বাঙালির পাতে ভাত আর পাশে এক টুকরো কাঁচা পেঁয়াজ—এ যেন এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। পেট ভরানো এই খাবারের জুড়ি মেলা ভার, কারণ এটি শুধু স্বাদই বাড়ায় না, বরং ভরসা জোগায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও। কিন্তু সম্প্রতি পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, এই সর্বগুণের অধিকারী কাঁচা পেঁয়াজ সবার জন্য সমান উপকারী নয়। বরং, কারও কারও জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে নীরব বিপদ সংকেত।

শুধু স্বাদ নয়, প্রাচীনকাল থেকেই বাড়ির গৃহস্থালি টোটকায় পেঁয়াজের জুড়ি নেই। ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই সবজি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং সালফিউরিক যৌগের ভাণ্ডার। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। কিন্তু সম্প্রতি শহরের একটি পুষ্টিবিষয়ক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই স্বাস্থ্যগুণের উল্টো পিঠে রয়েছে কিছু সূক্ষ্ম জটিলতা, যা উপেক্ষা করলে মূল্য দিতে হতে পারে হজমের জটিল রোগে।

পুষ্টিবিদ তাসনিম আরা দীপ্ত বলেন, “শহুরে জীবনে বদহজম ও পেটের পীড়া এখন কমন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যায় ভোগা অনেক রোগীই জানেন না, তাদের খাবারের প্লেটের এই ক্ষতিকর উপাদানটি আসলে কাঁচা পেঁয়াজ।” তিনি জানান, বিশেষ করে যাদের পাকস্থলি ও অন্ত্র স্পর্শকাতর, তথা যারা ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ (আইবিএস) বা খিটখিটে অন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য কাঁচা পেঁয়াজ একেবারেই নিষিদ্ধ ফল।

কেন ক্ষতিকর কিছু মানুষের জন্য?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজে ফ্রুকটান নামের এক বিশেষ ধরনের কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা থাকে। এটি এক ধরনের দ্রবণীয় আঁশ। স্বাভাবিক হজমশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য এটি হজম করা কষ্টকর না হলেও, যাদের অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নেই, তাদের জন্য এটি বড় বিপত্তি ডেকে আনে।

যখন এই ফ্রুকটান বড় অন্ত্রে পৌঁছায়, তখন সেখানে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়াগুলো দ্রুত সেটিকে ভাঙতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘ফারমেন্টেশন’ বা গাঁজানো। এই গাঁজানোর ফলে দ্রুত গ্যাসের সৃষ্টি হয়, যা পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, এমনকি তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানারও সৃষ্টি করে। আইবিএস রোগীদের জন্য এই উপসর্গগুলি আরও তীব্র হয়ে দেখা দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • ঝুঁকির মাত্রা: পেঁয়াজে থাকা ফ্রুকটান ‘FODMAP’ নামক এক শ্রেণীর কার্বোহাইড্রেটের অন্তর্ভুক্ত, যা আইবিএস রোগীদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।

  • উপসর্গ: কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেট ফাঁপা, ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক ও ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • শুধু পেঁয়াজ নয়: রসুন, লিক পেঁয়াজ ও মরিচের মতো অন্যান্য উপাদানও এই সমস্যা বাড়াতে পারে।

দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও যাজকদের জন্য সম্মানি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব ধর্মীয় কর্মীদের হাতে সম্মানির চেক তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন তিনি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের জন্য পৃথক পৃথক হারে সম্মানি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “যারা আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চেতনার ধারক ও বাহক, যারা মানবতার কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই সম্মানি তাদের সেবার স্বীকৃতি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য নির্ধারিত সম্মানির পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন। মসজিদের ক্ষেত্রে ইমামরা পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমরা পাবেন ২ হাজার টাকা। একইভাবে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয় মন্দিরের ক্ষেত্রে পুরোহিতদের ৫ হাজার টাকা ও সেবাইতদের ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বৌদ্ধ মন্দিরের বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং বিহার উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের গির্জার ক্ষেত্রে যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, “আমরা সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই কর্মসূচি তারই একটি ধাপ। ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে।” তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনকে এই কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিলেন। সরকারের এই পদক্ষেপ তাদের সেবাকে স্বীকৃতি দেবে এবং সামাজিক মর্যাদা বাড়াবে।

এক নজরে সম্মানির পরিমাণ:

  • মসজিদ:

    • ইমাম: ৫ হাজার টাকা

    • মুয়াজ্জিন: ৩ হাজার টাকা

    • খাদেম: ২ হাজার টাকা

    • মসজিদের জন্য (সম্ভবত উন্নয়ন বা ব্যবস্থাপনা বাবদ): ১০ হাজার টাকা

  • মন্দির:

    • পুরোহিত: ৫ হাজার টাকা

    • সেবাইত: ৩ হাজার টাকা

  • বৌদ্ধ বিহার:

    • বিহার অধ্যক্ষ: ৫ হাজার টাকা

    • বিহার উপাধ্যক্ষ: ৩ হাজার টাকা

  • গির্জা:

    • যাজক: ৫ হাজার টাকা

    • সহকারী যাজক: ৩ হাজার টাকা

এছাড়া অন্যান্য উপাসনালয়ের জন্য আট হাজার টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

মুসলিম ধর্মগুরুরা ছাড়াও হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত বলেন, “এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে মন্দিরের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা কিছুটা আর্থিক স্বচ্ছলতা পাবেন।”

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার বেইলি রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও অন্যান্য শিল্পখাতে (নন-আরএমজি) ক্রমবর্ধমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করতেই এই জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিভিন্ন শিল্প মালিক সমিতির প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কারখানায় দেখা দেওয়া অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রী সভায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি সব শিল্পমালিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিচ্ছি, ঈদের ছুটির আগে প্রতিটি শ্রমিকের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। ঈদের আনন্দে যেন কোনো শ্রমিক পরিবার বঞ্চিত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”

সভায় জানানো হয়, অনেক কারখানায় বকেয়া বেতন ও উৎসব বোনাস না দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। মন্ত্রী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, শ্রমিকরা একটি শিল্পের চালিকাশক্তি। তাদের পাওনা আটকে রাখার অর্থ শিল্পের ভিত নষ্ট করা। তিনি কারখানা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান, আইনানুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়।

বৈঠক থেকে আরও জানানো হয়, শ্রম অসন্তোষ রোধে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকাভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকা দ্রুত সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের (এমপি) কাছে পাঠানো হবে। এরপর সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা চিহ্নিত করে সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেবেন। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে গতি আসবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।

শিল্প পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকেও এ ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যেন কোনো কারখানায় অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক খাতসহ যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন, সেসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

শ্রমিক নেতারা মন্ত্রীর এই নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি কেন্দ্রের নেতা বাবুল আক্তার বলেন, “প্রতি ঈদেই বকেয়া বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মন্ত্রী মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা যদি কার্যকর হয়, তাহলে এবার ঈদে শ্রমিকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।”

অন্যদিকে, তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতারা বলছেন, বেশির ভাগ সদস্যই সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধের চেষ্টা করেন। তবে বৈশ্বিক মন্দা ও ক্রেতাদের চাপের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়ে। তারা আশা করেন, মন্ত্রীর নির্দেশনার পর সবাই আরও সচেষ্ট হবেন।

মাত্র ৫ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করেছেন বগুড়ার মহাস্থানের কৃষক। অথচ রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারে সেই শিম কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ৭০ টাকা। মাত্র একদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৩ গুণ! কোথায়, কীভাবে এত দাম বাড়ে?

বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়ার মহাস্থান হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শীতকালীন সবজি নিয়ে হাজির হয়েছেন এই পাইকারি হাটে। এখানে দরদাম হয় লাফালাফি করে।

কৃষক জানান, তিনি কেজিপ্রতি ৫ টাকা দরে শিম বিক্রি করেছেন। অথচ উৎপাদন খরচই ছিল কেজিতে ৪ টাকার বেশি। ন্যায্যমূল্যের আশায় তিনি হাটে এলেও শেষ হাসি হাসেননি। উল্টো লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেকেই।

হাট থেকে শুরু হয় চড়া দামের পথচলা। কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনে নেন স্থানীয় ফড়িয়া বা আড়তদার। এরপরই শুরু হয় নামে-বেনামে টাকা আদায়ের পালা। হাটের ইজারাদার থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার কমিটির সদস্যরা প্রতিটি পণ্য বিক্রিতে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করেন। এক আড়তদার জানান, হাট থেকে পণ্য তোলার সময় মণপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা হাট কর দিতে হয়। তার ওপর আছে লেবার খরচ, প্যাকিং খরচ।

সন্ধ্যা নাগাদ শিম, বেগুন, কাঁচামরিচ বোঝাই করে একটি ট্রাক ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বগুড়া থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটারের এই পথ পাড়ি দিতে গাড়িটি সময় নেয় প্রায় ১০ ঘণ্টা। শুধু যানজটই নয়, পথে পথে থামতে হয়েছে চাঁদাবাজদের কারণে।

ট্রাকচালক জানান, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর হয়ে ঢাকা ঢোকার মুখে কয়েকটি পয়েন্টে স্থানীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা দিতে হয়েছে। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় তো বটেই, ঢাকার চৌরাস্তা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায়ও গাড়ি থামিয়ে ‘পারমিট ফি’, ‘ডেভেলপমেন্ট চার্জ’ বাবদ হাজার হাজার টাকা আদায় করা হয়।

ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, “বগুড়া থেকে ঢাকা আসতে গাড়ির তেল-গ্যাস খরচ ছাড়াও পথে বিভিন্ন জায়গায় মাফিয়াদের ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিতে হয়। এই টাকা না দিলে গাড়ি এগোতে দেয় না। শেষ পর্যন্ত এই খরচ তো পণ্যের ওপর চাপাতেই হয়।”

শুক্রবার ভোরে ট্রাক থেকে পণ্য নামে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি আড়তে। এখানেই মূলত পাইকারি ক্রেতারা এসে পণ্য কিনে নেন। আড়তদার জানালেন, তারও খরচ আছে। আড়ত ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, নিরাপত্তা খরচ—সব মিলিয়ে পণ্যের ওপর বাড়তি কিছু টাকা ধার্য করতে হয়। এই আড়ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা পণ্য কিনে নিয়ে যান বিভিন্ন খুচরা বাজারে।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেল, সেই শিমের কেজি ৭০ টাকা। কাঁচামরিচ ১২০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদেরও তো দোকানভাড়া, পরিবহন খরচ, বর্জ্য ফেলার খরচ মেটাতে হয়। ভোক্তা অধিকার কর্মীরা বলছেন, এভাবেই কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি হাতবদল হয় পণ্যের। প্রতিটি ধাপে যোগ হয় নতুন নতুন খরচ, যার পুরোটাই শেষ পর্যন্ত বহন করেন সাধারণ ক্রেতা।

পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরানের ইলাম প্রদেশে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা। শনিবার ভোরে আইভান শহরের একটি আবাসিক এলাকায় চালানো ড্রোন হামলায় ছয় মাস বয়সী এক শিশুসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে ।

ইরানের সরকারি গণমাধ্যম ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলার শিকার হয় একটি সাধারণ আবাসিক বাড়ি। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৬ মাসের এক শিশু এবং তার একই পরিবারের পাঁচ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে ।

প্রদেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-পরিচালক তাজউদ্দিন সালেহিয়ান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোররাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “একটি ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে একটি ছয় মাস বয়সী শিশু নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি।” তিনি আরও জানান, হামলায় কমপক্ষে আরও ৩১ জন আহত হয়েছেন এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে ।

বেসামরিক নাগরিকরাই হচ্ছে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত

এই হামলার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো যে, এই সংঘাতে বেসামরিক মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বিচার হামলায় এ পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১৪ হাজার ৯০৪ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং এখনও ১ হাজার ৪৪৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।

শিশু ও নারীদের ওপর এই হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী ১১টি শিশু নিহত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২০০ জনের বেশি ১৮ বছরের নিচের কিশোর-কিশোরী। আহতদের চিত্রও কম ভয়াবহ নয়; দুই বছরের কম বয়সী ৪১টি শিশু আহত হয়েছে এবং ১৮ বছরের নিচে আহত শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। নারীদের ক্ষেত্রেও ক্ষয়ক্ষতি গুরুতর—এ পর্যন্ত ২২০ জন নারী নিহত এবং ২ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন ।

পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সংঘাতের বিস্তার

এই ঘটনা শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননেও ইসরায়েলের বিমান হামলায় শুক্রবার রাতে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৭৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৯৩৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘাতের কারণে ৮ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ।

এদিকে ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় সোহর প্রদেশে দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুই প্রবাসী শ্রমিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে । ইরাকেও মার্কিন ঘাঁটির ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং বাগদাদে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর একটি ঘর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নিহত ও দুই আহতের খবর পাওয়া গেছে ।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ধারণক্ষমতা ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ইসরায়েলের জেনারেল স্টাফের সদর দফতরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ।

ফলের গুণাগুণ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। প্রকৃতির এই দান ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারের অফুরান ভাণ্ডার। তবে সম্প্রতি পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, শুধু ফল খেলেই হবে না, কোন সময় ফল খাচ্ছেন, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভাত-রুটির মতো ভারী খাবারের পরপরই ফল খাওয়ার অভ্যাস মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সাধারণত অনেকেই দুপুরের খাবার বা রাতের ডিনারের পর মিষ্টি জাতীয় খাবারের বিকল্প হিসেবে ফল খান। আবার অনেকে দেরিতে অফিস থেকে ফিরে এক বাটি ফল দিয়ে রাতের খাবার সারেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজধানীর একাধিক পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে, এই অভ্যাসটি একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভরা পেটে ফল খেলে তা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং পাকস্থলীতে গাঁজন সৃষ্টি করতে পারে।

পুষ্টিবিদ শামীম আরা ইয়াসমিন বলেন, “আমাদের শরীরে খাবার হজমের জন্য বিভিন্ন সময় লাগে। ভাত বা রুটির মতো শর্করাজাতীয় খাবার হজম হতে অনেকটা সময় নেয়। এরই মধ্যে যদি আমরা তার ওপরে ফল খাই, তাহলে ফল সহজে হজম হতে পারে না। ফলে পেটে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা এবং বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।”

ভারী খাবারের পর ফলের ভেতরে কী ঘটে?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফল সাধারণত সহজপাচ্য হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা (ফ্রুক্টোজ) ও ফাইবার থাকে। আমরা যখন খালি পেটে ফল খাই, তখন এই পুষ্টি দ্রুত রক্তে মিশে শরীরকে শক্তি যোগায়। কিন্তু যখন পেট ভরা অবস্থায়, বিশেষ করে ভাত বা রুটির মতো জটিল শর্করা ও প্রোটিনের ওপরে ফল খাওয়া হয়, তখন পরিস্থিতি ঘুরে যায়। সেই সময় ফল সরাসরি হজম হতে না পেরে পেটের ভেতর জমে থাকা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশে গাঁজন শুরু করে দেয়। এই গাঁজন প্রক্রিয়ার ফলেই তৈরি হয় বদহজম, পেট ভার লাগা, টক ঢেকুর ও অস্বস্তি।

ফল খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম কী?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকালে খালি পেটে কিংবা দুপুরের খাবারের কিছুক্ষণ আগে। ব্যায়াম বা শরীরচর্চার পর ফল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী, কারণ তখন শরীর সহজেই গ্লুকোজ শোষণ করে নেয়। যারা খাবারের পর ফল খেতেই চান, তাদের অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট বিরতি রেখে তবেই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মনে রাখবেন কিছু জরুরি বিষয়:

  • সময়ের ব্যবধান: ভারী খাবার এবং ফলের মধ্যে অন্তত ১ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।

  • রাতের খাবার: রাতে শোয়ার আগে ফল না খাওয়াই ভালো। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

  • ফলের পরিমাণ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফল খাবেন না। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলই শরীরের জন্য যথেষ্ট।

  • ফলের ধরন: যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কম মিষ্টি ফল বেছে নেওয়া।

পুষ্টিবিদেরা আরও জানান, শুধু সময় নয়, ফল কীভাবে খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলের জুস না খেয়ে আস্ত ফল খাওয়াই স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে ফাইবার অক্ষত থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফল মিশিয়ে খাওয়ার আগেও খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলো একে অপরের সঙ্গে “কম্প্যাটিবল” কি না।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের আগুন জ্বলছে টানা দুই সপ্তাহ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান চলছে ইরানের সামরিক স্থাপনায়। কিন্তু তীব্র এই হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোটা সপ্তাহজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা চালানোর পরও ইরানের ভূখণ্ডে মোবাইল লঞ্চারগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বললেই চলে ।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করে আসছিল, তারা ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করে ফেলেছে । কিন্তু ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ বলছে, গত সপ্তাহেও এই ধ্বংসের হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ, আর এই সপ্তাহেও তা প্রায় একই জায়গায় স্থির রয়েছে।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দুটি মূল্যায়নেও ধ্বংসের পরিমাণ ৬০ শতাংশের কাছাকাছি দেখানো হয়েছে । অর্থাৎ, এক সপ্তাহের হামলায় নতুন করে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। এক্ষেত্রে একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের সামগ্রিক আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।

প্রশ্ন হলো, কেন এমন হচ্ছে? সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মূল কারণ ইরানের ভূগোল এবং তাঁদের কৌশলগত অভিযোজন। ইরান একটি বিশাল দেশ। সেখানে ছোট ছোট মোবাইল লঞ্চার খুঁজে বের করা এবং ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন, বিশেষ করে যখন পুরো আকাশপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য ইরানের কিছু অংশের আকাশসীমা এখনও বিপজ্জনক, ফলে সেখানে নির্বিঘ্নে টহল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না ।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশ্লেষক অঙ্কিত পাণ্ডা ব্লুমবার্গকে বলেন, “মনে হচ্ছে ইরানিরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তাঁরা লঞ্চারগুলোর ব্যবহার ধীর করে দিয়ে সেগুলো সংরক্ষণ করছে এবং শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের ওপর বেশি নির্ভর করছে” ।

সংগৃহীত তথ্য বলছে, এই যুদ্ধে ইরান এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৯টি ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করলেও, শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ২ হাজার ৪০০টিরও বেশি ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ৮০ শতাংশের বেশি কমে গেছে । কিন্তু যুদ্ধ থামছে না। বরং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেয়ি প্রথম বার্তায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং নতুন নতুন ফ্রন্ট খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন । অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাঁরা ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের অনুকূল অবস্থা তৈরি করছেন ।

মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত বালির ওপর দিয়ে যখন ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধের আগুনের হলকা ছুটে চলেছে, তখন তার শিখা এসে লাগছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) আরও ২৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৪ দিনে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৭৫টিতে, যা বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব বিপর্যয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রী। পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের অনেকেই এখন বিমানবন্দর টার্মিনালেই অনিশ্চয়তার কষ্ট গুনছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ২৮টি ফ্লাইট বাতিলের পর আজ শুক্রবার নতুন করে আরও ২৫টি ফ্লাইট স্থগিত করায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যেসব ফ্লাইট পরিচালিত হতো, সেগুলোর বেশিরভাগই এখন আটকে গেছে। ইসরায়েলের সাথে ইরানের সরাসরি সংঘাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিতে এই অঞ্চলের আকাশপথ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিমান চলাচল এলাকায় পরিণত হয়েছে।

বিমানবন্দরে এসে দেখা গেল এক করুণ দৃশ্য। কেউ কেউ ফিরতি টিকিটের জন্য কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে, কেউ বা এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিদের সাথে তর্কে জড়িয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ফ্লাইট বাতিলের খবর আগে থেকে না জানিয়ে শেষ মুহূর্তে তাঁদের বিমানবন্দরে এনে বিপাকে ফেলা হচ্ছে।

দুবাই, দোহা, জেদ্দা, মাস্কাট হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল অনেকের। কিন্তু বিকল্প রুটে ফ্লাইট পরিচালনা খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোও কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারছে না।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার বিমান চলাচল এই সংকটের মুখে পড়েছে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বেবিচকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মধ্যপ্রাচ্যের ওপর দিয়ে যেসব আন্তর্জাতিক রুট রয়েছে, সেগুলো বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে গেলে সময় লাগছে দ্বিগুণ, খরচ বাড়ছে জ্বালানি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে। ফলে এয়ারলাইনসগুলো স্বল্প নোটিশে ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।”

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স যাত্রীদের ওপরও। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ছুটির পর কর্মস্থলে ফেরা আটকে যাওয়ায় তাদের চাকরি নিয়েও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। গত ১৪ দিনে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী এই ফ্লাইট বাতিলের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে শুরু করে সাধারণ ওয়েটিং রুম—সব জায়গায় এখন এক ছবি। উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা আর ক্ষোভের।

আবুধাবি ফেরত এক যাত্রী কামরুল হাসান বলেন, “গত তিন দিন ধরে বিমান ধরতে এসে ফিরে যাচ্ছি। ছুটি শেষ হয়ে গেছে, চাকরি নিয়ে টেনশন হচ্ছে। এয়ারলাইনস বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে জানানো হবে। কিন্তু কবে হবে, কেউ জানে না।”

বিদেশের মাটিতে অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশির জীবনের গল্প শেষ হয়ে গেল নিঃশ্বাসের আগুনে। ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত মালদ্বীপের অদূরে দিগুড়া আইল্যান্ডে এক নির্মাণশ্রমিকের গেস্ট হাউজে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরা।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুই বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার ভোরে রাজধানী মালে থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দিগুড়া দ্বীপের একটি নির্মাণ কোম্পানির কর্মীদের থাকার গেস্ট হাউজে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বেশিরভাগ কর্মী। ধোঁয়া ও আগুনের তীব্রতায় দরজা-জানালা বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় এক ভয়াবহ পরিস্থিতি।

নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। তারা হলেন— তাজ উদ্দিন ইসলাম, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার। এ ঘটনায় গুরুতর আহত জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন নামের আরও দুই বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মালেতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

দগ্ধ অবস্থায় যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সবাই একই নির্মাণ কোম্পানির শ্রমিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে দূতাবাস। নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

দিগুড়া দ্বীপটি রাজধানী মালে থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। সম্প্রতি পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এ দ্বীপে কাজ করতে যাচ্ছেন। কম খরচে সহজে কাজের সুযোগ মেলায় বাংলাদেশিদের কাছে মালদ্বীপ অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

কিন্তু সেখানে কর্মীদের থাকার মান, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মান কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের আবাসস্থলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই বৈদ্যুতিক গোলযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কাটছে না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালদ্বীপে যান, কিন্তু তাঁদের আবাসন নিরাপত্তা নিয়ে তেমন কোনো কঠোর নির্দেশনা বা তদারকি নেই।

নিহত তাজ উদ্দিন ইসলামের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাসিন্দা। মাত্র এক বছর আগে স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও এক সন্তান অসহায় হয়ে পড়েছেন। একই চিত্র অন্যদের ক্ষেত্রেও। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের স্বপ্নভাঙার গল্প।

মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, অনেক নির্মাণ কোম্পানি তাদের কর্মীদের অস্থায়ী ও নিম্নমানের টিনশেড বা কাঠের ঘরে রাখে। সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকে না। ফলে সামান্য দুর্ঘটনাও বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।

ঈদ এলেই বাঙালি নারীর মনে জাগে নতুন শাড়ির স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের অন্যতম প্রধান ঠিকানা চটকদার কারুকাজ করা বেনারসি। রাজধানীর অদূরে শীতলক্ষ্যা নদীবিধৌত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ঘেঁষা ডেমরার পাইকারি বেনারসি হাট এখন যেন এক অন্য নগরী।

রাতের নিস্তব্ধতা ফুঁড়ে মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত চলে এই পাইকারি হাট। ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন, তাই এই হাট এখন জমে উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায়, দরদাম আর তাঁতভাঙা পরিশ্রমের গল্পে।

সাধারণত সারা বছরই বেনারসির বেচাকেনা কম-বেশি চলে, তবে ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার আগে চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে এই বাজারকে ঘিরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয় শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগর, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবনেও।

প্রকৃতি যখন প্রচণ্ড তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস করছে, তখন তাঁতের লুঙ্গিতে বোনা হচ্ছে ঈদের সম্ভার। দিনের বেলা তাঁতের কাজ, আর মধ্যরাতে বাজার—দম ফেলার সময় নেই তাঁতিদের। এই ব্যস্ততাই যেন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় আরাম, কারণ ঈদ এলেই তাঁত ফেরে।

রূপগঞ্জের ডেমরা এলাকায় অবস্থিত এই পাইকারি বেনারসি হাটটি উপমহাদেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় পাইকারি ক্রেতারা ভিড় জমান। আবার এই বাজার থেকেই বেনারসি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশের খুচরা বিপণিবিতানে। রোববার দিবাগত রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ১০-১২ ফুট চওড়া একটি সরু গলির দুপাশে সারি সারি দোকান। প্রতিটি দোকানের সামনে ঝোলানো নানা ডিজাইনের বেনারসি, আর ক্রেতারা টর্চের আলোয় গুণাগুণ যাচাই করে নিচ্ছেন।

একাধিক বিক্রেতা জানান, তাঁতিরা দিনরাত পরিশ্রম করে শাড়ি তৈরি করেন। সেই শাড়ি নিয়ে আসেন এই পাইকারি হাটে। এখান থেকে সারা দেশের পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। প্রতিটি শাড়ির পাইকারি দর শুরু হয়েছে দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত, তবে মান ও কারুকাজ ভেদে এর বেশি দামেও কেনাবেচা হয়।

বিক্রেতা জামাল মিয়া জানান, “এখন তো প্রচণ্ড গরম, তবুও ঈদের অর্ডার মেটাতে তাঁতে লেগে থাকতে হয়। সারাদিন কাজ করে রাতে এনে বসি বাজারে। ঈদ এলে একটু দামও ভালো পাওয়া যায়, তাই এই গরমও লাগে না।”

পাশের দোকানের মালিক হাজি আবুল কালাম বলেন, “এই বাজারটা মূলত পাইকারি, এখানে প্রযোজক থেকে সরাসরি কিনতে পারেন ক্রেতারা। দামও খুচরা বাজারের তুলনায় অনেক কম। তাই ঈদের আগে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভিড় বাড়ে।”

বেনারসি শাড়ির এই পাইকারি বাজারের ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। এক সময় শীতলক্ষ্যা নদীপথে বেনারসি আসত, এখন সড়কপথে সরবরাহ বেড়েছে। তবে পাইকারি হাটের জায়গাটি এখনও সেই পুরোনো আমেজ ধরে রেখেছে। এখানে মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হাট ভোররাত পর্যন্ত চলে।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আলাদা করে কোনো প্যান্ডেল বা আলোর ব্যবস্থা নেই। দোকানের সামনের সরু গলিতেই দাঁড়িয়ে চলছে কেনাবেচা। টর্চের আলোতেই দেখা হচ্ছে শাড়ির ডিজাইন। ভোররাতে বাজার শেষে সবাই ফিরে যায় নিজ নিজ গন্তব্যে।

ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, “ঈদ উপলক্ষে স্ত্রীর জন্য কয়েকটা বেনারসি কিনতে এসেছি। ঢাকার খুচরা বাজারে দাম অনেক বেশি, এখানে পাইকারি দরে কিনতে পারছি, তাই ভালো।” আরেক ক্রেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমি মুন্সিগঞ্জ থেকে এসেছি। প্রতিবার ঈদের আগে এখান থেকে বেনারসি কিনে নিয়ে যাই। এখানে বৈচিত্র্য অনেক বেশি, তাই পছন্দের শাড়ি পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।”