, ‘বড় শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) যার নাম নিয়েছে, সেই ব্যক্তিই সম্ভবত নির্বাচিত। ইসরায়েলও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকে তারা লক্ষ্য করবে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নেতার ঘোষণা যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল ওরফে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন। তার সঙ্গে সহযোগী আলমগীর হোসেনকেও আটক করা হয়েছে।

রোববার ভোররাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) এই অভিযান চালায়। এ ঘটনা দীর্ঘ তিন মাসের পলাতক জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ আইনি প্রক্রিয়ার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফয়সাল করিম মাসুদের খোঁজে ছিল বাংলাদেশ পুলিশ। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল আরোহী হামলাকারীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ফয়সাল করিম মাসুদকে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে শনাক্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অভিযোগপত্রে ফয়সালকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যার পর ফয়সাল ও আলমগীর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। স্থানীয় সহায়তায় তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। গত কয়েক মাসে তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর পর অবশেষে বনগাঁওয়ে ফিরে আসেন—সম্ভবত বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশের পরিকল্পনা নিয়ে। এসটিএফের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ভারতীয় আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

এই গ্রেফতার বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির খবর। হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফয়সালের গ্রেফতারে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। তার মালিকানাধীন অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একপর্যায়ে তার ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে ৬৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ হয়, এবং লেনদেনের পরিমাণ ১২৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় বলে তথ্য উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে অপরাধমূলকভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং মানহানির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

আজ রোববার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযুক্তকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন। এ ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনের ক্ষতচিহ্নগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

মামলার বাদী বিএনপির রমনা থানা সভাপতি আশরাফুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০৩ ও ৫০৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধারাগুলো মানহানি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং ইচ্ছাকৃত অপমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাদী দাবি করেছেন, নির্বাচনের পর থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ ফেসবুকে এমন কিছু পোস্ট প্রকাশিত হয়, যা বাদী দেখে মামলার সিদ্ধান্ত নেন।

এই মামলার পটভূমি গড়ে উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন, যেখানে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লড়াই করেন। ফলাফলে মির্জা আব্বাস প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। নির্বাচনের আগে ও পরে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলে। পাটওয়ারী একাধিকবার ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলেন। এমনকি তিনি মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদনও করেন। অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারের সময় পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে, যার জন্য তিনি মির্জা আব্বাস ও তারেক রহমানের অনুসারীদের দায়ী করেন।

এই পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে মানহানির মামলা এখন আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় যোগ করল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপির উত্থান এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে প্রতিযোগিতার প্রতিফলন। নির্বাচনের পর এনসিপি নেতারা বারবার সরকার ও বিএনপির সমালোচনা করে আসছেন, যা ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।

শনিবার ছুটির দিন হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শপথ নেওয়ার পর এটি টানা তৃতীয় শনিবার যখন তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে কাজ করলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও কার্যালয়ে ছিলেন।

এই ঘটনা নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডের একটা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করেছে। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত সরকার, যা ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে ক্ষমতায় এসেছে। শপথের পর প্রথম সপ্তাহেই তিনি কার্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, ছুটির দিনও কাজের দিন—যদি দেশের প্রয়োজন হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই অভ্যাস অনেকের কাছে নতুনত্ব এনেছে। অতীতে শনিবার ছুটির দিন হিসেবে পরিচিত ছিল, বিশেষ করে সরকারি অফিসে। কিন্তু তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তিনি কর্মক্ষমতা ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সূত্র জানায়, এদিন তিনি জনপ্রশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং শিক্ষা খাতের প্রাথমিক পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চান যে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কোনো বিলম্ব যেন না হয়। ছুটির দিনেও কাজের এই ধারা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সবকিছু স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।”

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং জনকল্যাণমুখী সংস্কারের কথা বলেছে। শপথের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর এমন কর্মতৎপরতা দেখে অনেকে বলছেন, এটি একটা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুরু। অতীতে সরকারি কার্যালয়ে ছুটির দিনে নীরবতা থাকত, কিন্তু এখন আলো জ্বলছে, বৈঠক চলছে—যা জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ দলীয় নেতা-কর্মীদেরও উদ্বুদ্ধ করবে। দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশে ফিরে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান এখন প্রমাণ করতে চান যে, তিনি শুধু নেতা নন, একজন কর্মীও। এদিনের অফিস কর্মকাণ্ডে উপস্থিত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “এটা শুধু অফিস করা নয়, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৭ মার্চ) তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত’ হানা হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে এবং আর হামলা চালাবে না।

এই হুমকি এসেছে যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা তীব্রতর হচ্ছে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশীদের প্রতি অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের পোস্টে স্পষ্ট যে, তিনি ইরানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবিরাম চাপের ফল বলে মনে করছেন। তিনি লিখেছেন, “ইরান আজ কঠোরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হবে! ইরানের খারাপ আচরণের কারণে এমন এলাকা ও গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ থেকে ‘লুজার’-এ পরিণত হয়েছে এবং এটি দশকের পর দশক চলবে যতক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।

এই হুমকির পেছনে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য। পেজেশকিয়ান শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আক্রমণ না এলে আর হামলা চালাবে না ইরান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে, যেখানে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এই নির্দেশ দিয়েছে। তবে তিনি ট্রাম্পের ‘আনকন্ডিশনাল সারেন্ডার’ দাবিকে ‘কবরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দেন।

যুদ্ধ শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ দিয়ে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইসহ শীর্ষস্থানীয় কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। ইরান প্রতিশোধে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যা অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। শনিবার ভোরে তেহরানে বিস্ফোরণের খবর এসেছে; ইসরায়েল ৮০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্পের এই পোস্ট যুদ্ধকে আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কথা বলেছেন, যা বেসামরিক এলাকা বা নতুন গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রতিবেশীদের প্রতি শত্রুতা নেই, কিন্তু মার্কিন ঘাঁটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আক্রমণ না এলে আর কোনো হামলা চালাবে না ইরান। শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এই নীতির অনুমোদন দিয়েছে বলে তিনি জানান। সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে প্রতিবেশীদের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও একটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।

এই ঘোষণা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিনে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে—যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন—মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, কারণ সেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এতে বেসামরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তেহরান এখন অঞ্চলের রোষ থেকে বাঁচতে চায় এবং যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত হতে দিতে চায় না। তিনি একটি প্রাক-রেকর্ডেড ভাষণে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাই যারা আমাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “আমরা দুঃখিত যে প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে হামলা করতে হয়েছে। কিন্তু এর জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো। আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই।” এই বক্তব্যে ইরানের দ্বৈত নীতি ফুটে উঠেছে—একদিকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান, অন্যদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ‘আনকন্ডিশনাল সারেন্ডার’ দাবিকে “কবরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, আইআরজিসি সদর দপ্তর এবং অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। ইরান প্রতিশোধে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা করে, যা অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এখন ইরানের এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ ডি-এসকেলেশনের চেষ্টা বলছেন, আবার কেউ বলছেন এটি চাপের মুখে পিছু হটা। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের অনুমোদন দেখিয়ে দেয় যে, এটি শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শনিবার জানিয়েছে, তারা ইরানের সরকারি অবকাঠামোতে আরও এক দফা সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। এতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই হামলা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

বিএনপি জাতীয় সংসদের পুরনো নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন, গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন সংসদ অধিবেশন দেখে জাতি স্বস্তি পাবে এবং বলবে—এমন সংসদই তারা দীর্ঘদিন ধরে দেখতে চেয়েছিল।

এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন খুব কাছে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি এখন সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। অনেক নতুন সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করছেন। তাদের জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মশালায় সংবিধান, সংসদীয় নিয়মাবলি, বিল-বাজেট পর্যালোচনা, স্থায়ী কমিটির কার্যপ্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারিক রহমান নিজে উদ্বোধন করেছেন এই কর্মসূচি।

সালাহউদ্দিন আহমদের কথায় স্পষ্ট যে, বিএনপি অতীতের সংসদীয় অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদকে অনেকে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ বা ‘একদলীয় আলোচনার মঞ্চ’ হিসেবে দেখে এসেছে। বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ, হট্টগোল, ওয়াকআউট—এসবের কারণে সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা কমেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নেতিবাচক চক্র ভাঙতে হবে। নতুন সংসদে আলোচনা হবে গঠনমূলক, বিতর্ক হবে যুক্তিভিত্তিক এবং সিদ্ধান্ত হবে জনকল্যাণমুখী। তিনি যোগ করেন, “জাতি এখন এমন একটি সংসদ দেখতে চায় যেখানে সব দলের কথা শোনা হয়, যেখানে সমালোচনা হয় সম্মানের সঙ্গে এবং যেখানে দেশের স্বার্থ সবার ওপরে।”

এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুধু নিয়মকানুন শেখানোর জন্য নয়, বরং একটা নতুন মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়াস। প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য এটি একটা সুযোগ—তারা শিখছেন কীভাবে সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন করা যায়। অভিজ্ঞ নেতা, সাবেক আমলা ও শিক্ষাবিদরা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।