দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে। ফলে কোনো ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই, এবং জনগণকে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়ে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় গুজবে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

মন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের জ্বালানি খাতে একটা স্বস্তির হাওয়া বয়ে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ চেইনের সমস্যার কারণে তেলের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশে এর প্রভাব পড়েছে, যা ফলে পাম্পে তেলের সরবরাহ নিয়ে কিছু গুজব ছড়িয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেছেন, “দেশের মজুত এমন পর্যায়ে রয়েছে যা চাহিদা পূরণ করতে যথেষ্ট। আগামী দিনগুলোতে আরও সরবরাহ আসছে, তাই আতঙ্কের কোনো সুযোগ নেই।” তাঁর এই কথা জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনীতি মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বছরে প্রায় ৮০ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আসে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। সাম্প্রতিককালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মতো ঘটনা এবং ওপেকের সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন খাতে চাপ পড়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিয়মিত মজুত পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমদানি চুক্তি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী জাহাজ দুটিতে প্রায় ৫০ হাজার টন তেল থাকবে, যা দেশের চাহিদা আরও মজবুত করবে।

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের গুজব প্রায়ই অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরের শেষ দিকে একই ধরনের গুজবে পাম্পে লম্বা লাইন পড়েছিল, যা অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের ফল। কিন্তু এবার সরকারের সময়োচিত ঘোষণা সেই পথ রুখে দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. রহমান আলী বলেন, “মজুতের সঠিক তথ্য প্রকাশ করে সরকার জনগণের আস্থা বজায় রাখছে। এটি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।” তবে তিনি যোগ করেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সৌর এবং বায়ু শক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎসে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি ঘোষণা করেছেন, দেশটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে এখনো অদেখা নতুন প্রজন্মের কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েন করা হবে। প্রেস টিভির খবর অনুসারে, এই বিবৃতি এসেছে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, যেখানে ইরান-মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাত চলমান।

আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, এ পর্যন্ত ইরানের সামরিক অভিযানে দেশের প্রকৃত সক্ষমতার মাত্র একটি ছোট অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর মতো পাল্টা হামলায়ও এটি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী দিনগুলোতে প্রতিপক্ষকে প্রতিটি পর্যায়ে ‘কঠিন ও বেদনাদায়ক আঘাত’ সহ্য করতে হবে। নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র ইতিমধ্যে প্রস্তুত, যা এখনো বড় আকারে যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত হয়নি।

এই বিবৃতির পটভূমিতে রয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান, যা ইরানের নেতৃত্ব, মিসাইল সাইট ও আইআরজিসি ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে। ইরানের পাল্টা হামলায় ‘ট্রু প্রমিস’ সিরিজের অংশ হিসেবে মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার হয়েছে। নাঈনি দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন ইরান অনেক বেশি প্রস্তুত। তিনি বর্তমান সংঘাতকে ‘পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

আইআরজিসি-র এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান হয়তো হাইপারসনিক মিসাইল, উন্নত ড্রোন সোয়ার্ম বা অন্যান্য অদেখা প্রযুক্তির কথা বলছেন। ইরানের মিসাইল কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত, এবং এরা দাবি করে যে তাদের অস্ত্রশস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। তবে পশ্চিমা সূত্রগুলো এসব দাবিকে প্রায়ই অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দেয়।

যুদ্ধের এই পর্যায়ে ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ‘নির্ণায়ক প্রতিক্রিয়া’-র হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন, কারণ যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে তেলের দাম, শিপিং রুট ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনা চলছে, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম। প্রাথমিক ফলাফলে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ব্যাপকভাবে এগিয়ে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের এই দল ঐতিহ্যবাহী দলগুলোকে ছাপিয়ে গেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে যুবকদের নেতৃত্বে দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারকে পতন ঘটায়। এই আন্দোলনে ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটে, যা দেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপকে বদলে দেয়। তরুণরা দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অসমতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে পড়ে। এই পটভূমিতে ৫ মার্চের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ২৭৫ আসনের প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচন করে।

প্রাথমিক গণনায় আরএসপি ৪৭টি আসনে এগিয়ে, যা গণনাকৃত ৫৭টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। দলটি কাঠমান্ডু-১, কাঠমান্ডু-৭ এবং কাঠমান্ডু-৮-এ ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী দলগুলো পিছিয়ে—নেপালি কংগ্রেস ৫টিতে, সিপিএন (ইউএমএল) ৩টিতে এবং অন্যান্য দলগুলো সীমিত সাফল্য পেয়েছে। এই ফলাফল তরুণ ভোটারদের প্রভাব দেখায়, যারা দুর্নীতিমুক্ত শাসন চায়।

আরএসপির হেভিওয়েট প্রার্থী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত, কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র। ৩৫ বছর বয়সী এই র‌্যাপার-রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোকে হারান। অভ্যুত্থানের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও তিনি শিক্ষার্থীদের সমর্থন করেন, যা তাকে তরুণদের নেতায় পরিণত করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মেয়র পদ ত্যাগ করে আরএসপিতে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে প্রজেক্ট করা হয়। তিনি কেপি শর্মা ওলির মতো প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলের চেয়ারম্যান রবি লামিছানে, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং টেলিভিশন সাংবাদিক। লাইভ শোতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মুখোমুখি করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০২২ সালে আরএসপি গঠন করেন এবং দুর্নীতি-বিরোধী অ্যাজেন্ডায় ফোকাস করেন। সম্প্রতি সমবায় কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে কারাবাস করলেও অভ্যুত্থানের সময় মুক্তি পান এবং দলে ফিরে আসেন।

আরএসপির উত্থান নেপালের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করে। দলটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায় এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর ব্যর্থতার ফল। তরুণরা, যারা ভোটারদের বড় অংশ, নতুন নেতৃত্ব চায়। নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করে, যা অভ্যুত্থানের প্রভাব দেখায়।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফলে ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভিড় বেড়েছে, প্যানিক বাইং শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রত্যেক যানবাহনের জন্য দৈনিক তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করেছে।

এই নির্দেশনা জারির পেছনে মূল কারণ হলো অযৌক্তিক মজুতদারি রোধ করা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকে অতিরিক্ত তেল কিনে ঘরে মজুত করছেন, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। বিপিসি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই সীমা আরোপ না করলে স্বল্পমেয়াদে স্টক কমে যেতে পারে, যদিও বর্তমান মজুত স্বল্পমেয়াদের জন্য যথেষ্ট।

বিপিসির নির্দেশনা অনুসারে, মোটরসাইকেল চালকরা দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবেন। ব্যক্তিগত গাড়ির (প্রাইভেট কার) জন্য সীমা ১০ লিটার। এসইউভি বা জিপ ধরনের যানবাহন এবং মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল দেওয়া যাবে দৈনিক। পিকআপ বা লোকাল বাস পাবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক সীমা ২০০ থেকে ২২০ লিটার।

এই পদক্ষেপের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পরিস্থিতি অস্থির হওয়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ফ্রেইট খরচ বাড়ছে। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ইত্যাদি। যদিও বিপিসি চেয়ারম্যান সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বর্তমান মজুত ডিজেলের জন্য ১৪-১৫ দিন, পেট্রলের জন্য ১৫-১৭ দিন, অকটেনের জন্য ২৮-৩১ দিনের মতো আছে এবং কয়েকটি চালান পথে রয়েছে, তবু জনগণের আতঙ্ক সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সীমা আরোপ অস্থায়ী ব্যবস্থা। সরকার ইতিমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে—ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানো ইত্যাদি। রমজান ও ঈদের সময় এই সংকট আরও জটিল হতে পারে, কারণ পরিবহন ও কৃষি খাতে ডিজেলের চাহিদা বাড়ে।

রমজানের শেষ দিকে এসে ঢাকার নিউমার্কেটে ঈদ কেনাকাটার ধুম লেগেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে সব মার্কেট। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এবং মার্চ মাসের বেতন হাতে আসায় অনেকেই আগেভাগে শপিং সেরে নিচ্ছেন, যাতে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়ানো যায়। বিক্রেতারা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবার স্থিতিশীল থাকায় ব্যবসা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকার মানুষের কেনাকাটার উৎসাহ এবার লক্ষণীয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ সম্ভাব্য ২০ বা ২১ মার্চে পড়তে পারে, ফলে রমজানের এই সময়টাই কেনাকাটার প্রধান মৌসুম। নিউমার্কেটের গলি-গলিতে কাপড়, জুতা, কসমেটিকস, গয়না—সবকিছুর দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে লম্বা লাইন। অনেক ক্রেতা বলছেন, ঈদের আগের দিনগুলোতে মার্কেটে যানজট ও ভিড় বাড়ে, তাই এখনই সেরে নেওয়া ভালো।

নিউমার্কেটের বিভিন্ন ব্লক—যেমন চন্দ্রিমা, গাউছিয়া, নিউ সুপার মার্কেট—সব জায়গায় একই চিত্র। সকাল থেকে বিকেল অবধি ক্রেতারা ছুটে আসছেন ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে। কেউ বাসে, কেউ রিকশায়, কেউবা প্রাইভেট কারে। একজন ক্রেতা জানালেন, “বেতন পেয়েছি, তাই আজই এসেছি। শেষে এলে দাম বাড়ে, পছন্দের জিনিস পাওয়া যায় না।” আরেকজন গৃহিণী বললেন, “পরিবারের সবার জন্য কাপড় কিনতে হয়, তাই আগেভাগে শুরু করেছি।”

বিক্রেতাদের মুখেও আশার কথা। একজন কাপড়ের দোকানি বলেন, “গত কয়েক বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা কম ছিল। এবার পরিস্থিতি ভালো, মানুষের হাতে টাকা আছে। ইফতারের পর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখছি। অনেক দোকানে ছাড়-অফার দিচ্ছি ক্রেতা টানতে।” আরেকজন জুতার ব্যবসায়ী যোগ করেন, “ঈদের আগের সপ্তাহে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। এখন থেকেই ভালো শুরু হয়েছে।”

এই কেনাকাটার উৎসাহ শুধু নিউমার্কেটেই সীমাবদ্ধ নয়। গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, চকবাজার—রাজধানীর অন্যান্য বাজারেও একই চিত্র। তবে নিউমার্কেটের ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের কারণে এখানে ক্রেতাদের ঢল নামে। অনেকে বলছেন, দাম একটু বেশি হলেও পছন্দের জিনিস এখানেই মেলে। কিছু ক্রেতা অবশ্য দাম নিয়ে অভিযোগ করেছেন—বলছেন, রমজানে দাম বেড়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে কেনাকাটার গতি ইতিবাচক।

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবিটি মুক্তির আগেই যুক্তরাষ্ট্রে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন ড্রামা ঈদ উপলক্ষে ১৯ মার্চ মুক্তি পাবে। ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ছবিটি বক্স অফিসে বড় ধাক্কা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই খবরটি বলিউডের আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রণবীর সিং, যিনি ‘পদ্মাবত’, ‘গল্লি বয়’ এবং ‘৮৩’-এর মতো ছবিতে তার বহুমুখী অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন, এবার একটি উচ্চ-অক্টেন অ্যাকশন-প্যাকড ভূমিকায় ফিরছেন।

‘ধুরন্ধর ২’ হলো প্রথম ছবির সিক্যুয়েল, যেখানে রণবীর একজন গোয়েন্দা এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠে শত্রুদের মোকাবিলা করেন। পরিচালক আদিত্য ধর, যিনি ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর মতো জাতীয়তাবাদী ছবি দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন, এবারও তার সিগনেচার স্টাইলে সাসপেন্স, অ্যাকশন এবং ড্রামার মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। ছবিটির কাস্টে রণবীরের পাশাপাশি থাকছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস এবং জন আব্রাহামের মতো তারকারা, যা ছবির আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি প্রধান ওভারসিজ মার্কেটে এই অগ্রিম বিক্রি বলিউডের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ বা সালমান খানের ‘টাইগার ৩’-এর মতো ছবিগুলো আমেরিকায় অগ্রিম বুকিংয়ে লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করেছে, যা ভারতীয় সিনেমার বিশ্বব্যাপী প্রভাব দেখায়।

‘ধুরন্ধর ২’-এর ক্ষেত্রে, মার্চ ২ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, প্রিমিয়ার দিনের জন্য ২০৯টি শোয়ে ২,০০০-এরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে প্রায় ৩৭,৫০০ ডলার। এছাড়া প্রথম মুক্তি দিন (বৃহস্পতিবার)-এর জন্য আরও ১৭,৫০০ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে। ফলে মোট অগ্রিম আয় দাঁড়িয়েছে ৫৫,০০০ ডলারে। এই সংখ্যা ছবির প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনের সাফল্য প্রমাণ করে, যেখানে ট্রেলার এবং গানগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

বলিউড বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অগ্রিম বিক্রি ছবির বক্স অফিস পারফরম্যান্সের একটি প্রাথমিক সূচক। ঈদের মতো উৎসবের সময় মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো সাধারণত পরিবারিক দর্শকদের আকর্ষণ করে, এবং ‘ধুরন্ধর ২’-এর থিমও তেমনই। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে বলিউডের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্ট্রিমিং সার্ভিসের কল্যাণে সম্ভব হয়েছে।

ছবির প্রযোজকরা জানিয়েছেন, অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো হলিউড-স্টাইলের, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের আকর্ষণ করবে। এছাড়া, ছবিতে জাতীয়তাবাদী উপাদান থাকায় ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এই খবরটি শুধু ছবির সাফল্যের ইঙ্গিতই নয়, বরং বলিউডের গ্লোবাল এক্সপ্যানশনের একটি উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করোনা মহামারীর পরও ভারতীয় সিনেমা ওভারসিজ মার্কেটে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছে। ‘ধুরন্ধর ২’-এর মতো ছবিগুলো এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’-এর জন্য ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে সরকার। এ তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া (মরণোত্তর) অন্যতম।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে তালিকা চূড়ান্ত হয়। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বছরের পুরস্কারে খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষা বিস্তার ও দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর সম্মান দেওয়া হচ্ছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ যাত্রা, বিএনপির প্রতিষ্ঠা-পরিচালনা এবং নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া সংস্কৃতি ক্ষেত্রে জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত (এ কে এম হানিফ) এবং প্রয়াত সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর)-কেও সম্মানিত করা হয়েছে। বশির আহমেদের অবদান বাংলাদেশের সংগীত জগতে অমর হয়ে আছে।

পুরস্কারের অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর) রয়েছেন। চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রফেসর ড. জহুরুল করিম, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান লিনু, সমাজসেবা ও জনসেবায় ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, মাহেরিন চৌধুরী (মরণোত্তর) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর নাম উল্লেখযোগ্য। অন্যান্য ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অবদানের জন্য আরও কয়েকজনকে সম্মানিত করা হয়েছে।

এই পুরস্কার বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির হাতে এ পদক প্রদান করা হয়। এবারের তালিকায় মরণোত্তর পুরস্কারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। খালেদা জিয়ার নাম অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে জাতীয় ঐক্য ও স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তুমুল আলোচনা চীনা-কানাডীয় অধ্যাপক জিয়াং শুইচিনের (Jiang Xueqin) একটি দুই বছর আগের ভিডিও নিয়ে। ২০২৪ সালের মে মাসে রেকর্ড করা ওই লেকচারে তিনি তিনটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফিরে আসা, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়।

প্রথম দুটি ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটেছে, তাই তৃতীয়টি নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে উৎকণ্ঠা ও কৌতূহল। তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘প্রেডিকটিভ হিস্ট্রি’ এখন লাখ লাখ মানুষের নজর কেড়েছে, অনেকে তাঁকে ‘চীনের নস্ট্রাডামাস’ বলে ডাকছেন।

জিয়াং শুইচিন বেইজিংয়ে অবস্থানরত একজন শিক্ষাবিদ। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এই অধ্যাপক দীর্ঘদিন চীনের শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, পাঠ্যক্রম নকশা ও শিক্ষা দর্শন নিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন তাঁর ‘প্রেডিকটিভ হিস্ট্রি’ চ্যানেলের মাধ্যমে।

এখানে তিনি ইতিহাসের প্যাটার্ন, গেম থিয়োরি এবং আইজ্যাক অ্যাসিমভের ‘সাইকো-হিস্ট্রি’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বৈশ্বিক ঘটনার বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেন। চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার এখন ১৫ লাখেরও বেশি, ভিডিওগুলো লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে।

২০২৪ সালের ওই ভাইরাল লেকচারে জিয়াং বলেছিলেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরলে ভূ-রাজনৈতিক চাপ, ইসরায়েল লবি, সৌদি আরবের স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হেজিমনি ধরে রাখার প্রয়োজন তাঁকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে। তিনি যুদ্ধের সম্ভাব্য নামও দিয়েছিলেন—‘অপারেশন ইরানিয়ান ফ্রিডম’। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরবসহ মিত্ররা যৌথভাবে আক্রমণ করবে বলে তিনি আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি ছিল—এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাবে।

কারণ ইরান দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিমেট্রিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে, পারস্য উপসাগরের চোকপয়েন্ট, এনার্জি সাপ্লাই চেইন ও আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করে পশ্চিমা শক্তির দুর্বলতা কাজে লাগাবে।

এখন ২০২৬ সালের মার্চে এসে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়েছে। অপারেশন মিডনাইট হ্যামার, এপিক ফিউরির মতো ঘটনা ঘটেছে। জিয়াংয়ের প্রথম দুটি ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ায় তৃতীয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্লিপগুলো বিদ্যুৎগতিতে ছড়াচ্ছে, কেউ বলছেন ‘অবিশ্বাস্য সঠিক’, কেউ সন্দেহ করছেন এটি কাকতালীয়। কিছু সমালোচক বলছেন, জিয়াংয়ের বিশ্লেষণে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ছোঁয়া আছে, যেমন ফ্রিম্যাসন, জেসুইটদের নিয়ে তাঁর পুরোনো বক্তব্য। তবু তাঁর ঐতিহাসিক প্যাটার্ন ও গেম থিয়োরির ব্যবহার অনেককে আকর্ষণ করছে।

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সাশ্রয়ী রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে ঈদযাত্রা প্রস্তুতি সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঘোষণা করেছেন—কোনো বাস কোম্পানি বা পরিবহন মালিক যদি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি আদায় করে, তাহলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে। এছাড়া তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ঈদ মানেই যাত্রীদের জন্য অস্বস্তি—ভিড়, যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, চাঁদাবাজি। প্রতি বছর এই সময়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নামে অযৌক্তিক দাবি ওঠে, যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। এবার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তা—এসবের কোনো সুযোগ নেই।

মন্ত্রী বলেন, “বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকা বেশি নিলেও আমাদের জানান, আমরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেব। এটার নিয়ন্ত্রণ যে কোনো মূল্যে করা হবে।” সভায় পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঈদযাত্রা যেন নিরাপদ, আরামদায়ক ও স্বস্তির হয় সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন, ওভারলোডিং বন্ধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, টার্মিনালগুলোতে পর্যাপ্ত নজরদারি—সবকিছুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্ট, তাৎক্ষণিক জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যাত্রীদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। অনেকে বলছেন, কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকলে এবারের ঈদযাত্রা আগের চেয়ে অনেক ভালো হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় অনেকে সন্দিহান—কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন কতটা হয়। মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, “এবার আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্প্রতি সচিবালয় থেকে গুলশানের বাসভবনে যাওয়ার পথে গাড়িতে বসে ফোনে কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই ফোনটি সাধারণ মডেল নয়—এটি সিরিন ল্যাবসের তৈরি ‘ফিনি’ (Finney) মডেল।

ব্লকচেইন-ভিত্তিক এই ফোনটি বিশেষভাবে পরিচিত তার অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে এমন ফোন দেখে প্রশ্ন উঠেছে—এর সিকিউরিটি কতটা কার্যকর, এবং ২০২৬ সালে এখনও কি এটি সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প?

বিশ্বের রাষ্ট্রনায়করা সাধারণত অত্যন্ত সুরক্ষিত ডিভাইস ব্যবহার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা কাস্টমাইজড ‘হার্ডেন্ড’ অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস ডিভাইস নেন, রাশিয়া-চীনের নেতারা নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমের ফোন পছন্দ করেন। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পছন্দ অবশ্য অন্যরকম—এটি ক্রিপ্টোকারেন্সি-কেন্দ্রিক সিরিন ফিনি, যা ২০১৮ সালে লঞ্চ হয়েছিল। ফোনটি দেখতে সাধারণ স্মার্টফোনের মতো, কিন্তু এর ভেতর লুকিয়ে আছে একটি ‘কোল্ড স্টোরেজ’ ওয়ালেট এবং বিশেষ সিকিউরিটি ফিচার।

সিরিন ল্যাবস ২০১৭-১৮ সালে ব্লকচেইন যুগের জন্য এই ফোন তৈরি করে। এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসর, ৬ জিবি র‍্যাম, ১২৮ জিবি স্টোরেজসহ ফ্ল্যাগশিপ স্পেকের। কিন্তু আসল আকর্ষণ ‘সেফ স্ক্রিন’—ফোনের উপরের অংশ স্লাইড করে বেরিয়ে আসে একটি ছোট ২ ইঞ্চি ডিসপ্লে। এই স্ক্রিন সম্পূর্ণ আলাদা হার্ডওয়্যারে চলে, মূল অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন। ক্রিপ্টো ট্রানজ্যাকশন করার সময় এখানে দেখানো নম্বর মিলিয়ে কনফার্ম করতে হয়। এতে ফোন হ্যাক হলেও ওয়ালেটের প্রাইভেট কী নিরাপদ থাকে। সিরিন ওএস (Sirin OS) নামের কাস্টম অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন মেশিন লার্নিং দিয়ে ম্যালওয়্যার, নেটওয়ার্ক অ্যাটাক শনাক্ত করে।

এই ফোনের দাম শুরুতে ৯৯৯ ডলার ছিল, পরে ৩৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে কিছু ভার্সনে। এটি মূলত ক্রিপ্টো উৎসাহীদের জন্য তৈরি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দিক থেকে এর ফিচারগুলো প্রাসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যক্তির জন্য যোগাযোগ, ডেটা এবং সম্ভাব্য সেনসিটিভ তথ্যের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিরিন ফিনির এই ‘ডুয়াল-স্ক্রিন’ সিস্টেম ফিজিক্যাল অ্যাটাক বা রিমোট হ্যাকিং থেকে অতিরিক্ত লেয়ার যোগ করে।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—২০২৬ সালে এই ২০১৮-এর ফোন কতটা আধুনিক? সিরিন ল্যাবসের পরবর্তী আপডেট সীমিত, ফোনটি এখনও বাজারে পাওয়া যায় কিন্তু নতুন মডেল আসেনি। আধুনিক হুমকি যেমন কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা অ্যাডভান্সড ম্যালওয়্যারের সামনে এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন। তবু, এর হার্ডওয়্যার-ভিত্তিক সিকিউরিটি অনেক স্ট্যান্ডার্ড ফোনের চেয়ে এগিয়ে।