ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আল-মোজতবা খামেনির আনুষ্ঠানিক অধিগ্রহণকে ঐতিহাসিক ‘সম্মান’ জানিয়ে তাৎক্ষণিক সমর্থন জানালো উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘গুন্ডামি’ বলে নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

পশ্চিমা শক্তির এই তৎপরতাকে বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববাসীকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।” পিয়ংইয়ং এটিকে ‘ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছে, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়া উচিত।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান বরাবরই পিয়ংইয়ংয়ের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান যেভাবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও চাপ মোকাবিলা করে নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে, তাকে প্রায়শই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ‘প্রেরণার উৎস’ হিসেবে দেখানো হয়। মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান যে পূর্ববর্তী নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ শক্তিশালী হবে, সে ব্যাপারে পিয়ংইয়ং পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির উত্থানের পর এটিই কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সমর্থন। যদিও চীন ও রাশিয়াও ইরানের প্রতি সমর্থনের আভাস দিয়েছে, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার এই তাৎক্ষণিক ও স্পষ্ট সমর্থন দুই দেশের মধ্যে গভীর সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দেয়।

ঠিক এই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক সক্ষমতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী ঘটিয়েছে। কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম নৌ-ধ্বংসকারী জাহাজ ‘চো হিওন’-এ উপস্থিত থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা তদারকি করেছেন। এটি ছিল এই ডেস্ট্রয়ার থেকে দ্বিতীয় দফার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে একচুলও সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই আশ্বাস দেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার নারী এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই কার্ড গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ডকে নারীমুক্তির সনদ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের যদি মূল্যায়ন করা না হয়, ক্ষমতায়ন করা না হয়, তবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করতেই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিন, আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আজ আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আবেগের দিন, বিএনপি ও বর্তমান সরকারের জন্য এই দিনটি ঐতিহাসিক। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেছি, আজ তার বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র এক মাসের কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। তিনি আশ্বস্ত করেন, সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

‘সরকার জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না,’ স্পষ্ট ভাষায় বলেন তিনি। তবে বাস্তবতার নিরিখে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হতে পারে, তাই সবাইকে ধৈর্য রাখার আহ্বান জানাই।’

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন সরকারের অঙ্গীকারের প্রতি অনমনীয় অবস্থান তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে তেমন আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য বিড়ম্বনার কথাও জনগণকে জানিয়ে দিয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আসতে পারবেন তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কড়াইল বস্তির বাসিন্দা নাছিমা বেগম বলেন, ‘আমার নামে একটা সরকারি কার্ড হবে, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। ওই কার্ড দেখিয়ে আমি ডাক্তার দেখাতে পারব, ছেলেমেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে সহজ হবে।’

নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই চালু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প। মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি এই কার্ডকে নারীর ক্ষমতায়নের ‘অস্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করে দুর্নীতিবাজদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ঈদগাহ আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। জেলার মধ্যে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৯০ জন নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেন মির্জা ফখরুল।

এই কার্ড বিতরণের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক জনপদে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণের বার্তাই দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে নারীদের ক্ষমতায়ন করা। তিনি বলেন, ‘বাড়ির প্রধান নারীরাই এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তিনি এই কার্ড কী কাজে ব্যবহার করবেন সেটা পরের ব্যাপার, কিন্তু তার হাতে একটি কার্ড থাকবে।’

তিনি এই কার্ডকে ‘অস্ত্র’ বলেও আখ্যা দেন। তাঁর ভাষ্যে, ‘এটা হচ্ছে সোজা হিসাব—নারীদের ক্ষমতায়ন করা, তার হাতে একটি অস্ত্র তুলে দেওয়া, যাতে তিনি বলতে পারেন আমার শক্তি আছে, আমার ফ্যামিলি কার্ড আছে।’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন।

নারীদের হাতে এই ‘অস্ত্র’ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেদিকে কড়া নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি, কাজ করব। যদি দেখা যায় কেউ কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছে, তার কোনো ক্ষমা নেই। আমরা কোনোভাবেই ক্ষমা করব না—এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’

এই হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দেন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি যেন প্রকৃত হিতকারীদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করেন, সেই নির্দেশনাও দেন।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সরকার শুধু একটি পরিচয়পত্র দিচ্ছে না, বরং নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিতে চাইছে। গ্রামীণ সমাজে নারীরা এখনও ঘরের বাইরে অনেক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে থাকেন। ফ্যামিলি কার্ড তাদের সেই জায়গাটুকু দেবে বলে মনে করছেন অনেকে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা এতদিন শুধু স্বামীর নামে পরিচিত ছিলাম। এখন নিজের হাতে একটি সরকারি কার্ড থাকবে। এটা ছোট কথা না। এই কার্ডের জোরে আমরা ব্যাংক থেকে ঋণও নিতে পারব বলে শুনেছি।’

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধের আগুন জ্বালানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এবার ঘুমের রাজা উপাধি দিল দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা। জাতীয় ঘুম দিবস উপলক্ষে ট্রাম্পের বিভিন্ন ‘নিদ্রাভঙ্গি’র ছবি ও ভিডিও সামনে এনে তাঁকে ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ (কমান্ডার ইন চিফ-এর আদলে) আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ডেমোক্রেটিক পার্টির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে এই ট্রোলিং শুরু হলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় ।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও জনসমক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঝিমিয়ে পড়ার ভিডিও নতুন কিছু নয়। তবে ‘ন্যাশনাল ন্যাপিং ডে’ উপলক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সেই পুরনো ছবিগুলোই নতুন করে সামনে এনেছেন। গত নভেম্বরে ওভাল অফিসে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলি লিলি এবং নভো নরডিস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করে ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত একটি অ্যাকাউন্ট লেখে, ‘আজ জাতীয় ঘুম দিবস’ । ছবিতে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ সেই বৈঠকে চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে রয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট।

এর আগেও ফেব্রুয়ারিতে ‘বোর্ড অব পিস’-এর বৈঠকে ট্রাম্পকে চেয়ারে নড়বড় করতে দেখা গিয়েছিল। সেবার তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকের একপর্যায়ে বারবার চোখ বুজে আসছিল তাঁর। বিশ্বনেতাদের বক্তৃতার মাঝে ট্রাম্পের ‘নিদ্রাভঙ্গি’র ভিডিও ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে । এর আগে ডিসেম্বরের ক্যাবিনেট বৈঠকেও একই অবস্থা দেখা গিয়েছিল। প্রায় আড়াই ঘণ্টার সেই বৈঠকে ট্রাম্পের চোখ বুজে থাকার ছবি নিয়ে তখনও ব্যাপক ট্রোলিং হয়েছিল ।

এই সমালোচনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ট্রাম্পের অনুসারী ও রিপাবলিকান নেতারাও। হাউস স্পিকার মাইক জনসন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে এসে দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাঁর দেখা সবচেয়ে কর্মঠ প্রেসিডেন্ট। মিয়ামিতে এক সমাবেশে জনসন বলেন, ট্রাম্প দিনে খুব কম ঘুমান বলেই তিনি এত সফল। তিনি জানান, রাত ২টায় বা ভোর ৭টায় প্রায়ই ট্রাম্পের ফোন আসে দাপ্তরিক কাজের খোঁজ নিতে। জনসনের দাবি, ট্রাম্প দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান ।

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা যখন ভ্রমণে যাই, স্বাভাবিক মানুষের মতো ঘুমানোর কথা থাকলেও তিনি ঘুমান না। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিনি ব্যস্ত থাকেন এবং আমরাও ততক্ষণ অপেক্ষা করি’ ।

সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প নিজেও মুখ খুলেছেন। তিনি অবশ্য কখনোই ‘ঘুমিয়ে পড়ার’ কথা স্বীকার করেননি। ক্যাবিনেট বৈঠকের ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলছে আমি চোখ বুজেছিলাম। দেখুন, বৈঠকটা ছিল বিরক্তিকর। আমি ঘুমাইনি, শুধু চোখ বুজেছিলাম। কারণ আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসতে চাইছিলাম’ ।

অন্য এক বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘরে ২৮ জন বসেছিল, প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বলার ছিল। আমি তাদের বক্তব্য শুনতে শুনতে মনে মনে ভাবছিলাম, আমি কখন এখান থেকে যেতে পারব’ ।

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির চাবিকাঠি যাঁর হাতে, তাঁর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ট্রাম্পের ঘুম নিয়ে এই ট্রোলিং যেন এক অর্থে ফিল্টার বনাম বাস্তবতার লড়াই।

ডেমোক্র্যাটরা যেখানে তাঁকে ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বলে ট্রোল করছেন, সেখানে রিপাবলিকানরা তাঁকে ‘সুপারম্যান’ বা ‘অতিমানব’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন । ডেমোক্র্যাটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট জেসিকা টারলভ অবশ্য মজা করে বলেছেন, ‘আমি যদি চার মাসে মাত্র ২০ দিন কাজ করতাম, তাহলে আমিও ক্লান্ত হতাম না’ ।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিকে ‘ফাঁপা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দেয়ার আগে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ‘আশুরার চেতনায়’ উদ্বুদ্ধ ইরানি জাতি কখনো ফাঁপা ধমকে ভয় পায় না ।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় সতর্ক করে দেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেয়, তাহলে তাদের ওপর আগের যেকোনো আক্রমণের চেয়ে ‘বিশ গুণ কঠোর’ হামলা চালানো হবে। তিনি এমন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথাও বলেন, যা ইরানের পক্ষে ‘পুনর্গঠন করা কার্যত অসম্ভব’ করে তুলবে ।

এর জবাব দিতে মোটেও দেরি করেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আলি লারিজানি। এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ইরান আপনার ফাঁপা হুমকিতে ভীত নয়। আপনার চেয়ে যারা অনেক বড় তারাও ইরান জাতিকে মুছে ফেলতে পারেনি। নিজের খেয়াল রাখুন, পাছে আপনিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যান!” । এই বার্তায় ইরানি জনগণের ঐতিহাসিক ‘আশুরার চেতনার’ উল্লেখ করে লারিজানি বোঝাতে চেয়েছেন, আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের সংস্কৃতি ইরানের রক্তে মিশে আছে।

এই বাগ্যুদ্ধ কেবল অলঙ্কারিক নয়; এর পেছনে রয়েছে উত্তাল সাম্প্রতিক ইতিহাস। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তার পুত্র মোজতবা খামেনেয়ি । এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌবহর ও সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে দাবি করছে ।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে । ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইতিমধ্যেই এই প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে এবং যতদিন সংঘাত চলবে, ততদিন ‘অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও’ মার্কিন ও ইসরায়েলি মিত্রদের কাছে যেতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে । এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওঠে গিয়েছিল, যা এখন কিছুটা কমলেও সংকট কাটেনি ।

ভার্চুয়াল জগৎ এখন আর শুধু খবর বা বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি হয়ে উঠেছে এক মায়াবী আয়না, যেখানে কেউ নিজেকে দেখে, আর কেউ দেখায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই নিয়ন আলোর জগতে গ্ল্যামার আর কৃত্রিম সৌন্দর্যের আড়ালে নিজের আসল রূপ লুকিয়ে রাখা এখন প্রায় অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি এক চীনা ইনফ্লুয়েন্সারের ক্ষেত্রে এই ‘ফিল্টার’ বিড়ম্বনা এমন এক নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে, যা সার্বক্ষণিক অনলাইনে থাকা অভ্যস্ত এক প্রজন্মকেও ভাবিয়ে তুলবে। প্রযুক্তির সাময়িক ত্রুটিতে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিনি হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ অনুসারী।

ঘটনাটি ঘটেছে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডুইন (টিকটকের চীনা সংস্করণ)-এর এক লাইভ স্ট্রিমিং সেশনে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী তার বসার ঘরে বেগুনি রঙের আরামদায়ক পোশাকে বসে গান গেয়ে অনুসারীদের বিনোদন দিচ্ছিলেন।

তার গায়ের রং ফর্সা, ত্বক ছিল পুতুলের মতো মসৃণ—যা আধুনিক বিউটি ফিল্টারের পরিচিত ছাপ। হঠাৎ করেই প্রযুক্তিগত এক গোলমালে কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার ব্যবহৃত ‘বিউটি ফিল্টার’টি সরে যায়। আর তখনই পর্দায় ধরা পড়ে সেই চিরচেনি, বাস্তব চেহারা।

মুহূর্তের মধ্যে রূপ বদলে যায়। ফিল্টার-নির্ভর প্লাস্টিক সৌন্দর্যের জায়গায় ফিরে আসে এক পরিণত ও স্বাভাবিক ত্বকের অধিকারী নারীর মুখ। যদিও কয়েক সেকেন্ড পরেই প্রযুক্তি আবার তার খেল দেখায় এবং ফিল্টার ফিরে আসে, কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সেই কয়েক সেকেন্ডের সেই বাস্তব চিত্র ধারণ করে ফেলেন দর্শকরা। সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে ডুইন ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে। খবর প্রকাশের আগেই এই ভিডিওটি দেখেছে কয়েক কোটি মানুষ।

ফিল্টার ফেরত এলেও, ভক্তদের বিশ্বাস আর আস্থা আর ফেরেনি। খবরে প্রকাশ, এই ঘটনার পর থেকেই একে একে গ্রুপ ছাড়তে থাকেন অনুসারীরা। হিসাব কষে দেখা গেছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তার অনুসারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার, যা প্রায় দেড় লাখের কাছাকাছি। অনেকে এটিকে ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বড় ‘আনফলো’ অভিযান হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

সত্যের মুখোমুখি হয়ে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া

অনুসারী কমলেও এই ঘটনায় একটি বড় অংশ নেটিজেন কিন্তু ওই নারীর প্রকৃত চেহারার পক্ষেই কথা বলেছেন। একজন লিখেছেন, “ওনার আসল চেহারা অনেক বেশি মানবিক এবং সুন্দর। ফিল্টার করা প্লাস্টিকের পুতুল দেখে যারা মুগ্ধ হয়েছিলেন, তারাই এখন হতাশ হয়েছেন।” আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, “মানুষ কীভাবে এতদিন ওই কৃত্রিম, অবাস্তব চেহারাকে আসল বলে মেনে নিয়েছিল?”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা ডিজিটাল সৌন্দর্যের মিথ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একটি বড় আঘাত। শুধু চীনে নয়, সারা বিশ্বেই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা ফিল্টারের মাধ্যমে নিজেদের একটি অবাস্তব রূপ তৈরি করেন, যা দেখে সাধারণ মানুষ হীনম্মন্যতায় ভোগেন। এই প্রতারণার পর্দা সরে গেলে যেমন অনুসারীরা হতাশ হন, তেমনি ইনফ্লুয়েন্সারের ভাবমূর্তিও চুরমার হয়ে যায়।

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার এই কার্ড পাবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীকে পরিবারের প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সরাসরি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “পরিবারে নারীকে প্রধান করে কার্ড দেওয়ার এই পদক্ষেপ নারীর অধিকার, মর্যাদা ও আর্থিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার একটি যুগান্তকারী ধাপ। এতে পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা শক্তিশালী হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

পাইলট প্রকল্পে প্রথমে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) নামক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দারিদ্র্য মূল্যায়ন করে অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। অন্যান্য সরকারি সুবিধা বা পেনশনপ্রাপ্তদের বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবার নির্বাচিত হয়েছে। এই কর্মসূচি ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, কার্ডধারী নারীরা প্রতি মাসে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন, যা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছাবে। এ অর্থ খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি বিস্তৃত হবে এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একপর্যায়ে দেশের সব পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসতে পারে।

এ উদ্যোগ নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক নারীপ্রধান পরিবারে বিধবা, ত্যাগকৃত বা একক মায়েরা সংসার চালান, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সুবিধা পাওয়ায় তাদের অংশগ্রহণ কম। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এই বৈষম্য দূর করে নারীকে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে। এতে নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং পরিবারের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপ বিএনপি-র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ। দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কঠোর তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কার্ড বিতরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হবে এবং কোনো টাকা দাবির সুযোগ থাকবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে। একই সভায় তিনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল ওরফে ফয়সাল) ও সহযোগী আলমগীর হোসেন গত শনিবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়, তবে তদন্তে হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে। হত্যাকাণ্ডটি গত ডিসেম্বরে ঢাকার পুরানা পল্টনে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যেখানে মোটরসাইকেল আরোহী শুটার হাদিকে গুলি করে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়, বিশেষ করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধসহ কর্মসূচি পালিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হবে। এদিকে, সভায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, “পর্যটন বললেই কক্সবাজারের নাম আসে। এই সৈকতকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে অবৈধ দখল, অবৈধ স্থাপনা ও অরাজকতা দূর করা জরুরি।” সরকার ইতিমধ্যে সৈকতকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ পান।

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অবৈধ দখল, টর্চার সেল, অবৈধ ব্যবসা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এর সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মন্ত্রীর এই ঘোষণা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সোমবার সাফ জানিয়েছেন, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং দাম এক ফোঁটাও বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সাম্প্রতিক কয়েকদিনের সরবরাহ ঘাটতির পেছনে আতঙ্কিত ভোক্তাদের অতিরিক্ত কেনাকাটাকেই দায়ী করেছেন মন্ত্রী, যা সাময়িক চাপ সৃষ্টি করেছে।

সোমবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভোজ্যতেল আমদানিকারক, পরিশোধনকারী কোম্পানি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সরবরাহ চেইন, মজুতের পরিমাণ, আমদানি পরিস্থিতি এবং বাজারের বর্তমান চিত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, দেশে সয়াবিন, পাম এবং অন্যান্য ভোজ্যতেলের মজুত এখন স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকায় আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “কয়েকদিন ধরে বাজারে যে অস্থিরতা দেখা গেছে, তার মূল কারণ আতঙ্ক। অনেকে অতিরিক্ত কিনে মজুত করেছেন, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে কোনো সংকট নেই।” তিনি ভোক্তাদের আহ্বান জানান, আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক কেনাকাটা করতে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বাজার মনিটরিং জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫-৭ টাকা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বোতলজাত তেলের সরবরাহও কিছুটা কম ছিল। কিন্তু মন্ত্রী এসবকে সাময়িক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে দাম না বাড়িয়ে সরবরাহ বাড়াবেন।

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। এ সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি করে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মন্ত্রী বলেন, সরকার এবার কোনো ছাড় দেবে না। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদারকি চালানো হবে।

**মূল তথ্যসমূহ:**
– **মন্ত্রীর বক্তব্য:** ভোজ্যতেলের মজুত পর্যাপ্ত, দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না।
– **বৈঠকের তারিখ:** সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
– **সংকটের কারণ:** আতঙ্কিত ভোক্তাদের অতিরিক্ত কেনাকাটা, সাময়িক স্থানীয় চাপ।
– **সরকারি পদক্ষেপ:** বাজার মনিটরিং জোরদার, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
– **আশ্বাস:** আগামী কয়েক দিনে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।
– **বাজারের বাস্তবতা:** খোলা তেলের দাম সামান্য বেড়েছে, বোতলজাতে সরবরাহ কম ছিল।

এই আশ্বাস ভোক্তাদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, বিশেষ করে রমজান ও ঈদের মৌসুমে যখন নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। তবে সরকারের কথা যাতে বাস্তবে রূপ নেয়, তার জন্য কঠোর তদারকি এবং ব্যবসায়ী-ভোক্তা উভয়ের সহযোগিতা জরুরি। যদি আতঙ্কের বদলে যৌক্তিক কেনাকাটা হয় এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় থাকে, তাহলে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল থাকবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

(শব্দ সংখ্যা: প্রায় ৫৫০)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুমকি সত্ত্বেও ইরানের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করেছে। গতকাল রোববার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া ইরানের নির্বাচিত যেকোনো নেতা ‘বেশি দিন টিকবে না’।

এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইরানের কট্টরপন্থী শক্তির দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, যা ইরান-বিরোধী যুদ্ধের সূচনা করে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে, কিন্তু বিশেষজ্ঞ পর্ষদ দ্রুত উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, পর্ষদের সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।

ট্রাম্পের হুমকি এসেছে নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচিত নেতা বেশি দিন টিকবে না।” এর আগে তিনি মোজতবাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘লাইটওয়েট’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এমনকি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা দাবি করেছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে অনেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে ‘শত্রুর অহংকার’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

মোজতবা খামেনি, ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে কাজ করেছেন। তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রাখেন এবং কট্টর মতাদর্শের প্রতি অটল অঙ্গীকারের জন্য পরিচিত। বাবার শাসনকালে তিনি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পর রেভল্যুশনারি গার্ডসহ বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনী তাঁর প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। তবে কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এটিকে ‘বংশানুক্রমিক শাসন’ বলে সমালোচনা করছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই নিয়োগ যুদ্ধের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মোজতবার অধীনে কট্টর নীতি অব্যাহত থাকলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। ইসরায়েলও নতুন নেতাকে ‘লক্ষ্যবস্তু’ বলে হুমকি দিয়েছে।